ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব রশিদ হাবিবি সেঞ্চুরি গ্রুপ অব কোম্পানির এমডি নিযুক্ত হয়ে কোম্পানিকে দুর্নীতিমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যস্ত করেন। তিনি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কোম্পানিতে অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করার আদেশ দেন। কোম্পানির স্বার্থে সবাই। পদত্যাগ করলেও একজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানায়। অধিকন্তু তার অধিকারে রক্ষিত সরকারি সম্পত্তি ফেরত দিতে বললে তিনি রাগান্বিত হন এবং এমডি এর আদেশ প্রত্যাখ্যান করেন। উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে খারাপ হতে থাকে। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে কোম্পানির সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়। এবং কোম্পানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

  1. ক)

    হযরত আলি (রা)-এর পিতার নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    মুয়াবিয়া (রা)-কে' আরব বিশ্বের প্রথম রাজা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ খুলাফায়ে রাশেদিনের শাসনামলে সংঘটিত কোন যুদ্ধের প্রতি ইলিত প্রদান করছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের মতো উপ্ত যুদ্ধ ইসলামের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা। ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি রচনা করে'-বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হযরত আলি (রা)-এর পিতার নাম আবু তালিব।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হযরত মুয়াবিয়া (রা) খেলাফতের গণতান্ত্রিক ও পরামর্শভিত্তিক (শুরা) ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের সূচনা করেন। তিনি জীবিত অবস্থায় নিজ পুত্র ইয়াজিদকে পরবর্তী খলিফা বা শাসক হিসেবে মনোনীত করেন এবং বলপ্রয়োগ ও কূটনীতির মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করেন। শাসকের এই রাজকীয় আচরণ ও রাজতন্ত্র প্রবর্তনের জন্যই তাঁকে 'আরব বিশ্বের প্রথম রাজা' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষটি খুলাফায়ে রাশেদিনের চতুর্থ খলিফা হযরত আলি (রা) এবং সিরিয়ার গভর্নর মুয়াবিয়া (রা)-এর মধ্যে সংঘটিত ঐতিহাসিক 'সিফফিনের যুদ্ধ' (৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দ)-কে ইঙ্গিত করছে।

    খলিফা হযরত আলি (রা) খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রদেশের অসৎ ও বিতর্কিত গভর্নরদের অপসারণের নির্দেশ দেন। কিন্তু সিরিয়ার গভর্নর হযরত মুয়াবিয়া (রা) পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানান এবং হযরত উসমান (রা)-এর হত্যার বিচারের দাবিতে আলির আনুগত্য অস্বীকার করেন। এর ফলে উভয়ের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে এবং ৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সিফফিন প্রান্তরে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

    উদ্দীপকের জনাব রশিদ হাবিবি দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করতে বললে একজন কর্মকর্তা তা অস্বীকার করে এবং সরকারি সম্পত্তি ফেরত দিতে না চেয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এই ঘটনাটি সিফফিনের যুদ্ধের পটভূমির সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সিফফিনের যুদ্ধ ইসলামের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছিল—উক্তিটি যথার্থ।

    খুলাফায়ে রাশেদিনের শাসনব্যবস্থা ছিল শুরা বা পারস্পরিক পরামর্শভিত্তিক এবং গণতান্ত্রিক। সিফফিনের যুদ্ধে যখন মুয়াবিয়া (রা)-এর বাহিনী পরাজয়ের মুখে পড়ে, তখন তারা বর্শার অগ্রভাগে পবিত্র কুরআন বেঁধে যুদ্ধবিরতি ও সালিশির (দুমাতুল জান্দাল) প্রস্তাব দেয়। সরল বিশ্বাসে হযরত আলি (রা) এ প্রস্তাব মেনে নেন, যা ছিল কূটকৌশলপূর্ণ ফাঁদ। সালিশির প্রহসনের মাধ্যমে হযরত আলি (রা)-এর বৈধ কর্তৃত্ব খর্ব হয় এবং মুয়াবিয়া (রা) নিজেকে স্বাধীন শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পান।

    এই যুদ্ধের ফলেই ইসলামি ঐক্যে ফাটল ধরে এবং 'খারেজি' নামক চরমপন্থী দলের জন্ম হয়, যার পরিণতিতে হযরত আলি (রা) শাহাদাতবরণ করেন। পরবর্তীতে হযরত হাসান (রা)-এর সাথে চুক্তির মাধ্যমে মুয়াবিয়া (রা) ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং শুরাভিত্তিক খেলাফতের অবসান ঘটিয়ে উমাইয়া বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। অতএব, উদ্দীপকে কোম্পানির ক্ষতির মতোই সিফফিনের যুদ্ধ ইসলামের খেলাফত ব্যবস্থার মূল চেতনা বিনষ্ট করে রাজতন্ত্রের ভিত্তি রচনা করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন