জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

শিক্ষক একটি বৈচিত্র্যময় দর্শন কৌশলবিশিষ্ট তৃণভোজী প্রাণী এবং শিরা হৃৎপিন্ড বিশিষ্ট জলজ তৃণভোজী প্রাণী নিয়ে আলোচনা করলেন।

  1. ক)

    এলিট্রা কী?

    (1)
  2. খ)

    মৌমাছির রূপান্তরকে সম্পূর্ণ রূপান্তর বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উল্লিখিত প্রথম প্রাণীটির দর্শন এককের গঠন বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে দ্বিতীয় প্রাণীটি সংরক্ষণ জরুরি- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ঘাসফড়িংয়ের মেসোথোরাসিক বা অগ্র ডানাজোড়া পুরু, শক্ত, চামড়ার মতো এবং পেছনের ডানাকে ঢেকে রাখে, একে এলিট্রা বা টেগমিনা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মৌমাছির জীবনচক্রে ডিম ফুটে যে অপূর্ণাঙ্গ দশা বের হয় তা পূর্ণাঙ্গ মৌমাছি থেকে গঠনগতভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় পৌঁছাতে পরিস্ফুটনের সুস্পষ্ট চারটি পর্যায় অতিক্রম করে; যথা: ডিম → লার্ভা (কীড়া) → পিউপা (মূককীট) → পূর্ণাঙ্গ মৌমাছি (ইমাগো)। লার্ভা ও পিউপা দশার মাধ্যমে এমন আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করায় মৌমাছির রূপান্তরকে সম্পূর্ণ রূপান্তর (Holometabolous metamorphosis) বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং এবং এর দর্শন একক হলো ওমাটিডিয়াম (Ommatidium)। প্রতিটি পুঞ্জাক্ষি প্রায় ২,০০০টি ওমাটিডিয়াম নিয়ে গঠিত। একটি আদর্শ ওমাটিডিয়াম নিম্নলিখিত অংশগুলো নিয়ে গঠিত:
    ১. কর্নিয়া (Cornea): এটি ওমাটিডিয়ামের সবচেয়ে বাইরের স্বচ্ছ, উত্তল ও কিউটিকল নির্মিত অংশ যা লেন্সের মতো কাজ করে আলো প্রতিসরণ করে।
    ২. কর্নিয়াজেন কোষ (Corneagen cells): কর্নিয়ার ঠিক নিচে অবস্থিত একজোড়া পাশাপাশি কোষ, যা কর্নিয়া ক্ষরণ ও প্রতিস্থাপন করে।
    ৩. ক্রিস্টালাইন কোণ কোষ (Crystalline cone cells): কর্নিয়াজেন কোষের নিচে অবস্থিত চারটি দীর্ঘাকার কোষ, যা কেন্দ্রে ক্রিস্টালাইন কোণ তৈরি করে।
    ৪. ক্রিস্টালাইন কোণ (Crystalline cone): কোণ কোষগুলো দিয়ে পরিবেষ্টিত একটি স্বচ্ছ, চকচকে ও প্রতিসরণশীল মোচাকৃতি অঙ্গাণু, যা আলোকরশ্মি রেটিনুলার কোষে কেন্দ্রীভূত করে।
    ৫. আইরিস পিগমেন্ট আবরণী (Iris pigment sheath): কর্নিয়াজেন ও কোণ কোষের চারপাশ ঘিরে থাকা রঞ্জক পদার্থযুক্ত পর্দা, যা আলোর তীব্রতা অনুযায়ী ওমাটিডিয়ামগুলোকে পৃথক রাখে।
    ৬. রেটিনুলার কোষ (Retinular cells): কোণের নিচে অবস্থিত ৭-৮টি দীর্ঘায়িত কোষ, যা আলোক সংবেদী কোষ হিসেবে কাজ করে।
    ৭. র‍্যাবডোম (Rhabdome): রেটিনুলার কোষগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত চকচকে অনুপ্রস্থ রেখাযুক্ত আলোক সংবেদী রড-সদৃশ অংশ, যা আলো গ্রহণ করে অনুভূতি তৈরি করে।
    ৮. রেটিনাল পিগমেন্ট আবরণী (Retinal pigment sheath): রেটিনুলার কোষগুলোকে ঘিরে থাকা রঞ্জক স্তর, যা পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়াম থেকে আলো প্রবেশে বাধা দেয়।
    ৯. ভিত্তি পর্দা (Basement membrane): ওমাটিডিয়ামকে ধারণকারী পাতলা ভিত্তিঝিল্লি।
    ১০. স্নায়ুতন্তু (Nerve fibres): রেটিনুলার কোষ থেকে বের হওয়া সংবেদী স্নায়ুতন্তু, যা অপটিক স্নায়ুর সাথে যুক্ত হয়ে মস্তিষ্কে উদ্দীপনা পাঠায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শিরা হৃৎপিণ্ডবিশিষ্ট জলজ তৃণভোজী প্রাণীটি হলো রুই মাছ (Labeo rohita)। বাংলাদেশের স্বাদু পানির মৎস্য সম্পদের মধ্যে রুই মাছ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরিবেশ ও অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় এর সংরক্ষণ অতীব জরুরি। নিম্নে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. প্রোটিনের প্রধান উৎস: রুই মাছ আমাদের প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় উৎস, যা পুষ্টি নিরাপত্তা বজায় রাখতে অত্যন্ত অপরিহার্য।
    ২. অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও কর্মসংস্থান: রুই মাছের পোনা উৎপাদন, চাষ, আহরণ ও বিপণনের সাথে দেশের বহু মানুষের জীবিকা ও গ্রামীণ অর্থনীতি সরাসরি জড়িত।
    ৩. বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য: রুই মাছ মূলত শৈবাল, নিমজ্জিত উদ্ভিদ ও জৈব ধ্বংসাবশেষ ভক্ষণ করে জলজ বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক ও খাদক স্তরের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে এবং জলাশয়ের পরিবেশ স্বাস্থ্যকর রাখে।
    ৪. প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র বিনষ্টের ঝুঁকি: অতিরিক্ত মাছ শিকার, নদীদূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাঁধ নির্মাণের ফলে হালদা নদীসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রগুলো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। রুই মাছের প্রাকৃতিক জাত (Natural gene pool) অক্ষুণ্ণ রাখা প্রয়োজন, কারণ কৃত্রিম প্রজনন ও ইনব্রিডিংয়ের কারণে চাষের মাছে উৎপাদনশীলতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।
    ৫. অস্তিত্ব সংরক্ষণ: প্রাকৃতিক পরিবেশে অনিয়ন্ত্রিত পোনা ও মা মাছ শিকারের ফলে রুই মাছের মুক্ত জলাশয়ের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
    অতএব, আমিষের চাহিদা পূরণ, টেকসই মৎস্য উৎপাদন এবং জলজ জীববৈচিত্র্য ও নদী বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ রাখতে দ্বিতীয় প্রাণীটি অর্থাৎ রুই মাছ সংরক্ষণ একান্ত জরুরি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন