বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
দরিদ্র বাবা-মা তাদের প্রথম সন্তানের নাম রাখেন সাজাহান। তাদের স্বপ্ন সাজাহান অনেক বড় হবে। কিন্তু আর্থিক অভাব ও শিক্ষা না থাকায় সাজাহান কিশোর বয়সেই কাজে নেমে পড়ে। পাশের গ্রামের কৃপণ ও ধনী আলম সাহেবের বাড়িতে সাজাহান কাজের লোক হিসেবে নিযুক্ত হয়। প্রতিদিন ঘরে ও বাইরে সমান পরিশ্রম করে সাজাহান। কিন্তু পরিশ্রম অনুযায়ী তাঁর ভাগ্যে খাবার জোটে না। একদিন বাজারের টাকা বাঁচিয়ে সাজাহান লাড্ডু কিনে খায়। কিন্তু টাকার হিসেব দিতে না পারায় আলম সাহেব তাকে নির্দয়ভাবে মারে। মনে ক্ষোভ নিয়েও সাজাহান সব সহ্য করে, কারণ সে জানে, সে গরীব-অসহায়।
- ক)(1)
বিড়াল কমলাকান্তকে কতদিন উপোস করতে বলেছে?
- খ)(2)
"চোর দোষী বটে, কিন্তু কৃপণ ধনী তদপেক্ষা শতগুণ দোষী।"- এ কথার তাৎপর্য কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকটি সাজাহান ও 'বিড়াল' রচনার বিড়াল একই বিড়ম্বনার অংশীদার।"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকটি 'বিড়াল' রচনার ভাবসত্যের যেন প্রতীকী রূপ।"- এ মত কতটা গ্রহণযোগ্য? মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিড়াল কমলাকান্তকে তিন দিন উপোস করতে বলেছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্ষুধার তাড়নায় নিরুপায় হয়ে দরিদ্র ব্যক্তি চুরি করলেও সমাজের সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখা স্বার্থপর কৃপণ ধনীরাই প্রকৃত অপরাধী—এ সত্যটি বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
সমাজে ধনী ব্যক্তিরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ জমিয়ে রাখে এবং অভাবগ্রস্তদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। এই বঞ্চনা ও ক্ষুধার তাড়নাতেই দরিদ্র মানুষ চুরি করতে বাধ্য হয়। ধনীদের কৃপণতা ও সহানুভূতিহীনতাই এই চুরির মূল কারণ, তাই চোরের চেয়ে কৃপণ ধনী ব্যক্তি শতগুণ বেশি অপরাধী ও দায়ী।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাজাহান এবং 'বিড়াল' রচনার বিড়াল উভয়ই চরম ক্ষুধা, অধিকারবঞ্চনা এবং ধনীদের নির্মম আচরণের শিকার হওয়ায় তারা একই বিড়ম্বনার অংশীদার।
'বিড়াল' রচনায় বিড়াল চরিত্রটি সমাজের বঞ্চিত ও নিঃস্ব শ্রেণির প্রতিনিধি। সে ক্ষুধার তাড়নায় কমলাকান্তের দুধ খেয়ে ফেলায় লাঠি দিয়ে মার খাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। বিড়ালের বক্তব্য ছিল, সমাজে প্রচুর খাদ্য ও সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কৃপণ ধনীরা তাদের সামান্য উচ্ছিষ্টও দেয় না, ফলে তারা পেটের দায়ে চুরি করতে বাধ্য হয় এবং এর জন্য শাস্তিও পায়।
উদ্দীপকের সাজাহানও দারিদ্র্যের কারণে কিশোর বয়সেই আলম সাহেবের বাড়িতে কাজ নেয়। দিনরাত পরিশ্রম করলেও তার ভাগ্যে পেটভরে খাবার জোটে না। ক্ষুধার তাড়নায় বাজারের সামান্য টাকা বাঁচিয়ে লাড্ডু খাওয়ার অপরাধে আলম সাহেব তাকে নির্দয়ভাবে প্রহার করে। বিড়ালের মতোই সাজাহানও ক্ষুধা ও নির্মম শোষণের শিকার হয়েও অসহায়ভাবে সব অত্যাচার সহ্য করে। তাই উভয়েই একই ধরনের শোষণ ও বঞ্চনার বিড়ম্বনার অংশীদার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকটি 'বিড়াল' রচনার ভাবসত্যের যেন প্রতীকী রূপ।"—এই মতটি সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য ও যথাযথ।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'বিড়াল' রচনায় রূপক ও ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে মানবসমাজের এক চিরন্তন বৈষম্য ও সাম্যবাদী চিন্তার স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে সমাজের বিত্তবানরা প্রাচুর্যের মধ্যে থেকেও দরিদ্র ও নিঃস্বদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। পেটের দায়ে বা ক্ষুধার কারণে বঞ্চিত শ্রেণি কোনো সামান্য কাজ করলে তাদের ওপর চোরের অপবাদ দিয়ে চরম নির্যাতন চালানো হয়। অথচ এই চুরির জন্য প্রকৃত অপরাধী সমাজের নির্দয়, কৃপণ বিত্তবানরা।
উদ্দীপকে ঠিক এই ভাবসত্যটিই বাস্তব জীবনের প্রেক্ষাপটে মূর্ত হয়েছে। সাজাহান অক্লান্ত পরিশ্রম করলেও পেটভরে খাবার পায় না। কৃপণ ও ধনী আলম সাহেব তার প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখান না। ক্ষুধার তাড়নায় সাজাহান সামান্য লাড্ডু কিনে খাওয়ায় তাকে অমানুষিক প্রহারের শিকার হতে হয়। সাজাহানের এই অসহায়ত্ব এবং আলম সাহেবের নির্দয়তা 'বিড়াল' রচনার সেই বক্তব্যেরই বাস্তব প্রতিফলন—যেখানে পেটের দায়ে সামান্য অপরাধে দরিদ্র সাজাহান সাজা পায়, কিন্তু মূল শোষক ধনীরা পার পেয়ে যায়।
সুতরাং দেখা যায়, 'বিড়াল' রচনায় বিড়ালের মুখ দিয়ে শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের যে অধিকার এবং সাম্যের বাণী ব্যক্ত করা হয়েছে, সাজাহানের জীবনপরিস্থিতি তারই একটি জীবন্ত ও বাস্তব প্রতীকী রূপ প্রকাশ করেছে। তাই মন্তব্যটি সর্বাংশে যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও