যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

রিয়াজ ও ফেরদৌস ঢাকা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টেস্ট ম্যাচের ৫ম দিনের খেলা দেখছে। রিয়াজ ফেরদৌসকে বলল “যদি রোদ হয় তবে বাংলাদেশ জিতবে, রোদ হয়নি, অতএব বাংলাদেশ জিতবে না।” ফেরদৌস বলল, আমার নিকট প্রতীয়মান হচ্ছে, হয় বাংলাদেশ না হয় অস্ট্রেলিয়া বিজয় লাভ করবে। বাংলাদেশ বিজয় লাভ করবে, অতএব অস্ট্রেলিয়া বিজয় লাভ করবে না ।

  1. ক)

    প্রতিবর্তন কী?

    (1)
  2. খ)

    A যুক্তিবাক্যের সরল আবর্তন কি সম্ভব?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ফেরদৌসের বক্তব্যে কোন ধরনের সহানুমানের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে রিয়াজের বক্তব্যে যে অনুপপত্তির সৃষ্টি হয়েছে তা বিশ্লেষণ কর ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে প্রদত্ত যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের অর্থ অপরিবর্তিত রেখে গুণ পরিবর্তন করে একটি নতুন সিদ্ধান্ত টানা হয়, তাকে প্রতিবর্তন (Obversion) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণত 'A' যুক্তিবাক্যের সরল আবর্তন সম্ভব নয়, তবে কিছু ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে সম্ভব।

    আবর্তনের নিয়ম অনুসারে, আশ্রয়বাক্যের কোনো অব্যাপ্য পদকে সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য করা যায় না। 'A' বাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য হলেও বিধেয় পদটি অব্যাপ্য থাকে। তাই 'A' বাক্যকে সরল আবর্তন করে পুনরায় 'A' বাক্য গঠন করলে আশ্রয়বাক্যের অব্যাপ্য বিধেয় পদটি সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যাপ্য হয়ে পড়ে, যা নিয়মবহির্ভূত (যেমন: 'সকল মানুষ হয় মরণশীল' থেকে 'সকল মরণশীল জীব হয় মানুষ' সঠিক নয়)। ফলে 'A' বাক্যের আবর্তন করতে হয় 'A' থেকে 'I'-তে (সীমাবদ্ধ আবর্তন)।

    তবে, যেখানে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের ব্যক্ত্যর্থ বা পরিধি সমান হয় (যেমন: সংজ্ঞাভিত্তিক বাক্য বা নির্দিষ্ট একক পদযুক্ত বাক্য, যথা: 'সকল মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব' থেকে 'সকল বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব হয় মানুষ'), কেবল সেসব ক্ষেত্রে 'A' যুক্তিবাক্যের সরল আবর্তন সম্ভব হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ফেরদৌসের বক্তব্যে 'বৈকল্পিক সহানুমান' (Disjunctive Syllogism)-এর ইঙ্গিত রয়েছে।

    যে মিশ্র সহানুমানের প্রধান আশ্রয়বাক্যটি একটি বৈকল্পিক যুক্তিবাক্য এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ যুক্তিবাক্য হয়, তাকে বৈকল্পিক সহানুমান বলে।

    উদ্দীপকে ফেরদৌস বলে:
    প্রধান আশ্রয়বাক্য: হয় বাংলাদেশ না হয় অস্ট্রেলিয়া বিজয় লাভ করবে। (বৈকল্পিক বাক্য)
    অপ্রধান আশ্রয়বাক্য: বাংলাদেশ বিজয় লাভ করবে। (নিরপেক্ষ বাক্য)
    সিদ্ধান্ত: অতএব, অস্ট্রেলিয়া বিজয় লাভ করবে না। (নিরপেক্ষ বাক্য)

    এখানে বিকল্প দুটি পরস্পর অবিসংবাদী (Non-exclusive) বা বিসংবাদী (Exclusive) হতে পারে। খেলার ফলাফলে সাধারণত একটি দল জিতলে অপরটি জিততে পারে না—এই বিসংবাদী ধারণার ওপর ভিত্তি করে ফেরদৌস প্রধান আশ্রয়বাক্যের একটি বিকল্পকে অপ্রধান বাক্যে স্বীকার করে অন্য বিকল্পটিকে সিদ্ধান্তে অস্বীকার করেছে। এটি বৈকল্পিক সহানুমানের 'স্বীকার করে অস্বীকার পদ্ধতি' (Modus Ponendo Tollens)-কে নির্দেশ করে। সুতরাং, ফেরদৌসের বক্তব্যটি একটি বৈকল্পিক সহানুমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রিয়াজের বক্তব্যে 'পূর্বগ অস্বীকারজনিত অনুপপত্তি' (Fallacy of Denying the Antecedent) সৃষ্টি হয়েছে।

    প্রাকল্পিক সহানুমানের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক নিয়ম হলো—অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে প্রাকল্পিক প্রধান আশ্রয়বাক্যের পূর্বগটিকে (Antecedent) স্বীকার করে সিদ্ধান্তে অনুগকে (Consequent) স্বীকার করা বৈধ, কিন্তু কখনোই অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে পূর্বগকে অস্বীকার করে সিদ্ধান্তে অনুগকে অস্বীকার করা যায় না। যদি অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে পূর্বগকে অস্বীকার করে সিদ্ধান্তে অনুগকে অস্বীকার করা হয়, তবে যুক্তিটিতে 'পূর্বগ অস্বীকারজনিত অনুপপত্তি' ঘটে।

    উদ্দীপকে রিয়াজের যুক্তিটি নিম্নরূপ:
    প্রধান আশ্রয়বাক্য: যদি রোদ হয় (পূর্বগ), তবে বাংলাদেশ জিতবে (অনুগ)।
    অপ্রধান আশ্রয়বাক্য: রোদ হয়নি (পূর্বগ অস্বীকার)।
    সিদ্ধান্ত: অতএব, বাংলাদেশ জিতবে না (অনুগ অস্বীকার)।

    এখানে রিয়াজ অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে পূর্বগ ('রোদ হওয়া')-কে অস্বীকার করে সিদ্ধান্তে অনুগ ('বাংলাদেশ জেতা')-কে অস্বীকার করেছে। কিন্তু যুক্তিবিদ্যার নিয়ম অনুসারে, রোদ না হলেও অন্য অনুকূল পরিস্থিতিতে (যেমন: অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিপর্যয় বা ভালো বোলিংয়ের মাধ্যমে) বাংলাদেশ জিততে পারত। অনুগ সংঘটিত হওয়ার একমাত্র কারণ যে পূর্বগই হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই নিয়ম লঙ্ঘন করার কারণে রিয়াজের বক্তব্যে 'পূর্বগ অস্বীকারজনিত অনুপপত্তি' ঘটেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন