ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
বর্তমান সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে উপনীত করার লক্ষ্যে সারা দেশের প্রয়োজনীয় সমস্ত খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার “বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড" কে সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করার সিদ্ধান্ত নেন। তাছাড়া সারাদেশে পাওয়ার স্টেশন স্থাপন, বিদ্যুৎ স্যালন লাইন নির্মাণসহ বিবিধ কাজ সম্পাদনে বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তির শর্তানুযায়ী উভয়েই মুনাফা লাভ করবে।
- ক)(1)
রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের মুখ্য উদ্দেশ্য কী?
- খ)(2)
রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় কীভাবে রাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়ায়?
- গ)(3)
উদ্দীপক অনুযায়ী 'বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড' কোন ধরনের ব্যবসায় সংগঠন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পিপিপি (PPP) দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করবে উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের মুখ্য বা প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ সাধন করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় দেশের মৌলিক ও ভারী শিল্প স্থাপন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাষ্ট্রের সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
যেসব বৃহৎ ও ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিপুল মূলধনের প্রয়োজন হয় এবং বেসরকারি খাত বিনিয়োগে অনাগ্রহ প্রকাশ করে (যেমন—বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম), সেসব খাতে রাষ্ট্র স্বয়ং বিনিয়োগ করে অর্থনৈতিক পরিকাঠামো সুদৃঢ় করে এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক অনুযায়ী 'বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড' একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় সংগঠন (সংবিধিবদ্ধ সরকারি সংস্থা বা করপোরেশন)।
রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণাধীনে গঠিত ও পরিচালিত এবং রাষ্ট্রীয় মূলধনে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলে। সাধারণত জনস্বার্থ সংরক্ষণ, একচেটিয়া সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও মৌলিক সেবাদানের জন্য সরকার বিশেষ আইন বা রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে সংবিধিবদ্ধ সংস্থা গঠন করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, দেশের সমস্ত খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান 'বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড'কে সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যেহেতু বিদ্যুৎ একটি মৌলিক সেবা ও বৃহৎ অবকাঠামো এবং এটি সরকারি উদ্যোগে জনগণের কল্যাণে পরিচালিত হয়, তাই 'বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড' একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় সংগঠন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পিপিপি (Public-Private Partnership বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব) দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে—উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
পিপিপি হলো এমন একটি ব্যবসায়িক কাঠামো বা চুক্তি যেখানে সরকার ও বেসরকারি খাত যৌথভাবে কোনো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরিচালনা করে, যার মাধ্যমে ঝুঁকি ও মুনাফা উভয়েই অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভাগ করে নেয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত হয়েছে, সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে বেসরকারি খাতের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে পাওয়ার স্টেশন স্থাপন ও লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে, যার মাধ্যমে উভয় পক্ষই মুনাফা লাভ করবে। এটি পিপিপি ব্যবস্থার সুস্পষ্ট প্রতিফলন।
পিপিপি নিম্নোক্তভাবে অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করে:
১. মূলধন সংকট নিরসন: বৃহৎ অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিশাল অঙ্কের সরকারি বাজেটের ঘাটতি পূরণে বেসরকারি অর্থায়ন নিশ্চিত হয়।
২. দক্ষতা ও প্রযুক্তির সংযোজন: বেসরকারি খাতের উন্নত প্রযুক্তি, পেশাদারিত্ব ও গতিশীলতা রাষ্ট্রীয় সেবার মান বাড়ায়।
৩. প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন: আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস পেয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্প সমাপ্ত হয়।
৪. কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো তৈরি হলে দেশীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ উৎসাহিত হয়ে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটে।অতএব, উদ্দীপকের আলোকে বলা যায় যে, সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে গঠিত পিপিপি দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী ও টেকসই করে তোলে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও