অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনের গতিধারা নিম্নধারা:
বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন কারণে আবাদি জমির পরিমাণ হ্রাস পেলেও নতুন নতুন জাতের উফশী বীজের ব্যাপক ব্যবহার, পাওয়ার টিলারের ব্যবহার, যন্ত্রনির্ভর সেচব্যবস্থা, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

  1. ক)

    কৃষিপণ্যের বিপণন কী?

    (1)
  2. খ)

    মাশরুম মানবদেহের জন্য উপকারি খাদ্য-ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ভিত্তিতে খাদ্যশস্য উৎপাদনের গতিধারা লেখচিত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “কৃষি উৎপাদনযোগ্য ভূমির পরিমাণ দিন দিন হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও কৃষি উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়”- উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষিপণ্য উৎপাদন ক্ষেত্র বা কৃষকের কাছ থেকে চূড়ান্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত যাবতীয় অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক কার্যাবলির সমষ্টিকে কৃষিপণ্যের বিপণন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাশরুম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধি গুণসম্পন্ন খাদ্য উপাদান হওয়ায় এটি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

    মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন (বিশেষ করে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ও ডি), খনিজ লবণ (যেমন ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম) এবং খাদ্যআঁশ থাকে। অন্যদিকে এতে ফ্যাট বা চর্বি এবং শর্করার পরিমাণ খুবই কম থাকে। ফলে এটি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও স্থূলতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য একটি আদর্শ খাবার। এছাড়া মাশরুম মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদত্ত সারণিতে বিভিন্ন বছরে বাংলাদেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনের গতিধারা দেওয়া হয়েছে:

    • ১৯৮০-৮১ সালে উৎপাদন ছিল ১.৫০ কোটি মেট্রিক টন।
    • ২০০৪-০৫ সালে উৎপাদন বেড়ে হয় ২.৬৫ কোটি মেট্রিক টন।
    • ২০১৮-১৯ সালে তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৪.২১ কোটি মেট্রিক টন।

    লেখচিত্র অঙ্কন ও ব্যাখ্যা:
    একটি লেখচিত্রের ভূমি অক্ষে (X-অক্ষ) 'বছর/অর্থবছর' এবং লম্ব অক্ষে (Y-অক্ষ) 'খাদ্যশস্যের উৎপাদন (কোটি মেট্রিক টন)' নির্দেশ করা হলো।
    ১. X-অক্ষের ১৯৮০-৮১ বিন্দু বরাবর Y-অক্ষে ১.৫০ কোটি মেট্রিক টন নির্দেশক বিন্দু 'A' নির্ধারণ করা হয়।
    ২. ২০০৪-০৫ অর্থবছর বরাবর Y-অক্ষে ২.৬৫ কোটি মেট্রিক টন নির্দেশক বিন্দু 'B' নির্ধারণ করা হয়।
    ৩. ২০১৮-১৯ অর্থবছর বরাবর Y-অক্ষে ৪.২১ কোটি মেট্রিক টন নির্দেশক বিন্দু 'C' নির্ধারণ করা হয়।

    এখন A, B এবং C বিন্দুগুলো যোগ করলে একটি ঊর্ধ্বগামী রেখা পাওয়া যায়। এই ঊর্ধ্বগামী রেখাটি নির্দেশ করে যে, বাংলাদেশে সময়ের সাথে সাথে খাদ্যশস্য উৎপাদনের গতিধারা ক্রমবর্ধমান এবং দেশ খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বক্তব্যটি যথার্থ; কৃষিযোগ্য জমির পরিমাণ ক্রমাগত হ্রাস পেলেও আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির প্রয়োগে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে।

    জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ, শিল্পায়ন, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণের ফলে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১% হারে চাষযোগ্য জমি কমে যাচ্ছে। এই প্রতিকূলতার মধ্যেও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ কৃষিতে নিবিড় চাষপদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়েছে।

    উদ্দীপক থেকে স্পষ্ট দেখা যায়, ১৯৮০-৮১ সালে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন যেখানে ছিল মাত্র ১.৫০ কোটি মেট্রিক টন, তা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮-১৯ সালে ৪.২১ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে, অর্থাৎ উৎপাদন প্রায় তিন গুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে কাজ করেছে:
    ১. উফশী ও হাইব্রিড বীজের ব্যবহার: কৃষি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ও প্রতিকূলতা সহনশীল (খরা, লবণাক্ততা ও জলমগ্নতা সহনশীল) বীজের ব্যবহার ফলন বহুগুণ বাড়িয়েছে।
    ২. যান্ত্রিকীকরণ: জমি তৈরিতে সনাতন পদ্ধতির বদলে পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর এবং ফসল কাটার আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করেছে।
    ৩. আধুনিক সেচব্যবস্থা: অগভীর ও গভীর নলকূপ এবং সৌরচালিত সেচব্যবস্থার ফলে শুষ্ক মৌসুমেও (বোরো মৌসুমে) ধানের ব্যাপক ফলন সম্ভব হয়েছে।
    ৪. সুষম সার ও বালাই ব্যবস্থাপনা: সঠিক মাত্রায় রাসায়নিক সারের ব্যবহার ও সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থা ফসলের অপচয় হ্রাস করেছে।

    সুতরাং, চাষযোগ্য জমি সংকুচিত হওয়া সত্ত্বেও সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি এবং কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ফলে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বাবলম্বী হয়ে অনন্য সাফল্য অর্জন করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন