বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
রাস্তায় বসে ছোট্ট শিশু আমিনকে কাঁদতে দেখে তাকে বাড়িতে নিয়ে এলেন প্রফেসর মধুসূদনরায়। পরম মমতায়, সন্তান স্নেহে বড় করে তোলেন তাকে। শিক্ষা-দীক্ষা, ধন-সম্পদ কোনোকিছুরই অভাব রাখেননি তিনি। কিন্তু একদিন আমিনই ষড়যন্ত্র করে মধুসূদন বাবুর সমস্ত সম্পত্তিজোর করে দখল করে নিয়ে বাড়ি থেকে সস্ত্রীক মধুসূদন বাবুকে বের করে দিল। সম্পদের প্রতিপ্রচন্ড লোভের কাছে পরাজিত হয় মধুসূদন বাবুর দীর্ঘদিনের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
- ক)(1)
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রথম সংলাপটি কার?
- খ)(2)
“আমি আল্লাহর পাক কালাম ছুঁয়ে ওয়াদা করছি, আজীবন নবাবের আজ্ঞাবহ হয়েই থাকব।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের কোন দিকটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের আমিন ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ঘসেটি বেগম একই মুদ্রার এপিট-ওপিট।”- মন্তব্যটির সত্যতা নিরূপণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রথম সংলাপটি ইংরেজ ক্যাপ্টেন ক্লেটনের (“Danger is not over, Captain Clayton…”)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি করেছিলেন সিপাহসালার মীর জাফর আলী খান, যা ছিল নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে তার চরম মিথ্যাচার ও কপটতার বহিঃপ্রকাশ।
নবাব সিরাজউদ্দৌলা মীর জাফরের ক্রমাগত বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পেয়েও দেশপ্রেম ও রাজধর্ম রক্ষার্থে তাকে ক্ষমা করে দেন। তখন মীর জাফর অন্তরে ইংরেজদের সাথে ক্ষমতা দখলের গোপন চুক্তি বহাল রেখেই অত্যন্ত ধূর্ততার সাথে পবিত্র কুরআন স্পর্শ করে নবাবের অনুগত থাকার মিথ্যা শপথ নেয়, যাতে নবাব তার ওপর পুনরায় আস্থা স্থাপন করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের চরম 'বিশ্বাসঘাতকতা ও নিমকহারামি'র দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নবাব আলীবর্দী খানের উত্তরাধিকারী হিসেবে সিংহাসনে বসেন এবং তাঁর সেনাপতি মীর জাফর, খালা ঘসেটি বেগমসহ দরবারের বহু অমাত্যকে নানা সুবিধা ও সম্মান দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা লোভ, ক্ষমতার লিপ্সা ও ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে নবাবের প্রতি চরম নিমকহারামি করে ভিনদেশি ইংরেজদের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় এবং নবাবের পতন নিশ্চিত করে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, প্রফেসর মধুসূদন রায় নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় অনাথ আমিনকে লালন-পালন করে প্রতিষ্ঠা দান করেন। অথচ সম্পদের অন্ধ লোভে আমিন সেই আশ্রয়দাতা মধুসূদন বাবুর বিরুদ্ধেই চক্রান্ত করে তাঁর সমস্ত সম্পত্তি দখল করে এবং তাঁকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করে। উদ্দীপকের এই অকৃতজ্ঞতা, ক্ষমতার দম্ভ এবং বিশ্বাসঘাতকতার দিকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মীর জাফর-ঘসেটি বেগমদের ষড়যন্ত্র ও কৃতঘ্ন আচরণের সাথেই গভীর সাযুজ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকের আমিন ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ঘসেটি বেগম একই মুদ্রার এপিট-ওপিট।”— মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে মেহেরউন্নিসা ওরফে ঘসেটি বেগম হলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার বড় খালা। সিরাজকে ছোটবেলা থেকেই তাঁর পারিবারিক আশ্রয়ে ও ভালোবাসায় দেখা গেছে। কিন্তু আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর সিরাজ সিংহাসনে আরোহণ করায় ঘসেটি বেগমের ক্ষমতার লোভ ও আক্রোশ চরম রূপ নেয়। তিনি নিজের রক্তের সম্পর্কের ভাগ্নে সিরাজকে ধ্বংস করতে এবং নিজের ক্ষমতা ও বিত্তের স্বার্থ হাসিল করতে নবাবের চরম শত্রু ইংরেজ ও মীর জাফরদের সাথে হাত মেলান। পারিবারিক মমতা বা সম্পর্কের চেয়ে তাঁর কাছে লোভ ও প্রতিশোধস্পৃহাই প্রধান হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের আমিনও তেমনি এক অকৃতজ্ঞ ও অর্থলোভী চরিত্র। প্রফেসর মধুসূদন রায় তাকে রাস্তার চরম অসহায় অবস্থা থেকে তুলে এনে অপত্য স্নেহে বড় করে তোলেন এবং শিক্ষা-সম্পদ দিয়ে মানুষ করেন। কিন্তু অসীম লোভের বশবর্তী হয়ে আমিন সেই স্নেহ-মমতার কোনো মূল্য না দিয়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তার প্রতিপালককেই সর্বস্বান্ত করে সস্ত্রীক বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
ঘসেটি বেগম এবং আমিন—উভয়েই অকৃতজ্ঞ, স্বার্থপর, ষড়যন্ত্রকারী এবং অতিমাত্রায় অর্থ ও ক্ষমতার প্রতি অন্ধ। স্নেহের বাঁধন ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসাকে উপেক্ষা করে চরম বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দেওয়ায় তাদের মানসিকতা অভিন্ন। অতএব, চরিত্রগত দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মের দিক থেকে তারা উভয়েই প্রকৃতপক্ষে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও