রসায়ন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

রসায়ন ২য় পত্র প্রশ্ন

A⟶{→NaOH(aq)P→NaOH(alc)Q→Zn ∣ H2OO3M+N\text{A} \longrightarrow \begin{cases} \xrightarrow{\text{NaOH(aq)}} \text{P} \ \xrightarrow{\text{NaOH(alc)}} \text{Q} \xrightarrow[\text{Zn } | \text{ H}_2\text{O}]{\text{O}_3} \text{M} + \text{N} \end{cases}A = C4H3XM = ৩ কার্বনবিশিষ্ট কার্বনিল যৌগ যা টলেন বিকারককে বিজারিত করে না।

  1. ক)

    জারণ সংখ্যা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ক্লোরোফরমকে রঙিন কাচের বোতলে রাখা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    গ্রিগনার্ড বিকারক থেকে উদ্দীপকের P যৌগটি কীভাবে প্রস্তুত করবে?

    (3)
  4. ঘ)

    কেন্দ্রাকর্ষী সংযোজন বিক্রিয়ায় M ও N এর মধ্যে কোনটি অধিক সক্রিয়?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌগ গঠনের সময় কোনো পরমাণু যে কয়টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে বা যে কয়টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয়, সেই সংখ্যাকে চিহ্নসহ উক্ত মৌলের জারণ সংখ্যা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্লোরোফরম (CHCl3) বাতাসের অক্সিজেন এবং সূর্যালোকের উপস্থিতিতে জারিত হয়ে অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাস ফসজিন (COCl2) ও হাইড্রোজেন ক্লোরাইড (HCl) গ্যাস তৈরি করে।

    বিক্রিয়া:
    2CHCl3 + O2 —(সূর্যালোক)→ 2COCl2 + 2HCl

    রঙিন কাচের বোতল সূর্যালোক প্রবেশে বাধা দেয়। এ কারণে ক্লোরোফরমকে বিষাক্ত ফসজিনে পরিণত হওয়া রোধ করতে রঙিন কাচের বোতলে পূর্ণ করে রাখা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তথ্য বিশ্লেষণ:
    Q যৌগের ওজোনোলাইসিসের ফলে উৎপন্ন ৩-কার্বনবিশিষ্ট কার্বনিল যৌগ M টলেন বিকারক বিজারিত করে না, তাই M একটি কিটোন, অর্থাৎ প্রোপানোন (CH3-CO-CH3)।
    যেহেতু Q যৌগের মোট কার্বন সংখ্যা ৪ এবং ওজোনোলাইসিসে প্রোপানোন (৩ কার্বন) উৎপন্ন হয়, তাই অন্য উৎপাদ N হলো ১ কার্বনবিশিষ্ট কার্বনিল যৌগ ফর্মালডিহাইড (HCHO)।
    অতএব, অ্যালকিন Q হলো ২-মিথাইলপ্রোপিন [(CH3)2C=CH2]।
    সুতরাং, ৪ কার্বনবিশিষ্ট অ্যালকাইল হ্যালাইড A হলো ৩° অ্যালকাইল হ্যালাইড ২-ক্লোরো/ব্রোমো-২-মিথাইলপ্রোপেন [(CH3)3C-X]।
    A জলীয় NaOH-এর সাথে আর্দ্রবিশ্লেষিত হয়ে ৩° অ্যালকোহল P অর্থাৎ ২-মিথাইলপ্রোপান-২-অল [(CH3)3C-OH] তৈরি করে।

    গ্রিগনার্ড বিকারক থেকে P (২-মিথাইলপ্রোপান-২-অল) প্রস্তুতি:
    শুষ্ক ইথার মাধ্যমে গ্রিগনার্ড বিকারক মিথাইল ম্যাগনেসিয়াম আয়োডাইড (CH3MgI) বা মিথাইল ম্যাগনেসিয়াম হ্যালাইডের সাথে প্রোপানোন (কিটোন)-এর কেন্দ্রাকর্ষী সংযোজন ঘটানো হয়। উৎপন্ন যুত যৌগকে আর্দ্রবিশ্লেষণ করলে ৩° অ্যালকোহল ২-মিথাইলপ্রোপান-২-অল (P) প্রস্তুত হয়।

    বিক্রিয়া:
    CH3-CO-CH3 + CH3MgI —(শুষ্ক ইথার)→ (CH3)3C-OMgI
    (CH3)3C-OMgI + H2O —(H+)→ (CH3)3C-OH (P) + Mg(OH)I

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক অনুসারে,
    M হলো প্রোপানোন বা অ্যাসিটোন (CH3-CO-CH3) এবং N হলো মিথান্যাল বা ফর্মালডিহাইড (HCHO)।

    কেন্দ্রাকর্ষী সংযোজন (Nucleophilic Addition) বিক্রিয়ায় M (প্রোপানোন) ও N (মিথান্যাল)-এর মধ্যে N (মিথান্যাল) অধিক সক্রিয়। এর কারণ নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. ইলেকট্রনীয় প্রভাব (Inductive Effect):
    কার্বনিল মূলকের কার্বন পরমাণুটিতে ধনাত্মক চার্জ সৃষ্টি হয়, যার ওপর কেন্দ্রাকর্ষী বিকারক (নিউক্লিওফাইল) আক্রমণ করে। ফর্মালডিহাইডে (HCHO) কার্বনিল কার্বনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু যুক্ত থাকে। হাইড্রোজেনের কোনো ধনাত্মক আবেশীয় (+I) প্রভাব নেই, ফলে কার্বনিল কার্বনের ধনাত্মক চার্জ বেশি সক্রিয় থাকে। অন্যদিকে প্রোপানোনে (CH3-CO-CH3) কার্বনিল কার্বনের সাথে দুটি ইলেকট্রন প্রদানকারী অ্যালকাইল বা মিথাইল মূলক (-CH3) যুক্ত থাকে। মিথাইল মূলকের ধনাত্মক আবেশীয় (+I) ফলের কারণে কার্বনিল কার্বনের ধনাত্মক চার্জের ঘনত্ব অনেকটাই হ্রাস পায়। ফলে নিউক্লিওফাইলের আক্রমণ বাধাগ্রস্ত হয়।

    ২. স্থানিক বাধা (Steric Hindrance):
    ফর্মালডিহাইডের কার্বনিল কার্বনের সাথে দুটি ক্ষুদ্র হাইড্রোজেন পরমাণু যুক্ত থাকায় নিউক্লিওফাইলের আক্রমণে কোনো স্থানিক বাধার সৃষ্টি হয় না। কিন্তু প্রোপানোনের ক্ষেত্রে দুটি অপেক্ষাকৃত বৃহৎ মিথাইল মূলক বিদ্যমান থাকায় স্থানিক বাধা বেশি হয়, যা নিউক্লিওফাইলের প্রবেশে বাধা দেয়।

    অতএব, ইলেকট্রনীয় প্রভাব ও স্থানিক বাধা—উভয় বিবেচনাতেই কেন্দ্রাকর্ষী সংযোজন বিক্রিয়ায় প্রোপানোন (M) অপেক্ষা মিথান্যাল (N) অধিক সক্রিয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন