জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

কিছু ক্ষেত্রে দুটি সাদা ফুল বিশিষ্ট মটর গুটির ক্রসে যেমন বেগুনি বর্ণের ফুল পাওয়া যায় তেমনি স্বাভাবিক দৃষ্টি সম্পন্ন দম্পতির সন্তানও বর্ণান্ধ হতে পারে

  1. ক)

    RH- ফ্যাক্টর কি?

    (1)
  2. খ)

    টেস্ট ক্রস বলতে কি বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উলিত ভিন্ন বর্ণের ফুল পাওয়ার ঘটনার জিনতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    সন্তানের উল্লেখিত সমস্যা ছেলে সন্তান দিলে বেশি হয় -বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রিসাস (Rhesus) বানরের লোহিত রক্তকণিকায় বিদ্যমান এক বিশেষ ধরনের অ্যাগ্লুটিনোজেনকে Rh-ফ্যাক্টর বলে, যা মানবদেহের রক্তেও বিদ্যমান থাকে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    F1 বা F2 জনুর বংশধরগুলো হোমোজাইগাস নাকি হেটারোজাইগাস তা নির্ণয় করার জন্য সেগুলোকে তাদের মাতৃবংশীয় হোমোজাইগাস প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের সাথে যে ক্রস করানো হয়, তাকে টেস্ট ক্রস বলে। টেস্ট ক্রসের মাধ্যমে যেকোনো অজানা জিনোটাইপ বিশিষ্ট জীবের জিনের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে দুটি সাদা ফুলবিশিষ্ট মিষ্টি মটর গাছের ক্রসে বেগুনি বর্ণের ফুল পাওয়ার ঘটনাটি পরিপূরক জিনের (দ্বৈত প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিস) ফলাফল।

    ভিন্ন ভিন্ন লোকাসে অবস্থিত দুটি প্রকট জিন যখন একত্রে উপস্থিত থেকে একটি নির্দিষ্ট ফিনোটাইপ প্রকাশে সাহায্য করে, তখন তাদের পরিপূরক জিন বলে। যদি ধরি মিষ্টি মটরগাছের বেগুনি ফুলের বর্ণ সৃষ্টির জন্য দায়ী দুটি পরিপূরক প্রকট জিন হলো A এবং B। এর যেকোনো একটির অনুপস্থিতিতে অর্থাৎ হোমোজাইগাস প্রচ্ছন্ন অবস্থায় (aa বা bb) ফুল সাদা হয়।

    পিতামাতা (P1): সাদা ফুল (জিনোটাইপ: AAbb) × সাদা ফুল (জিনোটাইপ: aaBB)
    গ্যামেট: Ab এবং aB
    F1 জনু: AaBb (সকল উদ্ভিদেই দুটি প্রকট জিন A ও B একত্রে থাকায় বেগুনি ফুল উৎপন্ন হয়)।

    F1 জনুর স্বপরাগায়নে F2 জনুতে প্রাপ্ত ফলাফল:
    প্রকট জিন A এবং B উভয়ই উপস্থিত (A_B_) = ৯ টি (বেগুনি ফুল)
    হোমোজাইগাস প্রচ্ছন্ন অবস্থা (A_bb, aaB_, aabb) = ৭ টি (সাদা ফুল)

    অতএব, F2 জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত হয় ৯:৭। এভাবেই পরিপূরক জিনের প্রভাবে দুটি সাদা ফুলবিশিষ্ট মটর উদ্ভিদের ক্রসে ভিন্ন বর্ণের (বেগুনি) ফুল সৃষ্টি হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সন্তানের সমস্যাটি হলো বর্ণান্ধতা, যা একটি সেক্স-লিঙ্কড রিসেসিভ (প্রচ্ছন্ন) বংশগত রোগ। এ সমস্যাটি মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের মধ্যে বেশি প্রকাশ পায়।

    মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে পুরুষদের সেক্স ক্রোমোজোম XY এবং নারীদের XX। বর্ণান্ধতার জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন জিনটি (ধরি, Xᶜ) কেবল X ক্রোমোজোমে অবস্থান করে, Y ক্রোমোজোমে এর কোনো সমজাতীয় অ্যালিল থাকে না।

    স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন দম্পতির ক্ষেত্রে পিতা সর্বদা স্বাভাবিক জিনযুক্ত (Xᶜ⁺Y) হন। মাতা যদি স্বাভাবিক কিন্তু বর্ণান্ধতার বাহক (Xᶜ⁺Xᶜ) হন, তবে তাদের সন্তানদের জিনতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ নিম্নরূপ:
    পিতামাতা: স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন পিতা (Xᶜ⁺Y) × বাহক মাতা (Xᶜ⁺Xᶜ)
    গ্যামেট: (Xᶜ⁺, Y) এবং (Xᶜ⁺, Xᶜ)

    সন্তানদের জিনোটাইপ ও ফিনোটাইপ:
    ১. Xᶜ⁺Xᶜ⁺ : স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন কন্যা (২৫%)
    ২. Xᶜ⁺Xᶜ : স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন বাহক কন্যা (২৫%)
    ৩. Xᶜ⁺Y : স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন পুত্র (২৫%)
    ৪. XᶜY : বর্ণান্ধ পুত্র (২৫%)

    বিশ্লেষণ:
    ১. পুরুষদের ক্ষেত্রে একটিমাত্র X ক্রোমোজোম থাকে। তাই মাতার কাছ থেকে পুত্র যদি একটিমাত্র বর্ণান্ধতার মিউট্যান্ট অ্যালিল (Xᶜ) পায়, তবে Y ক্রোমোজোমে এর কোনো প্রকট বিকল্প জিন না থাকায় রোগটি অবধারিতভাবে প্রকাশ পায় (হেমাইজাইগাস অবস্থা)।
    ২. অপরদিকে কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে রোগটি প্রকাশিত হতে হলে উভয় X ক্রোমোজোমেই বর্ণান্ধতার প্রচ্ছন্ন জিন (XᶜXᶜ) উপস্থিত থাকা আবশ্যক। একটিমাত্র জিন পেলে অপর স্বাভাবিক X ক্রোমোজোমের প্রকট জিনের কারণে কন্যা সুস্থ বাহক হয়, কিন্তু রোগী হয় না।

    সুতরাং, জিনতাত্ত্বিক কারণেই বর্ণান্ধতার মতো সেক্স-লিঙ্কড সমস্যা মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন