অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

করিম মিয়া তিস্তা নদীর চরে বসবাস করেন। তিনি তার জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষাবাদ করেন। জমির উর্বরতার কারণে প্রচুর শাকসবজি উৎপন্ন হয়। কিন্তু দারিদ্র্য সংরক্ষণের সমস্যা এবং শহরে যাওয়ার রাস্তা ভালো না থাকায় তিনি তার সবজি কম দামে দালালদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হন।

  1. ক)

    কৃষির উপখাতগুলো কী কী?

    (1)
  2. খ)

    চিংড়িকে সাদা সোনা বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে করিম মিয়ার সবজি কম দামে বিক্রি করার কারণগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    করিম মিয়ার এসব সমস্যা সমাধানের উপায় বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির চারটি প্রধান উপখাত রয়েছে; যথা— ১. শস্য ও শাকসবজি, ২. প্রাণিসম্পদ, ৩. বনজ সম্পদ এবং ৪. মৎস্য সম্পদ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং এটি রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। বৈদেশিক বাণিজ্যে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব স্বর্ণের মতো মূল্যবান এবং রফতানি আয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে চিংড়িকে রূপক অর্থে 'সাদা সোনা' বা 'White Gold' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে করিম মিয়ার উৎপাদিত শাকসবজি কম দামে বিক্রি করার পেছনে কৃষিপণ্য বিপণনের কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা দায়ী। উদ্দীপকে মূলত তিনটি প্রধান কারণ প্রতিফলিত হয়েছে:
    ১. দারিদ্র্য ও আর্থিক অনটন: করিম মিয়া দরিদ্র হওয়ায় শাকসবজি তুলে বেশি দিন অপেক্ষা করার মতো আর্থিক সংগতি বা ধারনক্ষমতা তাঁর নেই। নগদ অর্থের তাগিদে তাঁকে দ্রুত পণ্য বিক্রি করতে হয়।
    ২. সংরক্ষণের অভাব বা হিমাগারের অপ্রতুলতা: শাকসবজি একটি দ্রুত পচনশীল পণ্য। উপযুক্ত গুদামজাতকরণ বা হিমাগারের সুবিধার অভাবে পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি মাঠ থেকেই দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হন।
    ৩. অনুন্নত যাতায়াত ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য: তিস্তার চর থেকে শহরে যাওয়ার রাস্তা ভালো না থাকায় সরাসরি পাইকারি বা ভোক্তা বাজারে পণ্য পরিবহন করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের উপর নির্ভর করতে হয়, যারা সুযোগ নিয়ে কম মূল্যে পণ্য কিনে নেয়। ফলে তিনি ফসলের ন্যায্য দাম পান না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    করিম মিয়ার উল্লেখিত সমস্যাগুলো মূলত কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ বা বিপণন ব্যবস্থার ত্রুটি থেকে উদ্ভূত। এসব সমস্যা সমাধানের উপায়গুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন: চরাঞ্চল থেকে মূল ভূখণ্ড ও শহরের বাজারের সংযোগকারী রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ এবং আধুনিক পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তিনি সরাসরি বাজারে গিয়ে সবজি বিক্রি করতে পারেন।
    ২. হিমাগার ও সংরক্ষণাগার স্থাপন: দ্রুত পচনশীল শাকসবজি দীর্ঘদিন সতেজ রাখার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে আধুনিক হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা গড়ে তুলতে হবে। এতে তাৎক্ষণিক কম দামে বিক্রি করার বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
    ৩. মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস ও সমবায় বিপণন: মধ্যস্বত্বভোগী ও ফড়িয়া-দালালদের শোষণ বন্ধে কৃষকদের নিয়ে সমবায় বিপণন সমিতি গঠন করা যেতে পারে। সমবায় সমিতির মাধ্যমে সরাসরি শহুরে বাজার বা সুপারশপে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব।
    ৪. সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও আর্থিক সহায়তা: কৃষকের দারিদ্র্য দূর করতে সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক কৃষিঋণ সহজ শর্তে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে ফসলের ভরা মৌসুমে নগদ টাকার সংকটে কম দামে বিক্রি করতে না হয়।
    ৫. বাজার তথ্যের সহজলভ্যতা: তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে করিম মিয়ার মতো কৃষকদের নিকট দেশের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি মূল্যের হালনাগাদ তথ্য পৌঁছে দেওয়া দরকার।

    সুতরাং, উপযুক্ত অবকাঠামো উন্নয়ন, সংরক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বিপণন ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমেই করিম মিয়ার সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন