অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
আব্দাল মিয়া একজন ক্ষুদ্র চাষি। প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ গ্রহণের জটিলতার কারণে গ্রাম্য মহাজন ও মধ্যস্বত্বভোগী দালালদের নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করে চাষাবাদ করেন। ফলে মূলধন সংকট লেগেই থাকে। ইদানীং সরকার কৃষকদের সহায়তা করার জন্য ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে কৃষকের মাঝে স্বল্পমূল্যে রাসায়নিক সার, উচ্চ ফলনশীল বীজ, কীটনাশক ইত্যাদি উপকরণ পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে আব্দাল মিয়ার মতো কৃষকেরা যথেষ্ট উপকৃত হচ্ছেন।
- ক)(1)
শস্য বহুমুখীকরণ কী?
- খ)(2)
'জীবন নির্বাহী খামার' ও 'বাণিজ্যিক খামার' ধারণা দুটি ভিন্ন- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
আব্দাল মিয়ার অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের উৎসগুলোর বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
কৃষির উন্নয়নে সরকার কর্তৃক গৃহীত কৃষি উপকরণ বিতরণের ইতিবাচক দিকটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একই জমিতে সারা বছর ধরে একক ফসলের ওপর নির্ভর না করে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধরনের লাভজনক ও বৈচিত্র্যময় ফসল উৎপাদন করাকে শস্য বহুমুখীকরণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'জীবন নির্বাহী খামার' ও 'বাণিজ্যিক খামার' মূলত উৎপাদনের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতির দিক থেকে ভিন্ন। যে খামারে কৃষক প্রধানত নিজের ও তার পরিবারের ভরণপোষণ বা জীবনধারণের উদ্দেশ্যে কৃষিপণ্য উৎপাদন করে এবং উদ্বৃত্ত ফসল বিক্রির উদ্দেশ্য গৌণ থাকে, তাকে জীবন নির্বাহী খামার বলে। এতে সনাতন পদ্ধতি ও পারিবারিক শ্রম ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে আধুনিক প্রযুক্তি, মূলধন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা প্রয়োগ করে সম্পূর্ণ বাজারমুখী যে খামার পরিচালিত হয়, তাকে বাণিজ্যিক খামার বলে। তাই উদ্দেশ্য ও ব্যবস্থাপনার ভিন্নতার কারণে ধারণা দুটি সম্পূর্ণ আলাদা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ক্ষুদ্র চাষি আব্দাল মিয়া যেসব উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করেন, সেগুলো হলো কৃষি ঋণের অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস। অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎসগুলোর মধ্যে উদ্দীপকে গ্রাম্য মহাজন ও মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের উল্লেখ রয়েছে।
১. গ্রাম্য মহাজন: গ্রাম্য মহাজনরা মূলত চড়া সুদে কোনো আনুষ্ঠানিক জামানত বা জটিল কাগজপত্র ছাড়াই কৃষকদের সহজে ঋণ দিয়ে থাকে। তবে এই ঋণের সুদের হার এত বেশি থাকে যে দরিদ্র কৃষকরা চক্রবৃদ্ধি সুদের জালে জড়িয়ে পড়ে এবং অনেক সময় সর্বস্বান্ত হয়। উদ্দীপকে আব্দাল মিয়া প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা এড়াতে এই মহাজনদের দ্বারস্থ হন।
২. মধ্যস্বত্বভোগী দালাল বা ব্যাপারী: এরা ফসল ওঠার আগে কৃষকদের দাদন হিসেবে বা চড়া শর্তে ঋণ দেয়। বিনিময়ে তারা শর্ত দেয় যে, উৎপাদিত ফসল নামমাত্র বা কম মূল্যে তাদের কাছেই বিক্রি করতে হবে। ফলে কৃষক পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয় এবং মূলধন সংকট থেকেই যায়। এভাবেই আব্দাল মিয়া অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎসের ঋণের শোষণের শিকার হচ্ছেন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষির উন্নয়নে সরকার কর্তৃক গৃহীত ভর্তুকির মাধ্যমে কৃষি উপকরণ বিতরণের ইতিবাচক দিকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী। উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকার কৃষকদের আর্থিক সহায়তায় ভর্তুকি দিয়ে স্বল্পমূল্যে সার, উচ্চ ফলনশীল (উফশী) বীজ ও কীটনাশক পৌঁছে দিচ্ছে, যা কৃষকদের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
এর ইতিবাচক দিকগুলো নিচে মূল্যায়ন করা হলো:
১. উৎপাদন ব্যয় হ্রাস: ভর্তুকি মূল্যে কৃষি উপকরণ পাওয়ার ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। আব্দাল মিয়ার মতো প্রান্তিক চাষিদের মহাজনদের চড়া সুদের ওপর নির্ভরশীলতা কমে।
২. কৃষি উৎপাদন ও ফলন বৃদ্ধি: উন্নত বীজ ও পরিমিত রাসায়নিক সারের সহজলভ্যতার কারণে ফসলের উৎপাদনশীলতা বা হেক্টরপ্রতি ফলন বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
৩. মূলধন সংকট নিরসন: কম খরচে উপকরণ পাওয়ায় কৃষকের নিজস্ব মূলধন সংকট লাঘব হয় এবং তারা কৃষিকাজে উদ্বুদ্ধ হয়।
৪. কৃষকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: উৎপাদন বাড়ার ফলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি পায়, যা তাদের দারিদ্র্য বিমোচনে এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।সুতরাং বলা যায়, সরকারের এই উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম কৃষকদের স্বাবলম্বী করা এবং দেশের টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও