ভূগোল এবং পরিবেশ • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
রিয়াদ গ্রীষ্মের ছুটিতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বেড়াতে গেল। সে হোটেলের জানালা দিয়ে সমুদ্রের পানি দেখছিল। একটি নির্দিষ্ট সময়ে পানির উচ্চতা বাড়ছে। আবার নির্দিষ্ট সময়ে তা নেমে যাচ্ছে। রিয়াদ মায়ের কাছে জানতে পারলো মানবজীবনে এর প্রভাব অনেক।
- ক)(1)
শৈলশিরা কাকে বলে?
- খ)(2)
মগ্নচড়া কেন সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
রিয়াদের দেখা সমুদ্রের পানি হ্রাস-বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে এর সপক্ষে যুক্তি প্রদান করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সমুদ্রের তলদেশে অবস্থিত নিমজ্জিত পর্বতশ্রেণি বা উঁচু লম্বা ভূমিরূপকে শৈলশিরা (Oceanic ridge) বলে।
- খ)
মহীসোপানের সমুদ্রতলে নুড়ি, কাঁকর, বালি প্রভৃতি ক্রমাগত সঞ্চিত হয়।
এভাবে অনেক দিন ধরে জমতে জমতে সমুদ্রতলে অগভীর উঁচু স্থান তৈরি হয়, একে মগ্নচড়া বলে। নিউফাউন্ডল্যান্ডের গ্র্যান্ড ব্যাংক ও ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের ডগার্স ব্যাংক এর উদাহরণ।
- গ)
রিয়াদ সমুদ্রে যে পানির উচ্চতা বাড়া ও কমা দেখেছে, তা জোয়ার-ভাটা। এর কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।
১. চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ: পৃথিবীর যে অংশ চাঁদের কাছাকাছি থাকে, সেখানে চাঁদের মহাকর্ষ শক্তির টানে সমুদ্রের জল ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। জল তরল বলে প্রধানত চাঁদের আকর্ষণেই এটি ঘটে। সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার তত জোরালো হয় না। চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় থাকলে জোয়ার অত্যন্ত প্রবল হয়।
২. কেন্দ্রাতিগ শক্তি: পৃথিবী নিজ অক্ষের চারদিকে আবর্তন করায় কেন্দ্রাতিগ শক্তি সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে মহাকর্ষজনিত জোয়ারের বিপরীত দিকেও জল বিক্ষিপ্ত হয়ে জোয়ার সৃষ্টি করে।এভাবে পৃথিবীর বিপরীত দুই প্রান্তে জোয়ার এবং মাঝের অংশে ভাটা হয়।
- ঘ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি জোয়ার-ভাটা। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখে, এ বক্তব্য যুক্তিযুক্ত।
১. নৌযান চলাচল: জোয়ারের সময় নদীর মোহনা ও ভেতরে পানি বেশি থাকে। তাই বড় সমুদ্রগামী জাহাজ সহজে নদীতে প্রবেশ করতে পারে। আবার জোয়ারের টানে সেই জাহাজ অনায়াসে সমুদ্রে নেমে আসতে পারে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হয়।
২. বন্দর সচল রাখা: বাংলাদেশের দুটি প্রধান সমুদ্রবন্দর পতেঙ্গা ও মংলা এবং অন্যান্য উপকূলবর্তী নদীবন্দর সচল রাখতে জোয়ার-ভাটার ভূমিকা আছে।
৩. নদীখাত গভীর রাখা: দিনে দুবার জোয়ার-ভাটা হওয়ায় ভাটার টানে নদীর মোহনায় পলি ও আবর্জনা জমতে পারে না। এতে নদীখাত গভীর থাকে এবং নৌচলাচল বাধাহীন হয়।সুতরাং, জোয়ার-ভাটা নৌ-পরিবহন ও বন্দরের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে অমাবস্যা-পূর্ণিমায় অধিক জোয়ারে নৌকা ও লঞ্চ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও