সাহিত্য পাঠ • মানব-কল্যাণ • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
সমাজে অনেক মানুষই পাওয়া যায়, যারা সর্বদা মানুষের কল্যাণে কাজ করেন। জীবনে কী পেয়েছেন আর কী পাবেন তা নিয়ে কোনো ভাবনা তাদের থাকে না। এমনকি যারা তাদের ক্ষতি করে তাদেরও কল্যাণ কামনা করেন তারা। দান নয় বরং মানুষকে স্বাবলম্বী করাই তাদের লক্ষ্য।
- ক)(1)
কালের বিবর্তনে আমরা এখন কীসের অংশ?
- খ)(2)
'সর্বজীবে হিত' কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের চেতনাগত সাদৃশ্য নিরূপণ কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকটির মূলভাব 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে আলোচিত প্রকৃত মানবকল্যাণকেই নির্দেশ করে।"মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কালের বিবর্তনে আমরা এখন বৃহত্তর মানবসমাজের অংশ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সর্বজীবে হিত' কথাটি দ্বারা পৃথিবীর সকল জীবের কল্যাণ সাধন ও তাদের প্রতি মঙ্গলচেতনা পোষণ করাকে বোঝানো হয়েছে।
প্রাবন্ধিক আবুল ফজলের মতে, প্রকৃত মানবকল্যাণ কেবল ক্ষুদ্র ব্যক্তি বা দলের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সমগ্র সৃষ্টি ও জীবজগতের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও সেবামূলক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ। জীবের প্রতি অহিংসা, ভালোবাসা এবং সর্বাত্মক মঙ্গলের অভিপ্রায়ই 'সর্বজীবে হিত' কথাটির মূল দর্শন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে আবুল ফজলের 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের দৃষ্টিভঙ্গিগত ও চেতনাগত গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক উল্লেখ করেছেন যে, সস্তা দান-খয়রাত বা ওপর থেকে নিচে ছুঁড়ে দেওয়া করুণায় প্রকৃত মানবকল্যাণ সাধিত হয় না; বরং মানুষের মানবিক মর্যাদাবোধকে অক্ষুণ্ন রেখে তাকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও স্বাবলম্বী করে তোলাই হলো মানবকল্যাণের আসল উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, কিছু মানুষ কোনো প্রতিদানের আশা না রেখে সার্বিকভাবে মানুষের কল্যাণে নিবেদিত থাকেন। এমনকি তাঁরা শত্রুরও অমঙ্গল কামনা করেন না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাঁরা মানুষকে কেবল সাময়িক দান করে পরনির্ভরশীল না রেখে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন। উদ্দীপকের এই আত্মস্বার্থহীনতা এবং মানুষকে স্বাবলম্বী করার চেতনা 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূল চেতনার সাথে হুবহু মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকটির মূলভাব 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে আলোচিত প্রকৃত মানবকল্যাণকেই নির্দেশ করে"—মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন যে, প্রচলিত সমাজে দান-খয়রাতকে মানবকল্যাণ বলে গণ্য করা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা মানুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এবং মানুষকে পরনির্ভরশীল করে তোলে। লেখকের মতে, মানবকল্যাণের উৎস মানুষের মর্যাদাবোধ বৃদ্ধির মধ্যে নিহিত। মানুষকে সসম্মানে আত্মনির্ভরশীল ও আত্মমর্যাদাশীল করে গড়ে তোলাই হলো খাঁটি কল্যাণকর্ম।
উদ্দীপকে বর্ণিত কল্যাণকামী ব্যক্তিদের লক্ষ্যও অভিন্ন। তাঁরা নিঃস্বার্থভাবে মানবের মঙ্গলে রত, অপকারীর প্রতিও বিদ্বেষহীন এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো তাঁরা কেবল 'দান' করাকে মানবসেবা মনে করেন না; বরং মানুষকে আত্মনির্ভর ও স্বাবলম্বী করাই তাঁদের একমাত্র ব্রত।
প্রবন্ধে ব্যক্ত লেখকের দর্শন অনুযায়ী, মানুষের সম্ভাবনাময় প্রতিভাকে বিকশিত করা এবং তাকে পরমুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত করাই প্রকৃত মানবকল্যাণ। উদ্দীপকের বক্তব্যও দানশীলতার মানসিকতা অতিক্রম করে আত্মমর্যাদাপূর্ণ স্বাবলম্বনের বার্তা দেয়। সুতরাং, উদ্দীপকের মূলভাব প্রবন্ধে নির্দেশিত প্রকৃত মানবকল্যাণের আদর্শকেই প্রতিফলিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও