বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
রত্নার সন্তানটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন 'অটিস্টিক'। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর পর সে গার্মেন্টস-এ কাজ নেয়। রত্নার মা ছেলের দেখাশোনা করে। হঠাৎ একদিন রত্নার বাকশক্তিহীন ছেলেটি কোথাও চলে যায়। পাগলপ্রায় রত্না সবকিছু ছেড়ে তার হারানো ছেলেকে খুঁজে চলেছে।
- ক)(1)
সুফিয়া কামালের পৈতৃক নিবাস কোথায়?
- খ)(2)
এ বসন্তে কবির পুষ্পসাজ না থাকার কারণ কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সঙ্গে কবিতার ভাবগত সাদৃশ্য তুলে ধরো।
- ঘ)(4)
'প্রিয়জন হারানোর বেদনা কবিতা এবং উদ্দীপকে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত।'-তোমার মত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবি সুফিয়া কামালের পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রিয়তম স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে কবির মন গভীর বিষাদ ও শূন্যতায় আচ্ছন্ন থাকায় এ বসন্তে কবির কোনো পুষ্পসাজ নেই।
প্রকৃতিতে বসন্তের অপার সৌন্দর্য ও ফুলের সমাহার ঘটলেও কবির অন্তরে কেবলই হাহাকার ও শোক বিরাজমান। তাঁর সাহিত্যসাধনা ও জীবনের প্রধান অনুপ্রেরণা ছিলেন তাঁর স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেন। স্বামীর অকাল মৃত্যুতে কবির জীবন আনন্দহীন ও রিক্ত হয়ে পড়ায় বসন্তের রূপ-রং তাঁর হৃদয়ে কোনো সাড়া জাগাতে পারেনি, তাই তিনি পুষ্পসাজ গ্রহণ করতে পারেননি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সঙ্গে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূল ভাবগত সাদৃশ্য হলো—'প্রিয়জন হারানোর গভীর বেদনা ও শূন্যতাবোধ'।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রিয়তম স্বামীর বিয়োগব্যথায় কবি সুফিয়া কামালের হৃদয় নিদারুণ শোকে নিমজ্জিত। প্রকৃতিতে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন ঘটলেও কবির অন্তরের রিক্ততা তাঁকে নিরাসক্ত ও উদাসীন করে রেখেছে। বাহ্যিক কোনো আনন্দই তাঁর হৃদয়ের এই ক্ষতকে দূর করতে পারছে না।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, রত্না তার স্বামীকে হারানোর পর একমাত্র বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানকে নিয়েই বেঁচে ছিল। কিন্তু সেই সন্তানটিও হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় রত্না সন্তানশোকে পাগলপ্রায় হয়ে পড়ে এবং সবকিছু ছেড়ে তাকে খুঁজতে বের হয়। অর্থাৎ উদ্দীপক ও কবিতা উভয়েরই কেন্দ্রীয় সুর হলো স্বজন হারানোর হাহাকার ও অপূরণীয় শূন্যতা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'প্রিয়জন হারানোর বেদনা কবিতা এবং উদ্দীপকে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত'- বক্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রিয়জন হারানোর বিষয়টি এসেছে প্রচ্ছন্ন ও অন্তর্মুখী এক নিবিড় বিষাদের রূপ ধরে। কবি সুফিয়া কামাল তাঁর স্বামীর মৃত্যুশোকে স্তব্ধ হয়ে গেছেন। এই শোক কবিকে অত্যন্ত নীরব, ভাবলেশহীন, উদাসীন ও নিষ্ক্রিয় করে তুলেছে। প্রকৃতির অপরূপ বসন্তোৎসবের মধ্যেও তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন বিষাদময় স্মৃতিচারণের চাদরে। এখানে বেদনা প্রকাশিত হয়েছে ভাবগম্ভীর নৈঃশব্দ্যে ও গভীর অন্তর্জাল অনুভূতিতে।
অন্যদিকে, উদ্দীপকে রত্নার প্রিয়জন হারানোর বেদনাটি বহির্মুখী, প্রকাণ্ড ও প্রত্যক্ষ সংক্ষোভের। সে প্রথমে স্বামীকে হারিয়েছে এবং পরবর্তীতে তার একমাত্র বাকশক্তিহীন অটিস্টিক সন্তান হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছে। রত্নার শোক অন্তর্মুখী স্তব্ধতায় রূপ না নিয়ে রূপান্তরিত হয়েছে তীব্র মাতৃত্বের হাহাকার ও ব্যাকুলতায়। সে শোকের কাছে আত্মসমর্পন করে বসে না থেকে সন্তানকে খুঁজে পেতে পাগলপ্রায় হয়ে পথে নেমেছে।
অতএব, কবিতায় যেখানে শোক এসেছে অন্তর্মুখী নিস্পৃহতা ও বিষাদের নীরব রূপ নিয়ে, উদ্দীপকে তা প্রকাশিত হয়েছে রত্নার মাতৃহৃদয়ের উত্তাল আকুলতা ও সক্রিয় অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে। তাই প্রিয়জন হারানোর অনুভূতির এই প্রকাশভঙ্গি নিঃসন্দেহে ভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও