জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
বহুরূপতা কী?
- খ)(2)
ঘাসফড়িং এ ডায়াপোজ ঘটে কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটির প্রস্থচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র অংকন করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' ও 'Y' অংশ দ্বারা সৃষ্ট ডিপ্লয়েড কোষের পরিস্ফুটনই প্রজাতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় একমাত্র উপায় নয়- যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির প্রাণীদের মধ্যে গঠন ও কাজের ভিন্নতা অনুযায়ী একাধিক রূপভেদ বা বহুরূপী সদস্যের উপস্থিতিকে বহুরূপতা (Polymorphism) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিকূল পরিবেশগত অবস্থা, বিশেষ করে শীতকালের তীব্র ঠান্ডা ও খাদ্যভাব থেকে ভ্রূণকে রক্ষা করার জন্য ঘাসফড়িং-এর পরিস্ফুটনে ডায়াপোজ ঘটে।
ডায়াপোজ হলো পতঙ্গের জীবনচক্রের এমন একটি সাময়িক সুপ্তাবস্থা যেখানে স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ স্থগিত থাকে এবং বিপাকীয় হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। ঘাসফড়িং শরৎকালে মাটিতে ডিম পাড়ার পর শীতকালে তাপমাত্রা কমে গেলে ভ্রূণীয় বিকাশ সাময়িকভাবে থেমে যায় এবং বসন্তকালে অনুকূল তাপমাত্রা ফিরে এলে বিকাশ পুনরায় শুরু হয়। প্রতিকূল পরিবেশে প্রজাতির টিকে থাকা নিশ্চিত করতেই এই শারীরবৃত্তীয় বিরতি বা ডায়াপোজ ঘটে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত প্রাণীটি হলো হাইড্রা (Hydra)।
হাইড্রার প্রস্থচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র:
(পরীক্ষার্থীদের খাতায় একটি পরিষ্কার বৃত্তাকার দ্বিন্তরী প্রস্থচ্ছেদের চিত্র আঁকতে হবে এবং নিম্নলিখিত অংশগুলো চিহ্নিত করতে হবে):
১. এপিডার্মিস (বহিঃত্বক): পেশি-আবরণী কোষ, ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ, নিডোসাইট, সংবেদী কোষ, স্নায়ুকোষ ও গ্রন্থিকোষ সমন্বিত বাইরের স্তর।
২. মেসোগ্লিয়ার স্তর: এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিসের মাঝে অবস্থিত অকোষীয়, জেলিসদৃশ স্তর।
৩. গ্যাস্ট্রোডার্মিস (অন্তঃত্বক): পুষ্টি কোষ (ফ্লাজেলীয় ও ক্ষণপদীয় কোষ), ক্ষরণকারী গ্রন্থিকোষ সমন্বিত ভেতরের স্তর।
৪. সিলেন্টেরন: কেন্দ্রে অবস্থিত পরিপাক-সংবহন গহ্বর। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত প্রাণীটি হলো হাইড্রা (Hydra)। চিত্রে 'X' হলো শুক্রাশয় এবং 'Y' হলো ডিম্বাশয়। এদের মিলনে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর নিষেকের মাধ্যমে ডিপ্লয়েড জাইগোট গঠিত হয়, যা যৌন জনন পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু প্রজাতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় এই যৌন জননই একমাত্র উপায় নয়; নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অযৌন জনন (মুকুলোদগম): অনুকূল পরিবেশে এবং পর্যাপ্ত খাদ্যের উপস্থিতিতে হাইড্রা প্রধানত মুকুলোদগমের (Budding) মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। এ প্রক্রিয়ায় দেহের মধ্য বা নিম্নাংশের এপিডার্মিসের ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ দ্রুত বিভাজিত হয়ে একটি মুকুল সৃষ্টি করে, যা বড় হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ অপত্য হাইড্রায় পরিণত হয় এবং মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন জীবনযাপন করে। এটি হাইড্রার সর্বাধিক স্বাভাবিক ও দ্রুত বংশবৃদ্ধি প্রক্রিয়া।
২. দ্বি-বিভাজন: কখনো কখনো হাইড্রা অনুদৈর্ঘ্য বা অনুপ্রস্থ দ্বি-বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি দেহ থেকে দুটি অপত্য হাইড্রা গঠন করে বংশবৃদ্ধি সম্পন্ন করতে পারে।
৩. পুনরুৎপত্তি (Regeneration): হাইড্রার ইন্টারস্টিশিয়াল কোষের টটিপোটেন্সি ক্ষমতার কারণে কোনো প্রতিকূলতায় দেহ খণ্ডিত হলে প্রতিটি ক্ষুদ্র খণ্ডক থেকে সম্পূর্ণ নতুন হাইড্রা পুনর্গঠিত হতে পারে। এটিও তাদের টিকে থাকা ও ধারাবাহিকতা রক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করে।
সুতরাং, অনুকূল পরিবেশে হাইড্রা মূলত অযৌন জনন (বিশেষ করে মুকুলোদগম) দ্বারাই দ্রুত প্রজাতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, আর 'X' ও 'Y' দ্বারা সৃষ্ট জাইগোটের পরিস্ফুটন অর্থাৎ যৌন জনন মূলত প্রতিকূল পরিবেশে প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষার উপায় হিসেবে কাজ করে। অতএব, উক্ত ডিপ্লয়েড কোষের পরিস্ফুটনই প্রজাতির ধারাবাহিকতা রক্ষার একমাত্র উপায় নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও