বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

পাকা মসজিদের পুকুর পাড়ে কয়েক ঘর দিনমজুরের মাটির ঘর। রাতে প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড় আর প্রবল বৃষ্টির তাণ্ডবে তাদের ঘরের খড়ের চালগুলো উড়ে গেল। অগত্যা ওদের একজন সাহস করে মসজিদের ইমাম সাহেবকে তাদের দুরবস্থার কথা জানালে ইমাম সাহেব মসজিদ খুলে দেন। দিনমজুরের পরিবারেরা মসজিদের ভেতর আশ্রয় পেয়ে খুব খুশি হয়। ইমাম সাহেব তাদের সাথেই সে রাতটা জেগে কাটিয়ে দেন।

  1. ক)

    মজিদ কোন মাসে মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে?

    (1)
  2. খ)

    "গরিব মানুষ, খাইবার পাই না।"-উক্তিটির তাৎপর্য তুলে ধর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঈমাম সাহেব আর 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের মধ্যে বৈপরীত্য তুলে ধর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাস আমাদের সমাজবাস্তবতার দুই ভিন্ন মেরু।"-মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মজিদ শ্রাবণ মাসের শেষাশেষি মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে তাহেরের বাপের চরম অর্থনৈতিক দৈন্য এবং সামাজিক অসহায়ত্ব প্রকাশ পেয়েছে।

    'লালসালু' উপন্যাসে তাহেরের বুড়ো বাপ পরিবারের চরম অনাহার ও অভাবের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে এ কথা বলে। দারিদ্র্যপীড়িত গ্রামীণ জীবনে অনাহার তাদের নিত্যসঙ্গী। পেটের ক্ষিধের যন্ত্রণায় জর্জরিত হয়ে এবং পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে না পেরে সে আক্ষেপের সুরে মজিদ ও অন্যদের কাছে নিজের দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ইমাম সাহেব মানবতাবাদী ও সহানুভূতিশীল, পক্ষান্তরে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ স্বার্থপর ও ধর্মব্যবসায়ী—এ দিক থেকেই তাদের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে।

    'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ ধর্মকে নিজের জীবিকা ও প্রতিপত্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। সে গ্রামের মানুষের অজ্ঞতা ও অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে একটি অজ্ঞাত কবরকে মাজার বানিয়ে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। মানুষের দুর্যোগ বা সংকটে মজিদ সহানুভূতি দেখায়নি, বরং তাদের মনে খোদার গজবের ভয় দেখিয়ে নিজের ক্ষমতার জাল বিস্তার করেছে।

    বিপরীতভাবে, উদ্দীপকের ইমাম সাহেব একজন প্রকৃত ধার্মিক ও মানবদরদি ব্যক্তি। ঝড়ে গৃহহীন হওয়া দিনমজুরদের বিপদে তিনি আল্লাহর ঘর মসজিদ তাদের আশ্রয়ের জন্য উন্মুক্ত করে দেন এবং নিজে তাদের সঙ্গে জেগে রাত কাটান। মজিদের ভণ্ডামি ও স্বার্থপরতার বিপরীতে উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের এই পরোপকার ও মানবপ্রেম এক উজ্জ্বল বৈপরীত্যের সৃষ্টি করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাস আমাদের সমাজবাস্তবতার দুই ভিন্ন মেরু"—মন্তব্যটি যথার্থ।

    'লালসালু' উপন্যাসে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সমাজের অন্ধ ধর্মবিশ্বাস, কুসংস্কার, শোষণ এবং ধর্মকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ভণ্ডামির নগ্ন বাস্তবতাকে উন্মোচিত করেছেন। সেখানে মজিদ ধর্মের লেবাস পরে মানুষকে ভীতি প্রদর্শন করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করেছে। স্বার্থান্ধতা, আধিপত্য বিস্তার এবং শোষণের অন্ধকার দিকটিই সেখানে সমাজবাস্তবতার একটি নেতিবাচক মেরুকে উপস্থাপন করে।

    অন্যদিকে, উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে নিঃস্বার্থ মানবপ্রেম, পরোপকারিতা এবং ধর্মীয় অনুভূতির প্রকৃত ইতিবাচক রূপ। মসজিদের ইমাম সাহেব দুর্যোগের দিনে অসহায় মানুষদের শুধু আশ্রয়ই দেননি, তাদের সাথে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে সহমর্মিতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন। এটি সমাজবাস্তবতার একটি মানবিক ও আলোকিত মেরু নির্দেশ করে।

    সুতরাং, যেখানে 'লালসালু'তে ধর্মের নামে শোষণ ও প্রতারণার কুৎসিত রূপ ফুটে উঠেছে, সেখানে উদ্দীপকে ধর্মের প্রকৃত মানবকল্যাণকামী ও উদার রূপ প্রত্যক্ষ করা যায়। তাই উভয় প্রেক্ষিত নিশ্চিতভাবেই সমাজবাস্তবতার দুটি বিপরীত ও ভিন্ন মেরু।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন