ভূগোল এবং পরিবেশ • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৬

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

শিমুলতলী গ্রামের অধিকাংশ বসতি ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। অপেক্ষাকৃত উঁচু রাস্তাটিতে গ্রামবাসীরা আশ্রয় নিয়েছে।

  1. ক)

    খরা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    নদীভাঙনকে বাংলাদেশের একটি নিয়মিত সমস্যা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    শিমুলতলী গ্রামে সংঘটিত দুর্যোগটির কারণ বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত গ্রামবাসীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে? তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থা সৃষ্টি হয়, তাকে খরা বলে।

  2. খ)

    বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছর বন্যা মৌসুম ও এর সন্নিহিত সময়ে প্রায় ৪০টি ছোট-বড় নদীতে ভাঙন দেখা যায়।
    বর্ষায় নদীর পানি বেড়ে স্রোত প্রবল হয় এবং তীর কেটে যায়। বন্যার পর পানি নেমে গেলেও তীর ধসে পড়ে। এই প্রক্রিয়া বছরের পর বছর চলতে থাকে।
    এই ভাঙনে প্রতি বছর বহু জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়। তাই নদীভাঙনকে বাংলাদেশের একটি নিয়মিত সমস্যা বলা হয়।

  3. গ)

    শিমুলতলী গ্রামের অধিকাংশ বসতি ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এটি বন্যা। এর কারণগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো।
    ১. অতিবৃষ্টি: মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে দেশে প্রচুর বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি নদী ধারণ করতে পারে না।
    ২. উজান থেকে পানির ঢল: বাংলাদেশের নদীগুলোর অধিকাংশ উৎস দেশের বাইরে। উজানে ভারী বৃষ্টি ও হিমালয়ের বরফ গলা পানি নদী বেয়ে নেমে আসে।
    ৩. নদীর নাব্যতা হ্রাস: পলি জমে নদীর গভীরতা কমে যায়। ফলে পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যায় এবং পানি দুকূল ছাপিয়ে উঠে।
    ৪. ভূপ্রকৃতি ও মানুষের কাজ: দেশের ভূমি নিচু ও সমতল। এছাড়া নদী ও জলাশয় ভরাট এবং অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণও বন্যার জন্য দায়ী।

  4. ঘ)

    বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিমুলতলীর গ্রামবাসীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে।
    ১. জরুরি ত্রাণ: আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, কাপড় ও ঔষধ সরবরাহ করতে হবে। পানিবাহিত রোগ ঠেকাতে স্বাস্থ্য ক্যাম্প বসাতে হবে এবং স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিতে হবে।
    ২. পুনর্বাসন: পানি নেমে গেলে ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য আর্থিক সহায়তা ও নির্মাণসামগ্রী দিতে হবে। রাস্তাঘাট ও টিউবওয়েল দ্রুত মেরামত করতে হবে।
    ৩. কৃষি পুনরুদ্ধার: কৃষকদের বিনা মূল্যে বা কম দামে বীজ, সার ও কৃষিঋণ দিতে হবে, যাতে তারা আবার চাষাবাদ শুরু করতে পারে।
    ৪. ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি: উঁচু আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, আগাম সতর্কবার্তা ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের ক্ষতি কমানো যায়।
    সুতরাং, সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে এসব পদক্ষেপ নিলে গ্রামবাসী দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন