‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব রহিম দীর্ঘ দিন বিদেশে অবস্থান করে সম্প্রতি দেশে ফিরে আসে। দেশে এসে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। শরীর শুকিয়ে যাচ্ছে। কোনো রোগ হলে তা সহজে ভালো হয় না। মানুষ তাকে সন্দেহের চোখে দেখে। হাসপাতালে গেলে ডাক্তাররা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, সে একটি ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত করে।

  1. ক)

    বৈদেশিক নীতির সংজ্ঞা দাও।

    (1)
  2. খ)

    ইভটিজিং রোধ করা প্রয়োজন কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত রহিম কোন রোগে আক্রান্ত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    সমাজজীবনে উক্ত রোগের প্রভাব ভয়াবহ— বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি রাষ্ট্র তার জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অপরাপর রাষ্ট্রের সাথে যে ধরনের নীতি, আচরণ বা সম্পর্ক নির্ধারণ ও পরিচালনা করে, তাকে বৈদেশিক নীতি বা পররাষ্ট্রনীতি বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইভটিজিং হলো জনসমক্ষে বা কর্মক্ষেত্রে নারীদের উদ্দেশে উত্ত্যক্তকরণ, অশোভন আচরণ বা যৌন হয়রানি। নারীর মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা, সমাজে নিরাপদে তাদের চলাচল ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং মানসিক বিকাশ অক্ষুণ্ন রাখার জন্য ইভটিজিং রোধ করা অপরিহার্য। এছাড়া ইভটিজিংয়ের কারণে বহু সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বন্ধ হয়, আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে এবং পারিবারিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। তাই সুস্থ, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গঠনের স্বার্থেই ইভটিজিং প্রতিরোধ করা প্রয়োজন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব রহিম এইচআইভি/এইডস (HIV/AIDS) রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

    এইডস (Acquired Immune Deficiency Syndrome) হলো একটি মরণঘাতী রোগ, যা এইচআইভি (Human Immunodeficiency Virus) নামক ভাইরাসের সংক্রমণের মাধ্যমে ঘটে। এই ভাইরাসের আক্রমণে মানবদেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণ রোগব্যাধিতে পড়লেও তার শরীর তা সহজে প্রতিরোধ বা নিরাময় করতে পারে না এবং ক্রমান্বয়ে ওজন কমে শরীর শুকিয়ে যেতে থাকে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানের পর দেশে ফিরে রহিম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার শরীর শুকিয়ে যেতে থাকে। তার যেকোনো রোগ হলে তা সহজে নিরাময় হয় না এবং ডাক্তারি পরীক্ষায় জানা যায় তিনি একটি ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত। এই লক্ষণগুলো সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, তিনি এইচআইভি ভাইরাসজনিত এইডস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজজীবনে এইডস রোগের প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ— উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    এইডস একটি সংক্রামক ও দুরারোগ্য ব্যাধি হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন কেবল শারীরিক বিপর্যয়েই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা পরিবার ও সামগ্রিক সমাজব্যবস্থায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিচে এর ভয়াবহ প্রভাবসমূহ তুলে ধরা হলো:

    ১. সামাজিক কুসংস্কার ও বিচ্ছিন্নতা: সমাজে এইডস রোগ সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব এবং ভ্রান্ত ধারণার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ও তার পরিবারকে প্রায়শই একঘরে করে রাখা হয় বা হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। উদ্দীপকেও রহিমের প্রতি মানুষের সন্দেহের চোখে তাকানোর মাধ্যমে এর প্রতিফলন দেখা যায়।
    ২. পারিবারিক বিপর্যয়: পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এই রোগে আক্রান্ত হয়ে কর্মক্ষমতা হারালে বা মৃত্যুবরণ করলে পরিবারটি চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়ে।
    ৩. স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় বৃদ্ধি: এইডস চিকিৎসার ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্রের স্বাস্থ্য খাতের ওপর বিশাল অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়।
    ৪. কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা হ্রাস: সাধারণত তরুণ ও যুবসমাজ এতে আক্রান্ত হলে দেশের মূল্যবান শ্রমশক্তি হ্রাস পায়, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে।

    সুতরাং, উপযুক্ত বিশ্লেষণের আলোকে স্পষ্ট হয় যে, এইডস কেবল একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়; এটি সমাজজীবনে বহুমুখী সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে, যার প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন