জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
পরিপাক কী?
- খ)(2)
মিশ্ৰগ্ৰন্থি বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
পরিপাক ক্রিয়ায় 'D' এর অংশের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত A, B ও C অংশের মধ্যে কাজের সমন্বয় না থাকলে কী ঘটবে- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জটিল, অদ্রবণীয় ও অশোষণযোগ্য খাদ্য উপাদান বিভিন্ন হরমোনের প্রভাবে এবং এনজাইমের সহায়তায় ভেঙে কোষের গ্রহণযোগ্য সরল, দ্রবণীয় ও তরল উপাদানে পরিণত হয়, তাকে পরিপাক (Digestion) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব গ্রন্থি একই সাথে বহিঃক্ষরা (অনাল নয়, সনাল) এবং অন্তঃক্ষরা (অনাল) গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ যাদের নালীযুক্ত অংশ থেকে বিভিন্ন পরিপাক রস বা এনজাইম ক্ষরিত হয় এবং নালীবিহীন অংশ থেকে রক্তে সরাসরি হরমোন ক্ষরিত হয়, তাদের মিশ্রগ্রন্থি বলে।
উদাহরণস্বরূপ: অগ্ন্যাশয় একটি মিশ্রগ্রন্থি। এর অ্যাসিনার কোষগুলো সনাল গ্রন্থির মতো অগ্ন্যাশয় রস (এনজাইম) ক্ষরণ করে নালীর মাধ্যমে ক্ষুদ্রান্ত্রে পাঠায় এবং আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো ইনসুলিন, গ্লুকাগন ইত্যাদি হরমোন সরাসরি রক্তে ক্ষরণ করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'D' চিহ্নিত অংশটি হলো ক্ষুদ্রান্ত্র (Small Intestine)। পরিপাক ক্রিয়ায় ক্ষুদ্রান্ত্রের ভূমিকা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. খাদ্য পরিপাকের প্রধান ও চূড়ান্ত ক্ষেত্র: ক্ষুদ্রান্ত্রে শর্করা, আমিষ ও চর্বি—সব ধরনের খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাক সম্পন্ন হয়। এখানে যকৃৎ থেকে আসা পিত্তরস, অগ্ন্যাশয় রস এবং আন্ত্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত আন্ত্রিক রস (Succus entericus) খাদ্য পরিপাকে অংশ নেয়।
২. অম্লতা প্রশমন ও ক্ষারীয় পরিবেশ সৃষ্টি: পাকস্থলী থেকে আসা অম্লীয় কাইম (Chyme) পিত্তরস ও অগ্ন্যাশয় রসের ক্ষারীয় উপাদানের মাধ্যমে প্রশমিত হয় এবং এনজাইমের কাজের উপযোগী ক্ষারীয় মাধ্যম সৃষ্টি হয়।
৩. এনজাইমের ক্রিয়া:- শর্করা পরিপাক: অ্যামাইলেজ, মল্টেজ, সুক্রেজ এবং ল্যাকটেজ জটিল শর্করাকে সরল গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও গ্যালাক্টোজে রূপান্তরিত করে।
- আমিষ পরিপাক: ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, কার্বক্সিপেপটাইডেজ, অ্যামাইনোপেপটাইডেজ ইত্যাদি এনজাইম পেপটোন ও পেপটাইডকে সরল অ্যামাইনো অ্যাসিডে পরিণত করে।
- লিপিড পরিপাক: পিত্তলবণ চর্বিকে ইমালসিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র কণায় পরিণত করে এবং লাইপেজ তাকে ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে রূপান্তর করে।
৪. শোষণ: পরিপাককৃত পুষ্টি উপাদানসমূহ ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাই (Villi) দ্বারা শোষিত হয়ে রক্ত ও লসিকায় প্রবেশ করে।
অতএব, মানবদেহে খাদ্যের সম্পূর্ণ পরিপাক ও শোষণে 'D' অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত A হলো পাকস্থলী, B হলো যকৃৎ এবং C হলো অগ্ন্যাশয়। এদের মধ্যে কাজের সমন্বয় না থাকলে মানবদেহের পরিপাক ও শারীরিক ভারসাম্য সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে। এর ফলাফল নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পাকস্থলী (A) ও যকৃৎ (B)-এর সমন্বয়হীনতা: পাকস্থলী থেকে অম্লীয় খাদ্যমণ্ড (কাইম) ডুওডেনামে প্রবেশ করলে যকৃৎ থেকে নিঃসৃত পিত্তরস একে ক্ষারীয় করে। এদের সমন্বয় না থাকলে ডুওডেনামের পরিবেশ অম্লীয়ই থেকে যাবে, ফলে আন্ত্রিক ও অগ্ন্যাশয় রসের এনজাইমগুলো কাজ করতে পারবে না এবং অ্যাসিডের কারণে অন্ত্রের প্রাচীরে ক্ষত (ডিওডেনাল আলসার) তৈরি হতে পারে।
২. অগ্ন্যাশয় (C) ও যকৃৎ (B)-এর সমন্বয়হীনতা: পিত্তরস ও অগ্ন্যাশয় রস একসাথে হেপাটোপ্যানক্রিয়াটিক নালির মাধ্যমে ক্ষুদ্রান্ত্রে উন্মুক্ত হয়। পিত্তলবণ চর্বিকে ইমালসিফাই না করলে অগ্ন্যাশয়ের লাইপেজ তা পরিপাক করতে পারে না। ফলে স্নেহজাতীয় খাদ্যের অপাচ্য অবস্থা সৃষ্টি হবে এবং শরীরে প্রয়োজনীয় ফ্যাট ও চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন শোষিত হবে না।
৩. গ্লুকোজ বিপাক ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় বিপর্যয়: অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং অতিরিক্ত গ্লুকোজ যকৃতে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা থাকে। এদের সমন্বয় ব্যাহত হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে ডায়াবেটিসের মতো মারাত্মক রোগ সৃষ্টি হবে।
৪. অপাচ্য খাদ্য ও পুষ্টিহীনতা: A, B ও C-এর নিঃসৃত রস ও হরমোনের পারস্পরিক সমন্বিত ক্রিয়ার ওপর খাদ্যের পরিপাক নির্ভর করে। এই সমন্বয় নষ্ট হলে খাদ্যের পূর্ণাঙ্গ হজম হবে না, গ্যাস্ট্রিক ও বদহজম দেখা দেবে এবং শরীর চরম পুষ্টিহীনতায় ভুগবে।
সুতরাং, উল্লিখিত A, B ও C অংশের সুসমন্বিত কার্যকারিতা মানবদেহের সুস্থতা ও পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও