কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • মাঠ ও উদ্যান ফসল উৎপাদন • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশে কম-বেশি কুলের চাষ হয়। দেশি জাতের গাছে উন্নত জাত জোড়া দিয়ে অতি সহজে ভালো জাতের কুল পাওয়া যায়। বর্তমানে অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।
- ক)(1)
স্বরূপকাঠি কীসের জাত?
- খ)(2)
আখের পরিপক্কতার লক্ষণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ফলটির দেশি জাতকে কীভাবে উন্নত জাতে পরিণত করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ফলটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের ভূমিকা রাখে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বরূপকাঠি হলো পেয়ারার একটি উন্নত জাত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আখ পরিপক্ক হলে কিছু বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন—গাছের নিচের দিকের পাতাগুলো শুকিয়ে হলুদ হয়ে যায় এবং ঝরে পড়তে শুরু করে; কান্ডের পর্বমধ্য (গিট) শক্ত হয় এবং ধাতব শব্দ হয়। এছাড়া রিফ্র্যাক্টোমিটার দিয়ে ব্রিক্স রিডিং নিলে মিষ্টির মান বা মোট দ্রবীভূত চিনির পরিমাণ ১৮-২০% পাওয়া যায়, যা আখ কাটার উপযুক্ত সময় নির্দেশ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ফলটি হলো কুল (বরই)। দেশি জাতের কুল গাছকে উন্নত জাতে রূপান্তর করার জন্য প্রধানত জোড় কলম (Grafting) বা চোখ কলম (Budding)—বিশেষ করে 'টি-বাডিং' (T-budding) বা তালি কলম (Patch budding) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
এক্ষেত্রে দেশি জাতের বীজ থেকে উৎপাদিত সুস্থ-সবল চারাকে 'রুটস্টক' (Rootstock) হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এরপর উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাতের (যেমন: বাউ কুল, আপেল কুল বা থাই কুল) গাছ থেকে সতেজ কুঁড়ি বা ডাল (সায়ন/Scion) সংগ্রহ করা হয়। দেশি রুটস্টকের বাকল নির্দিষ্ট আকারে (যেমন ইংরেজি 'T' অক্ষরের মতো) কেটে সেখানে উন্নত সায়নের চোখটি সাবধানতার সাথে স্থাপন করে পলিথিন ফিতা দিয়ে শক্তভাবে বেঁধে দেওয়া হয়। কিছুদিনের মধ্যে কুঁড়িটি ফুটতে শুরু করে এবং সায়ন ও রুটস্টকের ক্যাম্বিয়াম স্তর একীভূত হয়ে একটি নতুন উন্নত জাতের গাছে পরিণত হয়। এভাবে দেশি জাতের শক্তিশালী মূলতন্ত্রের ওপর উন্নত জাতের ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ফলটি অর্থাৎ কুল বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। নিম্নে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আয় বৃদ্ধি ও লাভজনকতা: প্রচলিত দেশি কুলের তুলনায় উন্নত জাতের কুল (যেমন: বাউ কুল, ইপসা কুল, আপেল কুল) দ্রুত বাড়ে এবং রোপণের প্রথম বছরেই ফলন দেয়। ফলে স্বল্প সময়ে চাষিরা অধিক ফলন ও উচ্চ বাজারমূল্য পেয়ে সরাসরি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষের ফলে চারা উৎপাদন, নার্সারি ব্যবস্থাপনা, বাগান পরিচর্যা, ফল সংগ্রহ, প্যাকিং এবং পরিবহনে বিপুল সংখ্যক মানুষের—বিশেষ করে গ্রামীণ বেকার যুবকদের কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
৩. পতিত ও অনাবাদী জমির সঠিক ব্যবহার: কুল একটি খরা সহনশীল গাছ হওয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলসহ দেশের অনুর্বর ও পতিত জমিতেও এর সফল চাষ সম্ভব হচ্ছে, যা জাতীয় কৃষিজ উৎপাদন ও জাতীয় আয়ে অবদান রাখছে।
৪. পুষ্টি নিরাপত্তা: কুল ভিটামিন 'সি' ও অন্যান্য খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর পুষ্টি চাহিদা মেটাতে কুল সস্তা ও সহজলভ্য উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
৫. দারিদ্র্য বিমোচন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প: কুলের আচার, চাটনি ও মোরব্বা তৈরির ক্ষুদ্র খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে ওঠার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি গতিশীল হচ্ছে।সুতরাং, কুল চাষ কেবল গ্রামীণ কৃষকদের দারিদ্র্য দূরীকরণেই সাহায্য করছে না, বরং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও