‍ইতিহাস ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

১৯৩৯ সালে জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে শুরু হয় যুদ্ধ, যা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মুসলিমপ্রধান দেশ তুরস্ক জার্মানির পক্ষে যোগ দেয়। অপরদিকে ব্রিটেন জার্মানির বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে মুসলমানরা এ যুদ্ধে ব্রিটিশদের পক্ষে অস্ত্রধারণ করতে অসম্মত হয়। ব্রিটিশরা মুসলমানদের এই বলে আশ্বস্ত করে যে, যুদ্ধে জয়ী হলে তারা তুরস্কের কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু ব্রিটিশরা মুসলমানদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে ভারতীয় মুসলিমরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে।

  1. ক)

    কত খ্রিষ্টাব্দে ভারতে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে?

    (1)
  2. খ)

    লক্ষ্ণৌ চুক্তি কী উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা ভারতে ব্রিটিশ আমলের কোনো আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত আন্দোলনের ফলাফল কী হয়েছিল বলে তুমি মনে করো? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯১৬ সালে সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং নিখিল ভারত মুসলিম লীগের মধ্যে ঐতিহাসিক লক্ষ্ণৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সমঝোতা গড়ে তোলা এবং ঔপনিবেশিক সরকারের কাছে যৌথভাবে ভারতীয়দের জন্য সাংবিধানিক সংস্কার ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি উপস্থাপন করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা ভারতে ব্রিটিশ আমলের 'খেলাফত আন্দোলন'-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধে (উদ্দীপকে ভুলবশত ১৯৩৯ লেখা হলেও মূলত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপট) তুরস্ক জার্মানির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। ভারতীয় মুসলমানরা তুরস্কের খলিফাকে তাদের ধর্মীয় নেতা মনে করতেন। তাই তারা ব্রিটিশদের প্রতিশ্রুতি সাপেক্ষে শর্ত দেন যে যুদ্ধের পর তুরস্কের অখণ্ডতা এবং খলিফার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। কিন্তু যুদ্ধে জয়লাভের পর ব্রিটিশ সরকার 'সেভরসের চুক্তি' (১৯২০)-র মাধ্যমে তুরস্ককে বিভক্ত করে এবং খলিফার ক্ষমতা কেড়ে নেয়। ফলে ভারতীয় মুসলমানরা মৌলানা মোহাম্মদ আলী ও শওকত আলীর নেতৃত্বে খেলাফত আন্দোলন শুরু করেন, যার সাথে উদ্দীপকের বর্ণনা হুবহু মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খেলাফত আন্দোলনের ফলাফল প্রত্যক্ষভাবে সফল না হলেও ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।

    প্রথমত, এই আন্দোলনের প্রত্যক্ষ লক্ষ্য অর্থাৎ তুরস্কের খিলাফত রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। কারণ কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে তুরস্কে জাতীয়তাবাদী বিপ্লব ঘটে এবং ১৯২৪ সালে খিলাফত ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক বিলোপ ঘটে। এর ফলে ভারতে আন্দোলনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়।

    দ্বিতীয়ত, মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে এই আন্দোলন কংগ্রেসের অসহযোগ আন্দোলনের সাথে যুক্ত হওয়ায় অভূতপূর্ব হিন্দু-মুসলিম ঐক্য তৈরি হয়। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বহুগুণ বেড়ে যায়।

    তৃতীয়ত, আন্দোলন প্রত্যাহারের পর এই ঐক্য বেশিদিন স্থায়ী হয়নি এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বৃদ্ধি পায়, যা পরবর্তীতে মুসলিম জাতীয়তাবাদ ও পাকিস্তান দাবির পথকে প্রশস্ত করে। অতএব, আন্দোলনটি খিলাফত রক্ষায় ব্যর্থ হলেও রাজনৈতিক চেতনা বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন