‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় উপমহাদেশে শাসনকালে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর একটি শাসনতান্ত্রিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলের এদেশের দ্বৈত শাসন ও দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা চালু হয়। পরবর্তীতে ১৯৩৫ সালে আরেকটি শাসনতান্ত্রিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে বলা হয়, প্রদেশগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত। এছাড়া এখানে সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত থাকবে। প্রকৃতপক্ষে এ ব্যবস্থায় গর্ভনর জেনারেল ও প্রাদেশিক গর্ভনরের ব্যাপক ক্ষমতায় ছিল।

  1. ক)

    ফরায়েজি আন্দোলন কী?

    (1)
  2. খ)

    নবাব আব্দুল লতিফকে বাংলার সৈয়দ আহমদ বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথমাংশে কোন আইনের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লিখিত ব্যবস্থাটির বাস্তবে কতটুকু কার্যকরী হয়েছিল? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হাজী শরীয়তউল্লাহ কর্তৃক উনিশ শতকের প্রথমার্ধে মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করে ইসলামের ফরজ বা অবশ্যপালনীয় বিধানগুলো পালনের উদ্দেশ্যে যে সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তাকে ফরায়েজি আন্দোলন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নবাব আব্দুল লতিফকে বাংলার সৈয়দ আহমদ বলা হয় কারণ স্যার সৈয়দ আহমদ খান উত্তর ভারতে মুসলিমদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ও সচেতন করতে যে ভূমিকা পালন করেছিলেন, নবাব আব্দুল লতিফ বাংলায় মুসলমানদের জন্য ঠিক একই রূপ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
    তিনি উনিশ শতকে পিছিয়ে পড়া বাঙালি মুসলমানদের ইংরেজি ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য 'মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করেন এবং আধুনিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর এই অসাধারণ সমান্তরাল ভূমিকার জন্যই তাঁকে ‘বাংলার সৈয়দ আহমদ’ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথমাংশে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের (মন্ট্যাগু-চেমসফোর্ড সংস্কার) কথা বলা হয়েছে।

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের রাজনৈতিক অসন্তোষ প্রশমিত করার লক্ষ্যে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন প্রণয়ন করে। এ আইনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল প্রাদেশিক স্তরে 'দ্বৈত শাসন' (Dyarchy) ব্যবস্থা প্রবর্তন। এর অধীনে প্রাদেশিক সরকারের বিষয়গুলোকে 'হস্তান্তরিত' ও 'সংরক্ষিত'—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। হস্তান্তরিত বিষয়গুলো নির্বাচিত দায়িত্বশীল ভারতীয় মন্ত্রীদের ওপর এবং গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বিষয়গুলো গভর্নরের নিজস্ব পরিষদের ওপর ন্যস্ত ছিল। উদ্দীপকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর দ্বৈত শাসন ও দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা চালুর যে ইঙ্গিত রয়েছে, তা সুস্পষ্টভাবে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লিখিত ব্যবস্থাটি হলো ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অধীন প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, যা বাস্তবে মোটেই কার্যকর বা অর্থবহ হয়নি।

    ১৯৩৫ সালের আইনে কাগজে-কলমে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান এবং সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের বিধান রাখা হলেও তা বাস্তবায়নে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা ছিল। প্রথমত, সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে দেশীয় রাজ্যগুলোর যোগদানের শর্ত পূরণ না হওয়ায় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা কখনোই কার্যকর হতে পারেনি।

    দ্বিতীয়ত, প্রদেশে তথাকথিত 'স্বায়ত্তশাসন' দেওয়া হলেও গভর্নর জেনারেল ও প্রাদেশিক গভর্নরদের হাতে ব্যাপক স্ববিবেচনামূলক ও বিশেষ দায়িত্বপূর্ণ ক্ষমতা ন্যস্ত ছিল। গভর্নররা যেকোনো সময় নির্বাচিত মন্ত্রীদের পরামর্শ উপেক্ষা করতে পারতেন এবং প্রাদেশিক আইনসভার পাসকৃত আইন বাতিল বা স্থগিত করতে পারতেন। এমনকি শাসনতন্ত্র অচল ঘোষণার মাধ্যমে পুরো প্রদেশের ক্ষমতা নিজের হাতে তুলে নিতে পারতেন। ফলে জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রীদের হাতে প্রকৃত ক্ষমতা ছিল না।

    অতএব, বাহ্যিকভাবে স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হলেও গভর্নরদের অসীম কর্তৃত্ব ও হস্তক্ষেপের কারণে এ ব্যবস্থাটি বাস্তবে একটি প্রহসনে পরিণত হয় এবং কার্যত অকার্যকর থেকে যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন