অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. আলতাফ একজন ইংল্যান্ড প্রবাসী বাঙালি। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ লন্ডনে বসবাস করছেন। নিজের দেশ সম্বন্ধে সবসময় খোঁজখবর নেন। একদিন তিনি পত্রিকায় দেখলেন বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরি করছে। তার রপ্তানির পরিমাণ এবং আমদানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য হচ্ছে। সরকার ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দিচ্ছে। মি. আলতাফ খুব খুশি হন।

  1. ক)

    বিশ্বায়ন কী?

    (1)
  2. খ)

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হওয়ার ২টি কারণ লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাণিজ্য ঘাটতি দূরীকরণে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে তুমি মনে কর? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সমগ্র বিশ্বের একত্রীভূত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বিশ্বায়ন বলে। অর্থাৎ, ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দ্রব্য, সেবা, পুঁজি ও প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহই হলো বিশ্বায়ন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হওয়ার দুটি প্রধান কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো:
    ১. প্রাকৃতিক সম্পদের অসম বণ্টন: পৃথিবীর সব দেশে একই ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ পাওয়া যায় না। কোনো দেশ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ, আবার কোনো দেশ কৃষিজ সম্পদে। ফলে নিজের ঘাটতি মেটাতে ও উদ্বৃত্ত সম্পদ বিনিময়ের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঘটে।
    ২. উৎপাদন ব্যয়ের পার্থক্য: প্রযুক্তিগত দক্ষতা, জলবায়ু এবং উপকরণের সহজলভ্যতার ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন দেশে একই দ্রব্য উৎপাদনের ব্যয়ে পার্থক্য দেখা দেয়। তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি এবং অধিক উৎপাদন ব্যয়ের পণ্য আমদানির লক্ষ্যে দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সংঘটিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মি. আলতাফ পত্রিকায় বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের প্রসারের খবর দেখেন, যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিশীল বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে।

    বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:
    ১. বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি: বাংলাদেশ বিশ্বের বহু দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্দীপকে বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্য হওয়ার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
    ২. রপ্তানি পণ্যের বিকাশ: ঐতিহ্যবাহী কাঁচামাল ছাড়াও তৈরি পোশাক, ওষুধ ইত্যাদি অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
    ৩. মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি: পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে নিজস্ব অর্থায়ন ছাড়াও প্রযুক্তি, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও ভারী উপকরণ আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্দীপকে আমদানি ও রপ্তানি উভয়ই বৃদ্ধির তথ্য দেওয়া হয়েছে।
    ৪. সরকারি প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা: উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে যে, সরকার ব্যবসায়ীদের নানাবিধ সুবিধা দিচ্ছে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো রপ্তানিমুখী শিল্পে শুল্কমুক্ত সুবিধা, নগদ প্রণোদনা ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (EPZ) গঠনের মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা প্রদান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণত আমদানিব্যয় যখন রপ্তানি আয়ের চেয়ে বেশি হয়, তখন বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দেয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে বাণিজ্য ঘাটতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাণিজ্য ঘাটতি দূরীকরণে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি:

    ১. রপ্তানি বহুমুখীকরণ: বাংলাদেশ এককভাবে তৈরি পোশাকের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। ঘাটতি কমাতে পাটজাত পণ্য, চামড়া, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃষিজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হবে।
    ২. অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসবহুল আমদানি নিয়ন্ত্রণ: উদ্দীপকে আমদানি বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তবে বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় রাখতে অনুৎপাদনশীল ও বিলাসবহুল পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে আমদানি সীমিত করা প্রয়োজন।
    ৩. আমদানি বিকল্প শিল্প স্থাপন: যেসব পণ্য দেশে উৎপাদন সম্ভব, সেগুলো দেশেই তৈরি করার উদ্যোগ নিতে হবে। উদ্দীপকে সরকারের ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে; এ ধরনের সুবিধা আমদানি বিকল্প শিল্পকেও দেওয়া উচিত।
    ৪. পণ্যের মান উন্নয়ন ও নতুন বাজার অনুসন্ধান: আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং প্রচলিত বাজারের (যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ) বাইরে আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় নতুন রপ্তানি বাজার সৃষ্টি করা জরুরি।
    ৫. রেমিট্যান্স প্রবাহ ও সেবামূলক রপ্তানি বৃদ্ধি: মি. আলতাফের মতো প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্সের যথাযথ প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানো ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ।

    পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে নির্দেশিত সরকারি সুযোগ-সুবিধার সদ্ব্যবহার এবং রপ্তানি বৃদ্ধি ও সুনির্দিষ্ট আমদানি নীতির বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কার্যকরভাবে বাণিজ্য ঘাটতি দূর করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন