জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    প্রোফায কী?

    (1)
  2. খ)

    রিং স্পট পেঁপে গাছের জন্য ক্ষতিকর কেন ?

    (2)
  3. গ)

    N' অণুজীবের প্রজননের প্রধান পদ্ধতি বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    'M' চক্র মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।"- ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যাকটেরিওফায ভাইরাসের ডিএনএ যখন পোষক ব্যাকটেরিয়ার ক্রোমোজোমাল ডিএনএ-এর সাথে যুক্ত অবস্থায় নিষ্ক্রিয়ভাবে অবস্থান করে, তখন তাকে প্রোফায (Prophage) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পেঁপের রিং স্পট রোগটি পেঁপে গাছের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, কারণ এটি 'Papaya ringspot virus' (PRSV) দ্বারা সংঘটিত একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ।

    এ রোগে আক্রান্ত পেঁপে গাছের পাতায় মোজাইক লক্ষণ প্রকাশ পায়, পাতার আকার অত্যন্ত ছোট ও বিকৃত হয়ে যায় এবং ফলন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। এছাড়া কচি ডাঁটা ও ফলের গায়ে স্পষ্ট গাঢ় সবুজ রঙের বৃত্তাকার বা বলয়াকৃতি দাগ (রিং স্পট) সৃষ্টি হয়। আক্রান্ত গাছের স্বাভাবিক সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয়, ফলে গাছ ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অবশেষে গাছটি মারা যেতে পারে। এতে পেঁপে চাষে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র 'N' হলো একটি ব্যাকটেরিয়া। ব্যাকটেরিয়ার প্রধান ও স্বাভাবিক প্রজনন পদ্ধতি হলো অযৌন জনন, যার মধ্যে 'দ্বি-ভাজন' (Binary Fission) প্রধান পদ্ধতি। নিম্নে দ্বি-ভাজন পদ্ধতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:

    ১. ডিএনএ প্রতিলিপন: অনুকূল পরিবেশে দ্বি-ভাজনের শুরুতে ব্যাকটেরিয়ার একমাত্র বৃত্তাকার ক্রোমোজোম বা নিউক্লিওয়েডের ডিএনএ রেপ্লিকেশনের মাধ্যমে হুবহু দুটি অপত্য ডিএনএ সৃষ্টি হয়।

    ২. কোষের বৃদ্ধি ও ডিএনএ পৃথকীকরণ: কোষের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং দুটি ডিএনএ সূত্রক কোষের দুই বিপরীত প্রান্তে সরে যায়। ডিএনএ দুটি কোষঝিল্লির সাথে যুক্ত থেকে পরস্পর থেকে পৃথক হয়।

    ৩. কোষ প্রাচীর ও প্লাজমামেমব্রেন সৃষ্টি: কোষের মধ্যবর্তী স্থানে কোষঝিল্লি এবং কোষপ্রাচীর ভেতরের দিকে খাঁজ সৃষ্টি করে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই খাঁজটিকে অনুপ্রস্থ প্রাচীর বা সেপ্টাম বলে।

    ৪. অপত্য কোষ গঠন: মধ্যবর্তী প্রাচীরটি সম্পূর্ণ হয়ে কোষটিকে সমান দুটি ভাগে বিভক্ত করে ফেলে। পরিশেষে দুটি স্বতন্ত্র অপত্য ব্যাকটেরিয়া কোষ গঠিত হয়। অনুকূল পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত দ্রুত (প্রায় ২০-৩০ মিনিটে একবার) এ প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি সম্পন্ন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'M' চক্রটি হলো মানবদেহের লোহিত রক্তকণিকায় প্লাজমোডিয়াম (ম্যালেরিয়া পরজীবী)-এর অযৌন প্রজনন চক্র বা 'এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি' (Erythrocytic Schizogony)। এই চক্রটি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর; নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. লোহিত রক্তকণিকা (RBC) ধ্বংস: চক্রটির শেষে সাইজন্ট বিদীর্ণ হয়ে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায় এবং বহুসংখ্যক মেরোজয়েট রক্তরসে মুক্ত হয়। ক্রমাগত অসংখ্য লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস হওয়ার ফলে রোগীর দেহে তীব্র রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয়।

    ২. টক্সিন ও জ্বর সৃষ্টি: লোহিত রক্তকণিকা বিদীর্ণ হওয়ার সময় হিমোজয়েন (Hemozoin) নামক বিষাক্ত বর্জ্য এবং পাইরোজেন রক্তরসে নিঃসৃত হয়। এর ফলে রোগীর দেহে কাঁপুনি দিয়ে তীব্র জ্বর আসে (সাধারণত প্রতি ৪৮ বা ৭২ ঘণ্টা পর পর)।

    ৩. রক্তনালিকা অবরোধ: চক্রের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত লোহিত রক্তকণিকাগুলো পরস্পরের সাথে আটকে গিয়ে সূক্ষ্ম রক্তনালীতে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

    ৪. প্লীহা ও যকৃতের ক্ষতি: বিপুল পরিমাণ মৃত আরবিসি অপসারিত হওয়ার কারণে প্লীহা ও যকৃৎ অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যায় (Splenomegaly ও Hepatomegaly), যা স্থায়ী অঙ্গহানির কারণ হতে পারে।

    সুতরাং, এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি সরাসরি মানবদেহে লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস করে তীব্র জ্বর, রক্তশূন্যতা এবং অন্যান্য জটিলতা সৃষ্টির মাধ্যমে মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন