যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
আসলাম বললো, আমরা সাধারণত বই, পত্রিকা, ম্যাগাজিন, শিক্ষক ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করি। কিন্তু সালমা বললো, শ্রেণিকক্ষ হলো ফলপ্রসূ জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম। কেননা শ্রেণিকক্ষে ছাত্র, শিক্ষক, টেবিল, চেয়ার, বোর্ডসহ সবকিছুর সমন্বয়ে জ্ঞান অর্জিত হয় ।
- ক)(1)
আরোহের ভিত্তি কত প্রকার?
- খ)(2)
দূরবর্তী শর্তকে কারণ বলা যায় না কেন?
- গ)(3)
শ্রেণিকক্ষে জ্ঞান অর্জনের বিষয়টি কারণের কোন ধরনকে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
কার্যকারণের আলোকে আসলামের বক্তব্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আরোহের ভিত্তি দুই প্রকার: আকারগত ভিত্তি ও বস্তুগত ভিত্তি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ্যায় কারণ হলো কার্যের নিয়ত, শর্তহীন ও অব্যবহিত পূর্ববর্তী ঘটনা। দূরবর্তী শর্ত এবং কার্যের উৎপত্তির মাঝখানে অন্যান্য মধ্যবর্তী ঘটনা বা শর্তের ব্যবধান থাকে। ফলে দূরবর্তী শর্ত সরাসরি বা অব্যবহিতভাবে কার্য ঘটাতে পারে না। নিয়ত ও অব্যবহিত পূর্ববর্তী ঘটনা না হওয়ায় দূরবর্তী শর্তকে কারণ বলা যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শ্রেণিকক্ষে জ্ঞান অর্জনের বিষয়টি কারণের 'শর্তের সমষ্টি' বা 'আবশ্যক ও পর্যাপ্ত শর্তের সামগ্রিক রূপকে' নির্দেশ করছে।
যুক্তিবিদ মিলের মতে, কারণ হলো সদর্থক ও নঞর্থক সকল শর্তের সমষ্টি। কোনো কার্য কেবল একটি বিচ্ছিন্ন শর্ত দ্বারা ঘটে না, বরং কয়েকটি অনুকূল শর্তের উপস্থিতি এবং প্রতিকূল শর্তের অনুপস্থিতির সম্মিলিত ফল হিসেবে সংঘটিত হয়। উদ্দীপকে সালমার বক্তব্য অনুযায়ী ছাত্র, শিক্ষক, টেবিল, চেয়ার, বোর্ড প্রভৃতি উপকরণের সমন্বয়ে শ্রেণিকক্ষে কার্যকর জ্ঞান অর্জিত হয়। এগুলো প্রতিটি এক একটি সদর্থক শর্ত, এবং এই সামগ্রিক শর্তগুলোর সমন্বিত রূপই জ্ঞান অর্জনরূপ কার্যের কারণ হিসেবে কাজ করে। অতএব, বিষয়টি কারণের শর্তসমূহের সামগ্রিকতাকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কার্যকারণের আলোকে আসলামের বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার 'বহুকারণবাদ' বা 'বিকল্প শর্তের' ধারণাকে নির্দেশ করে, যা বিজ্ঞানসম্মত কার্যকারণ নিয়মের সাথে আপাতবিরোধী।
সাধারণ দৃষ্টিতে মনে হয় একই কার্য বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কারণ বা মাধ্যমের দ্বারা ঘটতে পারে, যা বহুকারণবাদ (Plurality of Causes) নামে পরিচিত। আসলামের বক্তব্য অনুযায়ী—বই, পত্রিকা, ম্যাগাজিন, শিক্ষক ও সামাজিক মাধ্যম—এগুলোর যেকোনোটির মাধ্যমেই জ্ঞান অর্জিত হতে পারে। অর্থাৎ, আসলাম জ্ঞানার্জনকে একটি কার্য ধরে তার বহুবিধ বিকল্প উৎসের কথা উল্লেখ করেছে।
তবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বহুকারণবাদ সত্য নয়। কার্যের প্রকৃতিকে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিভিন্ন উৎস থেকে যে জ্ঞান আহরিত হয় তার প্রকৃতিও ভিন্ন। তদুপরি, সব উৎসের পেছনে একটি অভিন্ন মৌলিক শর্ত কার্যকর থাকে—তা হলো 'তথ্য ও বোধের প্রক্রিয়াকরণ'। আসলামের বক্তব্য সাধারণ ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিকল্প মাধ্যমের উপস্থিতি তুলে ধরেছে, যা যুক্তিবিদ্যায় বহুকারণবাদের দৃষ্টান্ত হলেও কঠোর কার্যকারণ নীতিতে প্রতিটি সুনির্দিষ্ট কার্যের একটিই সার্বিক কারণ থাকে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও