জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

উদ্ভিদের পাতায় দুই ধরনের রন্ধ্র বিদ্যমান, যার একটিতে পানি তরলাকারে এবং অপরটিতে বাষ্পাকারে নির্গত হয়।

  1. ক)

    হার্ডবাস্ট কী?

    (1)
  2. খ)

    গ্লাইকোলাইসিসকে EMP পথ বলা হয় কেন ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ১ম রন্ধ্রটির গঠন বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় রন্ধটির খোলা ও বন্ধের কৌশল PHP^H দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়- ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডের ভাস্কুলার বান্ডলের মাথায় অবস্থিত স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যু দিয়ে গঠিত টুপি বা ক্যাপের মতো শক্ত অংশকে হার্ডবাস্ট (বা বাস্ট টুপি) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক বিক্রিয়াসমূহ বিজ্ঞানী এমবডেন (Embden), মেয়ারহফ (Meyerhof) এবং পারনাস (Parnas) যৌথভাবে ১৯৩০ সালে আবিষ্কার ও বিস্তারিত বর্ণনা করেন। তাঁদের নামের প্রথম অক্ষর নিয়ে এ প্রক্রিয়াকে সংক্ষেপে EMP পথ (Embden-Meyerhof-Parnas pathway) বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ১ম রন্ধ্রটি হলো পানিপত্ররন্ধ্র বা হাইডাথোড (Hydathode)।

    হাইডাথোডের গঠন নিম্নরূপ:
    ১. বহিঃছিদ্র বা পানিপত্ররন্ধ্র: পাতার কিনারায় অবস্থিত ক্ষুদ্র ছিদ্র, যা দুটি নিষ্ক্রিয় রক্ষীকোষ দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে। এই রক্ষীকোষগুলো সাধারণ পত্ররন্ধ্রের মতো সংকুচিত বা প্রসারিত হয়ে ছিদ্র খোলা-বন্ধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না; এরা সর্বদা খোলা থাকে।
    ২. এপিথেম (Epithem): রন্ধ্রের ঠিক নিচে কতগুলো বর্ণহীন, পাতলা প্রাচীরযুক্ত এবং আন্তঃকোষীয় ফাঁকবিশিষ্ট প্যারেনকাইমা কোষের সমষ্টি থাকে, যাকে এপিথেম বলে।
    ৩. পানির গহ্বর: রক্ষীকোষের ঠিক নিচে এপিথেমের শীর্ষে একটি ছোট পানির গহ্বর থাকে।
    ৪. সংবহন কলা বা ট্রাকিড: এপিথেম কলার নিচে সংবহন নালিকার জাইলেম ট্রাকিড সমাপ্ত হয়। জাইলেম ট্রাকিড দিয়ে পানি এপিথেমে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে অতিরিক্ত পানি তরল ফোঁটা আকারে (গাটেশন প্রক্রিয়ায়) বাইরে নির্গত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় রন্ধ্রটি হলো স্টোমাটা বা সাধারণ পত্ররন্ধ্র। পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধের পেছনে pH-এর ভূমিকা সাইরি (Sayre, 1926)-এর স্টার্চ-সুগার মতবাদের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়:

    ১. দিনের বেলায় রন্ধ্র উন্মুক্ত হওয়া:
    দিনের বেলা সূর্যালোকের উপস্থিতিতে রক্ষীকোষে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে। ফলে রক্ষীকোষে CO₂-এর পরিমাণ হ্রাস পায়। এতে রক্ষীকোষের অন্তস্থ পরিবেশের অম্লত্ব কমে এবং pH বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭ বা ৭.০-এর কাছাকাছি হয়। উচ্চ pH-এ ফসফোরাইলেজ এনজাইমের কার্যকারিতায় রক্ষীকোষে অবস্থিত অদ্রবণীয় স্টার্চ ভেঙে দ্রবণীয় গ্লুকোজ-১-ফসফেট (পরবর্তীতে গ্লুকোজে) রূপান্তরিত হয়। দ্রবণীয় শর্করার ঘনত্ব বৃদ্ধির কারণে রক্ষীকোষের রসস্ফীতি চাপ এবং অন্তঃঅভিস্রবণ বৃদ্ধি পায়। পার্শ্ববর্তী কোষ থেকে পানি রক্ষীকোষে প্রবেশ করায় রক্ষীকোষ স্ফীত হয়ে ওঠে এবং এর বহিঃপ্রাচীর পাতলা থাকায় প্রসারিত হয়ে পত্ররন্ধ্র খুলে যায়।

    ২. রাতের বেলায় রন্ধ্র বন্ধ হওয়া:
    রাতের বেলায় সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ থাকে কিন্তু শ্বসন চলতে থাকে। শ্বসনে উৎপন্ন CO₂ রক্ষীকোষে জমা হওয়ার ফলে কার্বনিক অ্যাসিড তৈরি হয় এবং কোষরসের অম্লত্ব বৃদ্ধি পেয়ে pH কমে প্রায় ৫ বা তার নিচে নেমে যায়। নিম্ন pH-এ ফসফোরাইলেজ এনজাইমের প্রভাবে দ্রবণীয় গ্লুকোজ পুনরায় অদ্রবণীয় স্টার্চে রূপান্তরিত হয়। দ্রবণীয় পদার্থ কমে যাওয়ায় কোষের অভিস্রবণিক চাপ হ্রাস পায় এবং বহিঃঅভিস্রবণের মাধ্যমে রক্ষীকোষ হতে পানি পার্শ্ববর্তী কোষে চলে যায়। ফলে রক্ষীকোষ শিথিল বা ফ্ল্যাসিড হয়ে পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়।

    অতএব, দেখা যায় যে রক্ষীকোষের pH পরিবর্তনের সাথে স্টার্চ-শর্করার রূপান্তর ও অভিস্রবণিক চাপের পরিবর্তন সরাসরি সম্পর্কিত, যা পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়াকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন