বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
নিঝুম আর অহনা পরস্পরকে গভীরভাবে ভালোভাসে। তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চায়। কিন্তু নিঝুমের পরিবার সেটা মেনে নেয় না। কারণ, নিঝুম শিক্ষিত এবং ধনী পরিবারের একমাত্র সন্তান। অপরদিকে, অহনার পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। নিঝুম পরিবারের সম্মতিতে অন্যত্র বিয়ে করে এবং একসময় অহনাকে ভুলে যায়। অহনার দিন কাটে কষ্টের সমুদ্রে। কারণ, সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো মরে না।
- ক)(1)
বিবাহ ভাঙার পর হতে কল্যাণী কোন ব্রত গ্রহণ করেছে?
- খ)(2)
'আমার ভাগ্যে প্রজাপতির সঙ্গে পঞ্চশরের কোন বিরোধ নাই'- বাক্যটির তাৎপর্য কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের নিঝুমের সঙ্গে 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের কী বৈসাদৃশ্য রয়েছে লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকটি 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপম-কল্যাণীর জীবনের বিপরীত প্রতিচ্ছবি- মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিবাহ ভাঙার পর হতে কল্যাণী নারীশিক্ষার ব্রত গ্রহণ করেছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আমার ভাগ্যে প্রজাপতির সঙ্গে পঞ্চশরের কোন বিরোধ নাই'—উক্তিটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, অনুপমের ক্ষেত্রে বিয়ে এবং প্রেমের মধ্যে কোনো অমিল বা সংঘাত ছিল না।
হিন্দু পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী 'প্রজাপতি' হলেন বিয়ের দেবতা এবং 'পঞ্চশর' বা মদন হলেন প্রেমের দেবতা। অনেক সময় বিয়ের সাথে প্রেমের মিল হয় না। কিন্তু অনুপমের বেলায় দেখা যায়, কল্যাণীর রূপ-গুণের পরিচয় পেয়ে সে বিয়ের পূর্বেই তার প্রেমে পড়েছিল। অর্থাৎ প্রজাপতি যেখানে বিয়ের সম্বন্ধ ঘটিয়েছেন, পঞ্চশরও সেখানে অনুপমের হৃদয়ে প্রেমের বাণ নিক্ষেপ করেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নিঝুমের সঙ্গে 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের বৈসাদৃশ্য রয়েছে ভালোবাসার গভীরতা, একনিষ্ঠতা এবং অতীতের স্মৃতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে।
'অপরিচিতা' গল্পের অনুপম ব্যক্তিত্বহীন ও পরনির্ভরশীল হলেও সে কল্যাণীর প্রতি আজীবন অনুগত ও একনিষ্ঠ ছিল। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পরও সে অন্য কাউকে নিজের জীবনে স্থান দেয়নি। দূর থেকে কল্যাণীর সেবা ও সান্নিধ্যকেই সে জীবনের একমাত্র সাধনা হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং আজীবন অবিবাহিত থেকে কল্যাণীর স্মৃতি হৃদয়ে লালন করেছে।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের নিঝুম অহনাকে ভালোবাসলেও পরিবারের চাপে অতি সহজেই অহনাকে ত্যাগ করে অন্যত্র বিয়ে করে এবং অহনাকে পুরোপুরি ভুলে যায়। নিঝুমের মধ্যে আত্মত্যাগের বা ভালোবাসায় স্থায়ী থাকার কোনো মানসিকতা দেখা যায় না। অনুপম কল্যাণীকে সারা জীবন ভালোবেসে অনুগত থাকলেও নিঝুম ভালোবাসাকে সহজেই বিসর্জন দিয়ে নতুন জীবন বেছে নেয়। এখানেই দুজনের মধ্যে সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নিঝুম-অহনার প্রেম ও পরিণতির প্রেক্ষাপট 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপম-কল্যাণীর জীবনের বিপরীত প্রতিচ্ছবি—মন্তব্যটি যথার্থ।
'অপরিচিতা' গল্পে অনুপম ও কল্যাণীর সম্বন্ধ ভেঙেছিল আত্মমর্যাদার প্রশ্নে। যৌতুকলোভী শম্ভুনাথ সেনের আত্মসম্মানবোধের কারণে বিয়ে ভেস্তে গেলেও অনুপম কল্যাণীর রূপ ও ব্যক্তিত্বে চিরমুগ্ধ ছিল। কল্যাণী নিজের আত্মমর্যাদা রক্ষা করে নারীশিক্ষার ব্রত নিয়ে আজীবন একা থাকার সিদ্ধান্ত নেয়, আর অনুপমও অন্য কাউকে বিয়ে না করে কল্যাণীর সেবক হয়ে থাকার মানসিকতা নিয়ে সারা জীবন কল্যাণীর প্রতি একনিষ্ঠ থাকে। সেখানে সামাজিক বাধা নয়, আত্মমর্যাদার লড়াই মুখ্য ছিল এবং কোনো পক্ষই স্বার্থান্বেষী ভালোবাসার পরিচয় দেয়নি।
বিপরীতভাবে, উদ্দীপকে নিঝুম ও অহনার সম্পর্ক নষ্ট হয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণিভেদ এবং নিঝুমের স্বার্থপরতার কারণে। নিঝুম ভালোবাসার মর্যাদা না দিয়ে পরিবারের ইচ্ছায় অহনাকে ভুলে অন্যত্র বিয়ে করে সুখে সংসার করতে থাকে। নিঝুমের সুবিধাবাদী আচরণ এবং অহনার নীরব দীর্ঘশ্বাস 'অপরিচিতা'র অনুপম-কল্যাণীর জীবনের আত্মমর্যাদাপূর্ণ ও একনিষ্ঠ পথচলার সম্পূর্ণ বিপরীত।
অতএব, 'অপরিচিতা'র অনুপমের চিরন্তন নিষ্ঠা ও কল্যাণীর দৃঢ় ব্যক্তিত্বের সাথে উদ্দীপকের নিঝুমের আত্মকেন্দ্রিকতা ও সম্পর্কের সহজ পরিসমাপ্তির কোনো সাদৃশ্য নেই। তাই নিঃসংশয়ে বলা যায়, উদ্দীপকটি অনুপম-কল্যাণীর জীবনের এক বিপরীত প্রতিচ্ছবি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও