সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
রতনপুর গ্রামের অধিকাংশ মানুষই অশিক্ষিত। চিকিৎসার জন্য এখানকার মানুষ ঝাড়-ফুঁক, তাবিজ-কবজের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। সরকার তাদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করে দেয়। কিন্তু গ্রামের মানুষের বেশিরভাগই "আগের চিকিৎসা ব্যবস্থাতেই ভালো হয়" এই বিশ্বাসে অটল। হাসপাতালের ডাক্তাররা বোঝাতে চাইলেও তারা পুরোনো বিশ্বাস বদলাতে চায় না।
- ক)(1)
সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দটি কোন শব্দ থেকে এসেছে?
- খ)(2)
সংস্কৃতি সর্বত্র বিরাজমান— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
গ্রামের মানুষের বদলাতে না চাওয়া বিষয়টি কোন ধরনের সংস্কৃতিকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রতনপুর গ্রামের চিত্র যেন অগবার্নের তত্ত্বেরই বাস্তব প্রতিচ্ছবি। তুমি কি একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Culture' শব্দটি ল্যাটিন শব্দ 'Colere' থেকে এসেছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সংস্কৃতি সর্বত্র বিরাজমান' বলতে বোঝায় মানুষের সমগ্র জীবনপ্রণালি সংস্কৃতির আওতাভুক্ত এবং সমাজবদ্ধ মানুষের প্রতিটি আচরণ ও উপাদানের মধ্যেই সংস্কৃতির প্রকাশ ঘটে। মানুষ প্রকৃতিকে নিজের প্রয়োজনে যেভাবে রূপান্তর করে এবং তার চিন্তা-ভাবনা, বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস ও তৈজসপত্রের মধ্য দিয়ে জীবন ধারণ করে, তা-ই সংস্কৃতি। মানব সমাজের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যা সংস্কৃতির প্রভাবমুক্ত, তাই সংস্কৃতি সর্বত্র বিরাজমান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রামের মানুষের বদলাতে না চাওয়ার বিষয়টি সংস্কৃতির 'অভ্যন্তরীণ' বা 'অবস্তুগত সংস্কৃতি'কে (Non-material culture) নির্দেশ করে।
সমাজবিজ্ঞানী অগবার্নের মতে, মানুষের বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, মূল্যবোধ ও মনোভাব হলো অবস্তুগত সংস্কৃতি। বস্তুগত সংস্কৃতির উপাদান সহজে পরিবর্তিত হলেও মানুষের মজ্জাগত বিশ্বাস ও মনোভাব রূপান্তর করা তুলনামূলক কঠিন ও সময়সাপেক্ষ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রতনপুর গ্রামে সরকারি উদ্যোগে আধুনিক হাসপাতাল তৈরি হলেও অধিকাংশ মানুষ ঝাড়-ফুঁক ও তাবিজ-কবজের মতো পুরোনো বিশ্বাসেই অটল রয়েছে। তারা পুরোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো মনে করে তা আঁকড়ে ধরে আছে। মানুষের এই অন্ধবিশ্বাস ও মনোভাব হলো তাদের অবস্তুগত সংস্কৃতি, যা সহজেই নতুন বৈজ্ঞানিক বাস্তবতাকে গ্রহণ করতে পারছে না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকের রতনপুর গ্রামের চিত্র সমাজবিজ্ঞানী উইলিয়াম এফ অগবার্নের 'সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্ব' (Cultural Lag Theory)-এরই বাস্তব প্রতিচ্ছবি— আমি এ বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত।
অগবার্ন তাঁর 'Social Change' গ্রন্থে উল্লেখ করেন, সংস্কৃতি মূলত দুই প্রকার— বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতি। তাঁর মতে, বস্তুগত সংস্কৃতি (যেমন: বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ইত্যাদি) অতি দ্রুত পরিবর্তিত ও উন্নত হয়; কিন্তু সেই তুলনায় অবস্তুগত সংস্কৃতি (যেমন: মানুষের মনোভাব, বিশ্বাস, মূল্যবোধ ইত্যাদি) অত্যন্ত ধীরগতিতে পরিবর্তিত হয়। ফলে বস্তুগত ও অবস্তুগত সংস্কৃতির পরিবর্তনের গতির মধ্যে যে অসমতা বা দূরত্ব সৃষ্টি হয়, তাকে 'সাংস্কৃতিক ব্যবধান' বলা হয়।
উদ্দীপকের রতনপুর গ্রামে আধুনিক হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রযুক্তির উপস্থিতি হলো বস্তুগত সংস্কৃতির দ্রুত উন্নয়নের উদাহরণ। অন্যদিকে, এই অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও গ্রামবাসী আধুনিক চিকিৎসা না নিয়ে পুরোনো কুসংস্কার, ঝাড়-ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ওপরই নির্ভর করে আছে। অর্থাৎ, বস্তুগত সংস্কৃতির উন্নয়ন ঘটলেও গ্রামবাসীদের মানসিকতা ও বিশ্বাস (অবস্তুগত সংস্কৃতি) সমান গতিতে পরিবর্তিত হতে পারেনি।
সুতরাং, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও মানুষের মানসিকতার অনগ্রসরতার কারণে সৃষ্ট এই অসামঞ্জস্যতা অগবার্নের 'সাংস্কৃতিক ব্যবধান' তত্ত্বেরই এক নিখুঁত বাস্তব দৃষ্টান্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও