ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. হাসান শহরের সন্নিকটে একটি পলিথিন উৎপাদনের কারখানা স্থাপন করেছেন। তিনি অবগত আছেন যে, এই পলিথিন ব্যবহারে মাটির উবর্রতা যেমন হ্রাস পায়, তেমনি বায়ুও দূষিত হয়। এদিকে এই অবস্থা হতে পরিবেশকে রক্ষা করতে সরকার বিভিন্ন সময়ে সবাইকে নির্দেশনাসহ আইন প্রণয়ন এবং এর পাশাপাশি গণসচেতনতা সৃষ্টির পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
- ক)(1)
ব্যবসায় নৈতিকতা কী?
- খ)(2)
পলিথিন কীভাবে পরিবেশ দূষণ করে।
- গ)(3)
উদ্দীপকে মি. হাসান সমাজের কোন পক্ষের প্রতি অবহেলা করেছেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"গণসচেতনতাই পারে পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধ করতে"- উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবসায় সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনায় কোনটি ন্যায় বা অন্যায্য এবং কোনটি ভালো বা মন্দ—এ সম্পর্কিত নীতিমালা ও সামাজিক মূল্যবোধকে ব্যবসায় নৈতিকতা (Business Ethics) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পলিথিন একটি অপচনশীল রাসায়নিক যৌগ। ব্যবহারের পর যত্রতত্র ফেলে দেওয়ার ফলে এটি মাটিতে মিশে না গিয়ে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা হ্রাস করে এবং ভূগর্ভস্থ পানির সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করে। এ ছাড়া ড্রেন, নালা-নর্দমায় জমে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে এবং পলিথিন পোড়ানো হলে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে বায়ু দূষিত করে। এভাবে পলিথিন সামগ্রিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মি. হাসান বৃহত্তর সমাজ বা পরিবেশের প্রতি তাঁর সামাজিক দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন।
একটি ব্যবসায়ের সাফল্য ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার ওপর। ব্যবসায় পরিচালনায় পরিবেশদূষণ রোধ করা, জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি না করা এবং সামাজিক কল্যাণ বজায় রাখা অন্যতম প্রধান নৈতিক দায়িত্ব।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. হাসান একটি পলিথিন উৎপাদনের কারখানা স্থাপন করেছেন। তিনি অবগত আছেন যে পলিথিন ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা কমে এবং বায়ু দূষিত হয়। তবুও তিনি কেবল ব্যক্তিগত মুনাফার উদ্দেশ্যে তা উৎপাদন করে যাচ্ছেন, যা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করছে। অর্থাৎ তিনি সাধারণ মানুষ ও সামগ্রিক পরিবেশ তথা বৃহত্তর সমাজের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা অবহেলা করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"গণসচেতনতাই পারে পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধ করতে"—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।
পলিথিন পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে এর ব্যবহার সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভ্যাসের পরিবর্তন না হলে তা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। যখন সমাজের প্রতিটি মানুষ পলিথিনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন হবে এবং নিজেরা এর বিকল্প পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হবে, তখনই এর উৎপাদন ও ব্যবহার স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, পরিবেশ বাঁচাতে সরকার আইন প্রণয়ন ও নির্দেশনার পাশাপাশি গণসচেতনতা সৃষ্টির পদক্ষেপ নিয়েছে। কারণ শুধু আইন দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় যদি না ভোক্তারা পলিথিনের চাহিদা বন্ধ করে দেন। জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হলে তারা পলিথিন বর্জন করবে এবং পাট বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহারে আগ্রহী হবে। ফলে পলিথিনের চাহিদায় ভাটা পড়বে এবং ব্যবসায়ীরাও লোকসানের ভয়ে তা উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হবেন।
সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, সরকারি আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি জনগণের সার্বিক সচেতনতাই পলিথিনের উৎপাদন ও ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার মূল চালিকাশক্তি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও