জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    সবচেয়ে বড় শুক্রাণু পাওয়া যায় কোন উদ্ভিদে?

    (1)
  2. খ)

    পুষ্পসংকেত বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    চিত্র : A যে উদ্ভিদাংশ তার মূলের বিশেষ গঠনের কারণ ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    চিত্র : A এবং চিত্র: B ভিন্ন ভিন্ন উদ্ভিদ গোষ্ঠীর অন্তর্গত বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ভিদজগতের মধ্যে সবচেয়ে বড় শুক্রাণু পাওয়া যায় সাইকাস (Cycas) উদ্ভিদে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে সংকেতের সাহায্যে একটি ফুলের বিভিন্ন স্তবক, তাদের সদস্য সংখ্যা, তাদের বিন্যাস, সংযুক্তি, গর্ভাশয়ের অবস্থান প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে বিভিন্ন বর্ণ বা চিহ্নের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, তাকে পুষ্পসংকেত (Floral Formula) বলে। যেমন— ব্র্যাক্ট (Br), ক্যালিক্স (K), কোরোলা (C), অ্যান্ড্রোশিয়াম (A) ও গাইনোশিয়াম (G) ইত্যাদি সংকেতের সাহায্যে ফুলের সামগ্রিক রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র : A হলো সাইকাস (Cycas) উদ্ভিদের একটি মেগাস্পোরোফিল বা স্ত্রী-রেণুপত্র। সুতরাং উদ্ভিদাংশটি সাইকাস উদ্ভিদের। সাইকাসের মূল একটি বিশেষ গঠন তৈরি করে, যাকে কোরালয়েড মূল (Coralloid root) বা প্রবাল-মূল বলা হয়।

    সাইকাসের প্রধান মূল প্রাথমিক অবস্থায় স্বল্পস্থায়ী হয় এবং নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখান থেকে শাখাবিশিষ্ট অস্থানিক মূল সৃষ্টি হয়। মাটির উপরিভাগে অবস্থিত এসব মূল ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা আক্রান্ত হয়। পরবর্তীতে ব্লু-গ্রিন অ্যালগি বা সায়ানোব্যাকটেরিয়া (যেমন— Nostoc, Anabaena) মূলের মধ্যে প্রবেশ করে দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটায়। এদের আক্রমণে মূলগুলো স্ফীত, দ্বি-শাখান্বিত ও প্রবালের ন্যায় রূপ ধারণ করে। সামুদ্রিক প্রবালের মতো দেখায় বলে সাইকাসের এই বিশেষ ধরণের মূলকে কোরালয়েড মূল বলা হয়। এটি উদ্ভিদের নাইট্রোজেন সংবন্ধনে সহায়তা করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র : A হলো সাইকাস (Cycas)-এর মেগাস্পোরোফিল, যা নগ্নবীজী (Gymnosperm) উদ্ভিদগোষ্ঠীর অন্তর্গত। অন্যদিকে চিত্র : B হলো একটি আদর্শ ফুল, যা আবৃতবীজী (Angiosperm) উদ্ভিদগোষ্ঠীর অন্তর্গত। এরা নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যের কারণে ভিন্ন উদ্ভিদগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত:

    ১. গর্ভাশয় ও ফল সৃষ্টি: চিত্র A (নগ্নবীজী)-তে কোনো গর্ভাশয় থাকে না, কেবল উন্মুক্ত মেগাস্পোরোফিলে ডিম্বক অবস্থান করে। ফলে এতে কোনো ফল সৃষ্টি হয় না। কিন্তু চিত্র B (আবৃতবীজী)-তে সুস্পষ্ট গর্ভাশয় থাকে এবং নিষেকের পর গর্ভাশয়টি ফলে রূপান্তরিত হয়।

    ২. বীজের প্রকৃতি: চিত্র A-তে ফল গঠিত না হওয়ায় বীজ সর্বদা নগ্ন বা উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে। বিপরীতে চিত্র B-তে বীজ ফলের অভ্যন্তরে আবৃত অবস্থায় থাকে।

    ৩. ফুল ও স্তবক: চিত্র A কোনো প্রকৃত ফুল নয়, এটি কেবল রেণুপত্র। পক্ষান্তরে চিত্র B হলো একটি আদর্শ ফুল, যাতে ক্যালিক্স, কোরোলা, পুংকেশর ও গর্ভকেশর বিদ্যমান।

    ৪. দ্বিনিষেক ও এন্ডোস্পার্ম: নগ্নবীজী উদ্ভিদে সাধারণত দ্বিনিষেক ঘটে না এবং এদের এন্ডোস্পার্ম বা শস্য নিষেকের পূর্বেই গঠিত হয় (হ্যাপ্লয়েড)। অন্যদিকে আবৃতবীজী উদ্ভিদে দ্বিনিষেক ঘটে এবং এন্ডোস্পার্ম নিষেকের পরে গঠিত হয় (ট্রিপ্লয়েড)।

    ৫. জাইলেম টিস্যু: নগ্নবীজী উদ্ভিদের জাইলেমে সাধারণত ভেসেল এবং ফ্লোয়েমে সঙ্গীকোষ থাকে না। কিন্তু আবৃতবীজীর জাইলেমে প্রকৃত ভেসেল এবং ফ্লোয়েমে সঙ্গীকোষ উপস্থিত থাকে।

    অতএব, উল্লেখিত গাঠনিক ও জননগত বৈশিষ্ট্যের মৌলিক পার্থক্যের কারণে চিত্র : A এবং চিত্র : B সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি উদ্ভিদগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন