যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: মানুষের মতো মোবাইল ফোন কথা বলে, গান গায়, সংবাদ বহন করে, মানুষের জীবন আছে, অতএব, মোবাইল ফোনেরও জীবন আছে।দৃশ্যকল্প-২: নবাব দেখতে তার ভাইয়ের মতো। তার ভাই একজন বিশিষ্ট অধ্যাপক, সুতরাং নবাবও একজন বিশিষ্ট অধ্যাপক।

  1. ক)

    অ-প্রকৃত আরোহ কত প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    পূর্ণাঙ্গ আরোহ প্রকৃত আরোহ নয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ কোন ধরনের আরোেহ অনুমানের নির্দেশ করে?" ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এ প্রতিফলিত অনুমানের তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অ-প্রকৃত আরোহ তিন প্রকার। যথা: পূর্ণাঙ্গ আরোহ, যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ এবং ঘটনা সংযোজন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য হলো ‘আরোহমূলক লম্ফ’ (inductive leap)—অর্থাৎ জানা থেকে অজানায়, প্রত্যক্ষ থেকে অপ্রত্যক্ষে উত্তরণ। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহে একটি সার্বিক সিদ্ধান্তের অন্তর্গত প্রতিটি দৃষ্টান্তকে আলাদা আলাদাভাবে পরীক্ষা বা নিরীক্ষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এতে কোনো অজানা দৃষ্টান্তের দিকে উত্তরণ ঘটে না বা আরোহমূলক লম্ফ অনুপস্থিত থাকে। তাই পূর্ণাঙ্গ আরোহ প্রকৃত আরোহ নয়, বরং তা অ-প্রকৃত আরোহ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ ‘অসাধু সাদৃশ্যানুমান’ নির্দেশ করে।

    দুটি বিষয়ের মধ্যে কয়েকটি বাহ্যিক ও অমৌলিক বিষয়ের সাদৃশ্য দেখে যদি তাদের মধ্যে কোনো মৌলিক বা অপরিহার্য সম্পর্ক ছাড়াই অন্য কোনো গুণ সাদৃশ্যপূর্ণ বলে অনুমান করা হয়, তবে তাকে অসাধু সাদৃশ্যানুমান বলে।

    দৃশ্যকল্প-১ এ মানুষ ও মোবাইল ফোনের মধ্যে কথা বলা, গান গাওয়া ও সংবাদ বহন করার মতো কিছু বাহ্যিক ও আকস্মিক বিষয়ের সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, মানুষের জীবন আছে বলে মোবাইল ফোনেরও জীবন আছে। এখানে জীবন থাকা এবং গান গাওয়া বা কথা বলার মধ্যে কোনো মৌলিক ও অনিবার্য সম্পর্ক বিবেচনা করা হয়নি। অমৌলিক ও গুরুত্বহীন সাদৃশ্যের ভিত্তিতে অনুমান করায় এটি অসাধু সাদৃশ্যানুমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ উভয়টিই সাদৃশ্যানুমানের উদাহরণ হলেও এদের মধ্যে গুণগত ও প্রকৃতিগত কিছু তুলনামূলক পার্থক্য বিদ্যমান।

    দৃশ্যকল্প-১ এ মানুষ ও মোবাইল ফোনের মধ্যে কিছু বাহ্যিক ও কৃত্রিম বৈশিষ্ট্যের (যেমন: কথা বলা, গান গাওয়া) সাদৃশ্যের ভিত্তিতে জীবদেহের মৌলিক বৈশিষ্ট্য ‘জীবন’ থাকার অনুমান করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও অমৌলিক বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত ‘অসাধু সাদৃশ্যানুমান’।

    অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প-২ এ নবাব এবং তার ভাইয়ের বাহ্যিক চেহারার সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে নবাবকে বিশিষ্ট অধ্যাপক হিসেবে অনুমান করা হয়েছে। চেহারা একই রকম হওয়ার সাথে অধ্যাপক হওয়ার কোনো আবশ্যিক বা কার্যকারণ সম্পর্ক নেই। ফলে দৃশ্যকল্প-২ ও একটি ‘অসাধু সাদৃশ্যানুমান’ হিসেবে গণ্য হয়।

    তবে এদের মধ্যকার তুলনামূলক পার্থক্যগুলো হলো:
    ১. দৃশ্যকল্প-১ এ একটি সজীব বস্তুর (মানুষ) সাথে জড়বস্তুর (মোবাইল) অযৌক্তিক সাদৃশ্য টানা হয়েছে, যা প্রকৃতিগতভাবে অসম্ভব। পক্ষান্তরে, দৃশ্যকল্প-২ এ দুটি সজীব মানুষের (নবাব ও তার ভাই) মধ্যে সাদৃশ্য টানা হয়েছে, যা অন্তত বাস্তবে কিছুটা সম্ভাব্য হলেও কার্যকারণহীন।
    ২. দৃশ্যকল্প-১ এ প্রযুক্তিনির্ভর কার্যকারিতাকে জীবনের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করার মতো চরম অনুপপত্তি ঘটেছে। আর দৃশ্যকল্প-২ এ দৈহিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে মানসিক ও পেশাগত যোগ্যতার ভিত্তিহীন অনুমান করা হয়েছে।

    সুতরাং, উভয় দৃশ্যকল্পই অসাধু সাদৃশ্যানুমানের দৃষ্টান্ত হলেও প্রথমটিতে জড় ও সজীবের অযৌক্তিক তুলনা এবং দ্বিতীয়টিতে দুই ভাইয়ের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পেশাগত যোগ্যতার ভিত্তিহীন অনুমান প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন