অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশ বিগত ৩ দশক পূর্ব থেকে চামড়া, ঔষধ চা, পাট, হিমায়িত মাছ, ফুল, ফল ও তাজা সবজি রপ্তানি করছে। বাংলাদেশ সরকার রপ্তানি পন্যের তালিকায় আরো পন্য যুক্ত করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

  1. ক)

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    Tax Holiday রপ্তানি মুখী শিল্প বিকাশের সহায়ক - ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রচলিত ও অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্যের তালিকা তৈরি করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতিতে সরকারের আর কোন কোন উদ্যোগ তুমি সুপারিশ করবে ? ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুই বা ততোধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মধ্যে যে দ্রব্য ও সেবার ক্রয়-বিক্রয় বা আদান-প্রদান সংঘটিত হয়, তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ট্যাক্স হলিডে (Tax Holiday) হলো নতুন শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কর প্রদানের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার একটি বিশেষ সুবিধা। রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রাথমিক পর্যায়ে প্রচুর মূলধন বিনিয়োগ করে। এ সময় কর অবকাশ সুবিধা পেলে উদ্যোক্তারা করের বোঝা থেকে মুক্ত থেকে অর্জিত মুনাফা পুনরায় শিল্পে বিনিয়োগ করতে পারে। এতে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়, পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ে এবং নতুন রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হয়। ফলে এটি রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশে সহায়ক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব পণ্য বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বা অতীতকাল থেকে ঐতিহ্যগতভাবে রপ্তানি করে আসছে সেগুলোকে প্রচলিত রপ্তানি পণ্য এবং সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক বাজারে যেসব পণ্যের রপ্তানি শুরু হয়েছে সেগুলোকে অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য বলা হয়।

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পণ্যগুলোর মধ্যে প্রচলিত ও অপ্রচলিত পণ্যের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

    ১. প্রচলিত রপ্তানি পণ্য:

    • চামড়া (ও চামড়াজাত পণ্য)
    • চা
    • পাট (ও পাটজাত দ্রব্য)

    ২. অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য:

    • ঔষধ
    • হিমায়িত মাছ (চিংড়ি ইত্যাদি)
    • ফুল
    • ফল
    • তাজা সবজি

    অতএব, উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী উপরিউক্তভাবে পণ্যগুলোকে প্রচলিত ও অপ্রচলিত তালিকায় শ্রেণিবদ্ধ করা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকায় আরও নতুন নতুন পণ্য যুক্ত করা বা রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও নতুন পণ্য যুক্ত করার জন্য সরকারের যে সকল উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত বলে আমি মনে করি, তা নিচে সুপারিশ করা হলো:

    ১. সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান: নতুন রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদনকারী উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ও মূলধন সহায়তা প্রদান করা উচিত।

    ২. অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ: দ্রুত পণ্য পরিবহনের জন্য বন্দর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

    ৩. রপ্তানি ভর্তুকি ও প্রণোদনা বৃদ্ধি: নতুন অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানিতে নগদ আর্থিক সহায়তা বা প্রণোদনা প্রদান করলে উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হবেন।

    ৪. পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য আধুনিক ল্যাবরেটরি ও পরীক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করা এবং পণ্যের আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করা আবশ্যক।

    ৫. নতুন বাজার অনুসন্ধান ও কূটনৈতিক উদ্যোগ: কেবল ইউরোপ বা আমেরিকার সনাতন বাজারের ওপর নির্ভর না করে এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার সম্ভাবনাময় দেশে বাণিজ্য দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে নতুন বাজার তৈরিতে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করতে হবে।

    ৬. প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ: দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

    পরিশেষে বলা যায়, উপরোক্ত নীতি ও পদক্ষেপসমূহ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকায় যেমন নতুন পণ্য যুক্ত হবে, তেমনই দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন