সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

তাসলিমা একটি বস্তিতে রুম নিয়ে বসবাস করে। পোশাক তৈরির কারখানায় সে কাজ করে। কোনো রকমে তার দিন চলে যায়। তার ছোট ভাই রফিককেও তার ঘ কাছে এনে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু সে রাজি নয়, কারণ মাঠে ফসল ফলানোতেই সে বেশি আনন্দ পায়।

  1. ক)

    জনসংখ্যার ঘনত্ব কোন সমাজে বেশি?

    (1)
  2. খ)

    প্রান্তিক চাষী বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তাসলিমা যে সমাজে বসবাস করে সেই সমাজের মানুষের জীবন- জীবিকা ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    রফিকের বসবাসকৃত সমাজের পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণ বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নগর সমাজে বা শিল্প সমাজে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব কৃষকের নিজস্ব জমির পরিমাণ অত্যন্ত কম (সাধারণত ০.০৫ থেকে ০.৪৯ একর পর্যন্ত) এবং যাদের উৎপাদিত ফসল দিয়ে সারা বছরের ভরণপোষণ সম্ভব হয় না, তাদের প্রান্তিক চাষী বলা হয়।
    এ ধরনের কৃষকরা তাদের জীবিকার বড় একটি অংশের জন্য অন্যের জমিতে বর্গা চাষ বা দিনমজুর হিসেবে কৃষিশ্রম বিক্রির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। ফলে তারা গ্রামীণ অর্থনীতিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি অবস্থায় জীবনযাপন করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তাসলিমা নগর বা শিল্প সমাজে বসবাস করে। এই সমাজের মানুষের জীবন-জীবিকা মূলত শিল্প-কারখানা, আনুষ্ঠানিক চাকরি ও বিভিন্ন সেবামূলক পেশার ওপর নির্ভরশীল।
    নগর সমাজে যৌথ পরিবারের পরিবর্তে একক পরিবারের আধিক্য দেখা যায় এবং মানুষের জীবন অত্যন্ত ব্যস্ত ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। তাসলিমার মতো বিপুল সংখ্যক স্বল্প আয়ের মানুষ কাজের সন্ধানে গ্রাম থেকে শহরে এসে বস্তি বা ঘিঞ্জি এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করে। তাদের জীবিকা মূলত তৈরি পোশাক কারখানা (গার্মেন্টস), ক্ষুদ্র ব্যবসা, রিকশা চালানো, দিনমজুরি কিংবা বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমের ওপর নির্ভরশীল। এই সমাজের জীবনযাত্রা যান্ত্রিক, আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা বেশি লক্ষ করা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রফিকের বসবাসকৃত সমাজটি হলো গ্রামীণ সমাজ। নিচে এই গ্রামীণ সমাজের পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণ বিশ্লেষণ করা হলো:
    প্রথমত, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: গ্রামীণ কৃষিতে সনাতন পদ্ধতির বদলে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, সেচযন্ত্র, উন্নত জাতের বীজ ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ ঘটেছে।
    দ্বিতীয়ত, পেশাগত বৈচিত্র্য: অতীতে গ্রামীণ সমাজের অধিকাংশ মানুষ কেবল সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভর করত। বর্তমানে কৃষিকাজের পাশাপাশি মৎস্য চাষ, ডেইরি ও পোল্ট্রি ফার্ম, নার্সারি এবং কুটির শিল্প গড়ে উঠেছে।
    তৃতীয়ত, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যোগাযোগ: পাকা রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে গ্রামের উৎপাদিত পণ্য সহজেই শহরে পৌঁছে যাচ্ছে, যা কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পেতে সহায়তা করছে।
    চতুর্থত, নগরায়ণ ও অভিবাসন: কাজের খোঁজে বা শিক্ষার প্রয়োজনে গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসনের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে।
    অতএব, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, যান্ত্রিকীকরণ, বাজারের সম্প্রসারণ এবং নগরায়ণের প্রভাবের কারণে রফিকের গ্রামীণ সমাজের চিরাচরিত অর্থনীতি দ্রুত রূপান্তরিত ও পরিবর্তিত হচ্ছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন