পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি • আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা • আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাশেদ ও তাহসিন ভবিষ্যতে সরকার ও রাজনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করতে চায়। এজন্য তারা তাদের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত একটি বিষয় নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে। কারণ বিষয়টি পাঠ করলে তারা রাষ্ট্র, সংবিধান, নাগরিকদের করণীয়-বর্জনীয় এবং দেশের রাজনীতির সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।
- ক)(1)
নগররাষ্ট্র বলতে কী বোঝ?
- খ)(2)
সুশাসনের সাথে জবাবদিহিতার সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি কী? তার বিষয়বস্তু আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়ের অধ্যয়ন নাগরিক জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাচীন গ্রিসে ক্ষুদ্র আয়তন ও স্বল্প জনসংখ্যা নিয়ে গড়ে ওঠা স্বশাসিত নগরভিত্তিক রাষ্ট্রগুলোকে নগররাষ্ট্র (Polis) বলা হতো।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুশাসনের সাথে জবাবদিহিতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও অবিচ্ছেদ্য।
সুশাসন বলতে স্বচ্ছ, ন্যায়পরায়ণ ও জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে জবাবদিহিতা অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে কাজ করে। শাসন বিভাগের কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধিরা তাদের প্রতিটি কাজ ও সিদ্ধান্তের জন্য জনগণের কাছে কিংবা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য থাকলে দুর্নীতির সুযোগ কমে যায়। জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা আসে, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ হয় এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষিত থাকে, যা কার্যত সুশাসনকে প্রতিষ্ঠিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি হলো 'পৌরনীতি ও সুশাসন' (Civics and Good Governance)।
পৌরনীতি ও সুশাসনের মূল বিষয়বস্তু নিচে আলোচনা করা হলো:
১. নাগরিক ও নাগরিকতা: নাগরিকের সংজ্ঞা, অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকতার অর্জন ও বিলোপ এবং একজন সুনাগরিকের গুণাবলি এ বিষয়ের প্রধান আলোচ্য।
২. রাষ্ট্র ও সরকার: রাষ্ট্রের উৎপত্তি, উপাদান, প্রকৃতি এবং সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ (আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ) ও সরকারের রূপভেদ বিশদভাবে আলোচনা করা হয়।
৩. সংবিধান: সংবিধানের ধারণা, শ্রেণিবিভাগ, প্রণয়ন পদ্ধতি এবং সাংবিধানিক ধারা ও সংশোধন সংক্রান্ত বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত।
৪. সুশাসন ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান: সুশাসনের উপাদান, প্রতিবন্ধকতা এবং রাজনৈতিক দল, জনমত ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ভূমিকা আলোচিত হয়।
৫. জাতীয় ইতিহাস ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ: দেশের রাজনৈতিক পটভূমি, স্বাধীনতা আন্দোলন এবং সাংবিধানিক অগ্রযাত্রার ইতিহাস এর আওতাভুক্ত। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি অধ্যয়নের মাধ্যমে নাগরিক জীবন গভীরভাবে প্রভাবিত ও সমৃদ্ধ হয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা: এই বিষয়টি অধ্যয়নের ফলে একজন নাগরিক নিজের মৌলিক অধিকার ও সামাজিক-রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, কর প্রদান, ভোটদান ইত্যাদি মৌলিক কর্তব্য পালনে দায়বদ্ধ হয়।
২. সুনাগরিকের গুণাবলি অর্জন: বুদ্ধিমত্তা, আত্মসংযম এবং বিবেকবোধ—একজন সুনাগরিকের এই তিনটি গুণ অর্জনে পৌরনীতি প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা দেয়।
৩. রাজনৈতিক চেতনা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ: রাষ্ট্র পরিচালনা, নির্বাচন প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক দল ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেয়ে নাগরিকরা জাতীয় নীতি ও রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
৪. সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতির প্রতিরোধ: নাগরিকরা তাদের সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকলে প্রশাসনের জবাবদিহিতা দাবি করতে পারে, যা রাষ্ট্রে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।
৫. পরমতসহিষ্ণুতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ: সমাজে বিভিন্ন মত ও পথের সহাবস্থান কীভাবে বজায় রাখতে হয়, তা পৌরনীতি শিক্ষা দেয়, যা একটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল নাগরিক জীবনের জন্য অপরিহার্য।অতএব বলা যায়, সচেতন, সৎ, দেশপ্রেমিক এবং দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তুলে সমাজ ও রাষ্ট্রকে সুন্দরভাবে পরিচালনায় পৌরনীতি পাঠের প্রভাব অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও