বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

পিতৃহীন রাশেদার স্বামীর সংসারে মোটেই সুখ নেই। অর্থের জন্য শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে মানসিক নির্যাতন করে। গর্ভবতী হওয়া সত্ত্বেও নেশাখোর স্বামী তার গায়ে হাত তোলে। স্বামীর নির্মম অত্যাচারে প্রায়ই সে অজ্ঞান হয়ে যায়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এক সময় রাশেদার প্রতিবাদী নারীসত্তা জেগে ওঠে। নির্দয় স্বামীর কাছে নতি স্বীকার না করে আইনের আশ্রয় নিয়ে স্বামী-শাশুড়িকে জেলে পাঠায়।

  1. ক)

    বাজারের তোলা নিয়ে 'মাসি-পিসি'র সঙ্গে কার ঝগড়া হয়?

    (1)
  2. খ)

    "ফের আসুক, আদরে রাখব যদ্দিন থাকে।"-ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রাশেদার স্বামীর সাথের 'মাসি-পিসি' গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূলে সামাজিক সচেতনতার বিকল্প নেই।"- উদ্দীপক ও 'মাসি-পিসি' গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাজারের তোলা নিয়ে 'মাসি-পিসি'র সঙ্গে পারাগায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত পেয়াদার ঝগড়া হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ধৃত উক্তিটির মাধ্যমে আহ্লাদির প্রতি মাসি ও পিসির অকৃত্রিম স্নেহ, মমতা এবং তাকে সারাজীবন বুকে আগলে রাখার গভীর ইচ্ছার প্রকাশ ঘটেছে।

    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'মাসি-পিসি' গল্পে আহ্লাদি ছিল পিতৃহীন ও ভাগ্যহত এক তরুণী। স্বামী জগুর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে সে তার বিধবা মাসি ও পিসির আশ্রয়ে চলে আসে। গোকুল ও জগুর মতো সুযোগসন্ধানীদের হাত থেকে আহ্লাদিকে রক্ষা করতে মাসি-পিসি সবসময় সচেষ্ট। জগু যদি ভালো হয়ে সত্যি সত্যি আহ্লাদিকে নিতে চায়, তবে মাসি-পিসি তা সানন্দে মেনে নেবে; কিন্তু যতদিন আহ্লাদি তাদের কাছে থাকবে, ততদিন তাকে পরম মমতায় ও ভালোবাসায় আগলে রাখার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করতেই মাসি এ কথাটি বলেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের রাশেদার স্বামীর সাথে 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদির স্বামী 'জগু' চরিত্রের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    'মাসি-পিসি' গল্পে দেখা যায়, আহ্লাদির স্বামী জগু ছিল এক চরম অত্যাচারী, নিষ্ঠুর ও অর্থলোভী পুরুষ। সে নেশা করে আহ্লাদির ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাত। আহ্লাদির বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর তাদের রেখে যাওয়া সামান্য জমিজমার লোভে সে আহ্লাদিকে মেরে ফেলার মতো অত্যাচার করত এবং শেষ পর্যন্ত আহ্লাদিকে তাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে আবার নিজের অসৎ স্বার্থ হাসিলের জন্য গুণ্ডা নিয়ে আহ্লাদিকে জোর করে তুলে নিতে আসে।

    উদ্দীপকের রাশেদার স্বামীও জগুর মতোই চরিত্রহীন ও নির্দয়। সে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গর্ভবতী স্ত্রীর গায়ে হাত তোলে এবং অর্থের জন্য অমানুষিক নির্যাতন করে অজ্ঞান করে দেয়। উভয়ের মধ্যেই পারিবারিক দায়িত্ববোধ বা স্ত্রীর প্রতি মমত্ববোধের চরম অভাব রয়েছে। দাম্পত্য সম্পর্কের পবিত্রতাকে ধূলিসাৎ করে নেশাগ্রস্ত হয়ে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর ক্ষেত্রে উদ্দীপকের রাশেদার স্বামীর সাথে 'মাসি-পিসি' গল্পের জগু চরিত্রের স্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূলে সামাজিক সচেতনতার বিকল্প নেই"—মন্তব্যটি উদ্দীপক ও 'মাসি-পিসি' গল্পের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যথার্থ এবং তাৎপর্যপূর্ণ।

    'মাসি-পিসি' গল্পে দেখা যায়, পিতৃহীন আহ্লাদির ওপর তার স্বামী জগু যেমন অমানুষিক অত্যাচার করেছে, তেমনি সমাজের মাতব্বর ও পরশ্রীকাতর গোকুল আহ্লাদির অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাকে ভোগের সামগ্রী বানাতে চেয়েছে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের এই চরম সহিংসতা ও লালসার বিরুদ্ধে আহ্লাদির মাসি ও পিসি—এই দুই বিধবা নারী নিজেদের জীবন বাজি রেখে রুখে দাঁড়ায়। তারা বঁটি, কাটারি হাতে প্রস্তুত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং প্রয়োজনে সমাজপতিদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই করার সাহস দেখায়।

    অন্যদিকে, উদ্দীপকের রাশেদা তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির নিষ্ঠুর যৌতুক ও মানসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত নিজের প্রতিবাদী সত্তাকে জাগ্রত করেছে এবং আইনের আশ্রয় নিয়ে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করেছে। রাশেদার এই আইনি পদক্ষেপ নারীর ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সাহসিকতার বড় প্রমাণ।

    তবে কেবল ব্যক্তিক প্রতিরোধ বা পারিবারিক সতর্কতাই নারী নির্যাতন পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে না। আহ্লাদি কিংবা রাশেদার মতো অসংখ্য নারী প্রতিনিয়ত পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিকৃত মানসিকতা, লোভ ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে। আইন থাকা সত্ত্বেও সচেতনতার অভাবে অনেক নারীই মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করে। তাই পরিবার ও সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং দোষীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার জন্য সমষ্টিগত সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা একান্ত অপরিহার্য। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে যেমন জগুর মতো অত্যাচারীদের প্রতিরোধ করা সম্ভব, তেমনি রাশেদার মতো নির্যাতিত নারীদের পাশে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সহজ হয়। অতএব, উক্তিটি সর্বাংশে সত্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন