বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
পরিচয়ে আমি বাঙালি, আমার আছে ইতিহাস গর্বের- কখনোই ভয় করিনিকো আমি উদ্যত কোন খড়গের। শত্রুর সাথে লড়াই করেছি, স্বপ্নের সাথে বাস; অস্ত্রেও শান দিয়েছি যেমন শস্য করেছি চাষ; একই হাসি মুখে বাজিয়েছি বাঁশি গলায় পড়েছি ফাঁস আপোষ-করিনি কখনোই আমি- এই হলো ইতিহাস।
- ক)(1)
'কিংবদন্তি' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।"- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ইতিহাস প্রসঙ্গ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় ঐতিহ্যচেতনার সাদৃশ্য নির্দেশ করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকে প্রতিফলিত সংগ্রামীচেতনা যেন 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ভাবসত্যের সংহতরূপ।"- এ অভিমত মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'কিংবদন্তি' শব্দের অর্থ জনশ্রুতি বা লোকশ্রুতি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রশ্নোক্ত চরণটির মাধ্যমে বাঙালি পূর্বপুরুষদের ওপর ঔপনিবেশিক শাসক ও শোষক শ্রেণির দীর্ঘকালের নির্মম অত্যাচার ও শোষণের চিহ্নকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ আমাদের দাসত্বের ইতিহাস ও মুক্তিকামী পূর্বপুরুষদের কথা বলেছেন। যুগে যুগে আমাদের পূর্বপুরুষদের ওপর বিদেশি শাসক ও সামন্ত প্রভুরা চাবুক দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে। চাবুকের সেই রক্তক্ষরণ যেন ফোটা রক্তজবার মতো তাদের পিঠে লেপ্টে থাকত। এই চরণের মধ্য দিয়ে আমাদের পূর্বপুরুষদের আত্মত্যাগ ও নিপীড়নের দুঃসহ সত্যটি তুলে ধরা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ইতিহাস প্রসঙ্গ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ঐতিহ্যচেতনার মূল সাদৃশ্য হলো বাঙালির হাজার বছরের শ্রমজীবী জীবন এবং বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের ঐতিহ্যে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষদের গৌরবোজ্জ্বল ও সংগ্রামী ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করেছেন। সেখানে যেমন জমি কর্ষণ ও শস্য ফলানোর সৃজনশীল ইতিহাস রয়েছে, তেমনই রয়েছে শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ও আত্মবলিদানের বীরত্বগাথা।
উদ্দীপকেও বাঙালির আত্মপরিচয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে যুগপৎ শস্য উৎপাদন এবং শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেওয়ার দ্বৈত ঐতিহ্যকে। বাঙালি একদিকে যেমন বাঁশি বাজিয়ে সুরের সাধনা করেছে, তেমনই প্রয়োজনে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও কোনো অন্যায়ের সাথে আপস করেনি। অতএব, কৃষিজীবী পরিচয় এবং স্বাধিকার রক্ষার অকুতোভয় প্রতিরোধের ঐতিহ্য প্রকাশে উদ্দীপক ও কবিতার মধ্যে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকে প্রতিফলিত সংগ্রামীচেতনা যেন 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ভাবসত্যের সংহতরূপ"— মন্তব্যটি সর্বাংশে যথার্থ।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বাঙালির হাজার বছরের শোষণ, সংগ্রাম ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরেছেন। সেখানে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই জাতি বারবার রক্ত দিয়েছে, পিঠে চাবুকের ক্ষত বয়ে বেড়িয়েছে, কিন্তু কখনো লড়াইয়ের ময়দান ছাড়েনি। মুক্তির জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম ও যুদ্ধ করাই ছিল তাদের ঐতিহ্যের মূল চেতনা।
উদ্দীপকের কবিও নিজেকে গর্বিত বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানিয়েছেন যে, বাঙালি কখনো উদ্যত খড়গকে ভয় করেনি। শত্রুর সাথে লড়াই করে বাঙালি হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে উঠেছে, তবুও অন্যায়ের সাথে আপস করেনি। এটিই বাঙালির মূল ঐতিহাসিক চরিত্র।
কবিতায় যে সংগ্রামী ঐতিহ্যের সামগ্রিক আলেখ্য নির্মিত হয়েছে— যেখানে কবি পূর্বপুরুষদের রক্ত ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাঙালির মুক্তির পথ রচনা করেছেন, উদ্দীপকেও সেই একই আপসহীন ও প্রতিরোধমুখী মনোভাবকে সংক্ষিপ্ত কিন্তু বলিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকটি যেন কবিতার সেই মূল সংগ্রামী ভাবসত্যেরই একটি সংহত ও সংক্ষেপিত রূপায়ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও