জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
মানবদেহে ত্রিকোণাকার, মাংসল পিণ্ডের মত একটি অঙ্গ পাম্পের মত কাজ করে। অঙ্গটি সারাদেহে লাল বর্ণের তরল যোজক কলার পরিবহণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর কার্যক্রম একটি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রিত হয়।
- ক)(1)
ইরাইথ্রোপোয়েসিস কী?
- খ)(2)
হৃদপিণ্ড কখনো অবসন্ন হয় না কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিটির বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত কলাটি পুষ্টি প্রক্রিয়ায় কোনো ভূমিকা রাখে কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে প্রক্রিয়ায় লাল অস্থিমজ্জা থেকে লোহিত রক্তকণিকা (RBC বা ইরাইথ্রোসাইট) উৎপন্ন হয়, তাকে ইরাইথ্রোপোয়েসিস (Erythropoiesis) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হৃদপিণ্ডের প্রাচীর অনৈচ্ছিক বিশেষ প্রকৃতির হৃদপেশি (কার্ডিয়াক পেশি) দ্বারা গঠিত। হৃদপেশির কোষগুলো ইন্টারকেলেটেড ডিস্কের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে এবং এর কার্যকারিতা মায়োজেনিক বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রতিটি কার্ডিয়াক চক্রে সিস্টোল (সংকোচন) এর পর নির্দিষ্ট সময়ব্যাপী ডায়াস্টোল (প্রসারণ বা বিশ্রাম) ঘটে, যা হৃদপেশিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রদান করে। এছাড়া হৃদপেশিতে প্রচুর পরিমাণে মাইটোকন্ড্রিয়া এবং নিরবচ্ছিন্ন রক্ত সংবহন ব্যবস্থা থাকায় ল্যাকটিক অ্যাসিড জমে না। ফলে হৃদপিণ্ড কখনো ক্লান্ত বা অবসন্ন হয় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিটি হলো হৃদপিণ্ডের মায়োজেনিক নিয়ন্ত্রণ বা বিশেষায়িত জাংশনাল টিস্যুর মাধ্যমে হৃদস্পন্দন সৃষ্টি ও সঞ্চালন প্রক্রিয়া। এই ব্যবস্থাটি নিম্নলিখিত উপাদানগুলো নিয়ে গঠিত:
১. সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড (SAN): একে পেসমেকার বলা হয়। ডান অলিন্দের প্রাচীরে অবস্থিত এ অংশটি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈদ্যুতিক অ্যাকশন পটেনশিয়াল বা উদ্দীপনা উৎপন্ন হয়ে অলিন্দদ্বয়কে সংকুচিত (অ্যাট্রিয়াল সিস্টোল) করে।
২. অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার নোড (AVN): অলিন্দ ও নিলয়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এটি SAN থেকে আসা সংকেত সামান্য বিলম্বিত করে গ্রহণ করে এবং তা নিলয়ে পাঠায়।
৩. বান্ডল অব হিস (Bundle of His): AVN থেকে উৎপন্ন হয়ে ইন্টারভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাম বা নিলয় প্রাচীরের মধ্য দিয়ে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বিস্তার লাভ করে।
৪. পুরকিঞ্জে তন্তু (Purkinje fibers): বান্ডল অব হিসের শাখা থেকে উৎপন্ন সূক্ষ্ম তন্তু যা উভয় নিলয়ের প্রাচীরে ছড়িয়ে থাকে। এর মাধ্যমে উদ্দীপনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিলয়ের একযোগে শক্তিশালী সংকোচন (ভেন্ট্রিকুলার সিস্টোল) সম্পন্ন হয়।
এভাবে কোনো বাহ্যিক স্নায়বিক উদ্দীপনা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় হৃদস্পন্দন সার্বক্ষণিকভাবে চলমান থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকে উল্লিখিত লাল বর্ণের তরল যোজক কলাটি হলো 'রক্ত', যা মানবদেহের পুষ্টি প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো:
১. পরিপাককৃত সরল খাদ্যের শোষণ: ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাই-এর রক্তজালক দ্বারা পরিপাককৃত শর্করা (গ্লুকোজ), আমিষ (অ্যামাইনো অ্যাসিড) এবং পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ও খনিজ লবণ সরাসরি রক্তরসে শোষিত হয়।
২. পুষ্টি উপাদানের দেহব্যাপী পরিবহণ: রক্ত সংবহনতন্ত্রের মাধ্যমে পরিপাক নালি থেকে শোষিত সরল পুষ্টি উপাদানসমূহ দেহের প্রতিটি সজীব কোষে পৌঁছে দেয়। কোষে এসব পুষ্টি উপাদান বিপাক ক্রিয়ায় অংশ নিয়ে শক্তি উৎপাদন এবং বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
৩. যকৃতে সঞ্চয় ও প্রক্রিয়াজাতকরণ: হেপাটিক পোর্টাল সংবহনের মাধ্যমে রক্ত অন্ত্র থেকে পুষ্টি উপাদান যকৃতে নিয়ে যায়, যেখানে অতিরিক্ত গ্লুকোজ গ্লাইকোজেন রূপে সঞ্চিত হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় রক্তে মুক্ত হয়।
৪. লিপিড বা চর্বি উপাদান সরবরাহ: স্নেহ পদার্থ লসিকাতন্ত্রের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে অবশেষে রক্তে প্রবেশ করে এবং রক্তই তা দেহের অ্যাডিপোজ টিস্যু ও কোষে ছড়িয়ে দেয়।
৫. পুষ্টি বিপাকীয় উপজাতের অপসারণ: কোষের পুষ্টি বিপাকের ফলে উৎপন্ন ক্ষতিকর বর্জ্য (যেমন ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড) রক্ত বহন করে রেচন অঙ্গে (বৃক্কে) নিয়ে যায়, যা সামগ্রিক পুষ্টির সুষ্ঠু ব্যবহারে সাহায্য করে।
সুতরাং, গৃহীত খাদ্য পরিপাকের পর তা কোষের কাজে লাগানোর অপরিহার্য মাধ্যম হিসেবে রক্ত পুষ্টি প্রক্রিয়ায় অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও