পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ঔপনিবেশিক একটি রাষ্ট্রে দুটি সম্প্রদায় বাস করত। তাদের মধ্যে সবসময় দন্ত লেগেই থাকত। একটি সম্প্রদায়ের নেতা ছিলেন জনাব N। তিনি তার সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষায় একটি সুপারিশমালা পেশ করেন। এই সুপারিশমালায় একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়, যা অন্য সম্প্রদায় মনেপ্রানে মেনে নিতে পারেনি। এর ফলে বিভিন্ন জায়গায় দাঙ্গা- হাঙ্গামা শুরু হয়। শাসকগোষ্ঠী এ দুই - সম্প্রদায়ের সাথে শান্তিপূর্ণ আলোচনা করে ব্যর্থ হন। অবশেষে শাসকগোষ্ঠীর এমন একটি আইন প্রণয়ন করেন, যার মাধ্যমে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- ক)(1)
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
- খ)(2)
মুসলিম লীগ কেন গঠিত হয়েছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত সুপারিশমালার সাথে তোমার পঠিত কোন বিষয়ের মিল রয়েছে?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার সংরক্ষণ এবং ব্রিটিশ সরকারের কাছে মুসলমানদের দাবি-দাওয়া নিয়মতান্ত্রিকভাবে তুলে ধরার জন্য মুসলিম লীগ গঠিত হয়েছিল।
তৎকালীন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে মুসলিম স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছিল বলে মুসলিম নেতৃবৃন্দ মনে করেন। ফলে একটি পৃথক রাজনৈতিক মঞ্চের প্রয়োজনীয়তা থেকে নবাব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে এবং অন্যান্য মুসলিম নেতাদের সমর্থনে ঢাকায় মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত সুপারিশমালার সাথে ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব'-এর মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, নেতা জনাব N একটি সুপারিশমালা পেশ করেন যেখানে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রাখা হয় এবং অপর সম্প্রদায় তা প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধ তৈরি হয়। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনাব মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সমর্থনে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন। এ প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে একাধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম 'রাষ্ট্রসমূহ' (States) গঠনের দাবি জানানো হয়। কংগ্রেস ও হিন্দু সম্প্রদায় এই প্রস্তাবকে ভারতের বিভক্তি হিসেবে দেখে তীব্র বিরোধিতা করে। সুতরাং উদ্দীপকের সুপারিশমালাটি স্পষ্টভাবে লাহোর প্রস্তাবকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত আইনটি হলো ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হওয়া '১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন'। ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এই আইনের গুরুত্ব অপরিসীম।
লাহোর প্রস্তাবের পর হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দূরত্ব চরম রূপ নেয় এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। ব্রিটিশ সরকার বহু চেষ্টা করেও উভয় সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ রাখতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই 'ভারত স্বাধীনতা আইন, ১৯৪৭' পাস করে।
এই আইনের গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ব্রিটিশ শাসনের অবসান: এই আইনের মাধ্যমেই ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় দুই শতাব্দীর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে।
২. দুটি পৃথক সার্বভৌম রাষ্ট্রের সৃষ্টি: ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত—এই দুটি স্বাধীন ডোমিনিয়ন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
৩. ক্ষমতার হস্তান্তর: ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভারতীয় ও পাকিস্তানি গণপরিষদের হাতে পূর্ণ আইন প্রণয়ন ও শাসন ক্ষমতা হস্তান্তর করে এবং গণপরিষদ দুটিকে সংবিধান রচনার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়।
৪. দেশীয় রাজ্যগুলোর স্বাধীনতা: দেশীয় রাজ্যগুলোকে ভারত বা পাকিস্তান যেকোনো একটি রাষ্ট্রে যোগদানের অথবা স্বাধীন থাকার স্বাধীনতা প্রদান করা হয়।পরিশেষে বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ভারতীয় উপমহাদেশের মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে দেয় এবং আধুনিক দক্ষিণ এশিয়ার দুটি প্রধান রাষ্ট্রের জন্ম দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও