অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সালাম সাহেব 'X' দেশে বাস করেন। তার দেশের ২০১০ এবং ২০১৪ সালের বিভিন্ন ভোগ্যদ্রব্যের দাম এবং পরিমাণের তালিকা নিম্নরূপ:দেশটির সরকার দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার তাগিদে ব্যাংক হার, সঞ্চয়পত্রের ওপর সুদের হার, নগদ রিজার্ভের অনুপাত বৃদ্ধি করে এবং পরোক্ষ করের হার কমিয়ে দেয়।

- ক)(1)
ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি কী?
- খ)(2)
মুদ্রাস্ফীতির সময়ে করদাতা লাভবান না ক্ষতিগ্রস্ত হন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে 'X' দেশের ভোক্তার মূল্যসূচক (CPI) নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
সরকারের গৃহীত কার্যক্রমসমূহ দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা অর্জনে কীভাবে ভূমিকা রাখে? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদন ব্যয় (যেমন: কাঁচামালের মূল্য, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন ব্যয় ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সামগ্রিক যোগান হ্রাস পেয়ে দ্রব্যসামগ্রীর দামস্তর বৃদ্ধি পেলে তাকে ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Cost-push inflation) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রাস্ফীতির সময়ে সাধারণত প্রত্যক্ষ করদাতারা লাভবান হন এবং পরোক্ষ করদাতারা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বা প্রকৃত মূল্য হ্রাস পায়। প্রত্যক্ষ করের (যেমন: আয়কর) হার যদি স্থির থাকে, তবে করদাতাকে যে অর্থ কর হিসেবে প্রদান করতে হয় তার প্রকৃত মূল্য আগের চেয়ে কম হয়। ফলে প্রত্যক্ষ করদাতা এক ধরনের সুবিধা পেয়ে লাভবান হন। অন্যদিকে, পরোক্ষ করের ক্ষেত্রে দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে করের পরিমাণ বাড়ে, ফলে সাধারণ ভোক্তাদের বাড়তি ব্যয়ের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। সার্বিকভাবে নির্দিষ্ট আয়ের করদাতারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং ব্যবসায়ীরা লাভবান হন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ২০১০ সালকে ভিত্তি বছর () এবং ২০১৪ সালকে চলতি বছর () হিসেবে বিবেচনা করে ভোক্তার মূল্যসূচক (CPI) নির্ণয় করা হলো:
এখানে,
ভিত্তি বছরের দাম = , ভিত্তি বছরের পরিমাণ =
চলতি বছরের দাম =সারণি:
১. চাল: , ,২. গম: , ,
৩. চিনি: , ,
৪. বিবিধ: , ,
মোট:
টাকা
টাকাভোক্তার মূল্যসূচক (CPI) নির্ণয়ের সূত্র:
অতএব, 'X' দেশের ভোক্তার মূল্যসূচক (CPI) হলো ১২৩.৩৮।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' দেশের সরকার দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন সংকোচনমূলক আর্থিক ও রাজস্বমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ পদক্ষেপগুলো দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নিম্নোক্তভাবে ভূমিকা রাখে:
১. ব্যাংক হার বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের ওপর ধার্যকৃত সুদের হারকে ব্যাংক হার বলে। ব্যাংক হার বৃদ্ধি পেলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার বৃদ্ধি করে। ফলে ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়, বাজারে ঋণের পরিমাণ কমে এবং মুদ্রা সরবরাহ হ্রাস পেয়ে সামগ্রিক চাহিদা কমে, যা দ্রব্যমূল্য কমাতে সাহায্য করে।
২. সঞ্চয়পত্রের ওপর সুদের হার বৃদ্ধি: সরকার সঞ্চয়পত্রে সুদের হার বাড়িয়ে দিলে জনসাধারণ সঞ্চয়ে উৎসাহিত হয় এবং সরকারি সিকিউরিটিজে অর্থ বিনিয়োগ করে। এতে জনগণের হাতের তরল অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা হয় এবং ভোগ ব্যয় হ্রাস পেয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আসে।
৩. নগদ রিজার্ভের অনুপাত বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বাধ্যতামূলক জমার অনুপাত (CRR) বৃদ্ধি করলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ সৃষ্টির ক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে বাজারে অর্থের প্রবাহ হ্রাস পেয়ে পণ্যের চাহিদা ও মূল্যস্তর কমে।
৪. পরোক্ষ করের হার হ্রাস: পরোক্ষ কর (যেমন ভ্যাট, উৎপাদন শুল্ক ইত্যাদি) সরাসরি পণ্যের দামের সাথে যুক্ত থাকে। সরকার পরোক্ষ করের হার হ্রাস করলে পণ্যের উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্য সরাসরি হ্রাস পায়, যা সাধারণ ভোক্তার জন্য দ্রব্যমূল্য সহজলভ্য করে।
সুতরাং, উল্লিখিত সংকোচনমূলক আর্থিক ব্যবস্থা মুদ্রা সরবরাহ কমিয়ে পণ্যের অতিরিক্ত চাহিদা হ্রাস করে এবং কর হ্রাসের নীতি সরবরাহ ব্যয় কমিয়ে দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা অর্জনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও