যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃষ্টান্ত-১: নলকূপের হাতলে চাপ দিলেই পানি উপরে উঠে।দৃষ্টান্ত-২: বর্ষায় পলি জমে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভালো ফসল হওয়ার কারণ এবং ভালো ফসল হওয়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার কারণ। দৃষ্টান্ত-৩: বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ এর নিয়ম অনুসারে জড়বস্তু সর্বদা ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হবে।
- ক)(1)
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী?
- খ)(2)
লৌকিক ব্যাখ্যাকে সাধারণ মানুষের ব্যাখ্যা বলা হয় কেন?
- গ)(3)
দৃষ্টান্ত-১ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার কোন রূপের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃষ্টান্ত-২ ও দৃষ্টান্ত-৩ এ উল্লিখিত বিষয়সমূহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতির নিয়ম আবিষ্কারের মাধ্যমে কোনো জটিল বা দুর্বোধ্য ঘটনার অন্তর্নিহিত কার্যকারণ সম্বন্ধ নির্ণয় করে তাকে কোনো ব্যাপক নিয়মের অধীন ব্যক্ত করাই হলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লৌকিক ব্যাখ্যা কোনো নিয়ম বা কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না; বরং সাধারণ মানুষ তাদের অজ্ঞতা, কুসংস্কার বা অতিপ্রাকৃতিক শক্তির ওপর ভিত্তি করে কোনো বিষয়ের মনগড়া ব্যাখ্যা প্রদান করে থাকে। এ ধরনের ব্যাখ্যা বিজ্ঞানভিত্তিক নয় এবং সাধারণ মানুষের প্রচলিত অন্ধবিশ্বাসপ্রসূত বলেই একে সাধারণ মানুষের ব্যাখ্যা বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃষ্টান্ত-১ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'ব্যবচ্ছেদ' বা বিশ্লেষণ রূপের প্রতিফলন ঘটেছে।
কোনো জটিল কার্যকে তার উপাদান বা কার্যকর কারণসমূহে বিশ্লিষ্ট করে সহজ ও স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করাকে ব্যবচ্ছেদ বলে। দৃষ্টান্ত-১ এ বলা হয়েছে, নলকূপের হাতলে চাপ দিলেই পানি উপরে উঠে। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি সাধারণ ঘটনা মনে হলেও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বায়ুমণ্ডলীয় চাপ, পিস্টনের গতিবিধি এবং ভাল্বের কার্যকারিতার একটি জটিল সমন্বিত প্রক্রিয়ার ফল। নলকূপের কাজ কীভাবে ঘটে তা বুঝতে হলে ঘটনাটিকে কয়েকটি স্বতন্ত্র পদক্ষেপে বিশ্লিষ্ট বা ব্যবচ্ছেদ করতে হয়। সুতরাং, এটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ব্যবচ্ছেদকরণ রূপ নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃষ্টান্ত-২ এবং দৃষ্টান্ত-৩ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার দুটি ভিন্ন রূপের প্রতিফলন ঘটেছে—যথাযথভাবে 'শৃঙ্খলযোজন' এবং 'অন্তর্ভুক্তি'।
দৃষ্টান্ত-২ এ শৃঙ্খলযোজন (Chain of Causation) রূপটি প্রতিফলিত হয়েছে। দুটি দূরবর্তী ঘটনার মধ্যবর্তী কার্যকারণ শৃঙ্খল আবিষ্কার করার প্রক্রিয়াকে শৃঙ্খলযোজন বলে। উদ্দীপকে পলি জমার পর সরাসরি খাদ্য নিরাপত্তা না দেখিয়ে মধ্যবর্তী ধাপগুলো যেমন—মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও ভালো ফলন হওয়াকে ধারাবাহিকভাবে শৃঙ্খলিত করা হয়েছে। ফলে পলি জমা এবং খাদ্য নিরাপত্তার মধ্যবর্তী কার্যকারণ ধারাটি স্পষ্ট হয়েছে।
অন্যদিকে, দৃষ্টান্ত-৩ এ অন্তর্ভুক্তি (Subsumption) রূপটি নির্দেশিত হয়েছে। কোনো অপেক্ষাকৃত কম ব্যাপক নিয়ম বা ঘটনাকে একটি অধিকতর ব্যাপক নিয়মের অধীনে ব্যাখ্যা করার প্রক্রিয়া হলো অন্তর্ভুক্তি। এখানে জড়বস্তুর ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হওয়ার বিশেষ নিয়মটিকে স্যার আইজ্যাক নিউটনের অধিকতর ব্যাপক 'মাধ্যাকর্ষণ নিয়ম'-এর অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
অতএব, দৃষ্টান্ত-২ হলো শৃঙ্খলযোজন এবং দৃষ্টান্ত-৩ হলো অন্তর্ভুক্তি রূপের সফল প্রয়োগ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও