বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মির্জা জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ছিলেন ভারতের মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর মৃত্যুর পর বড় ছেলে হুমায়ুন অল্প বয়সে সিংহাসনে আরোহন করেন। দুঃখের বিষয় এই যে, সিংহাসনে আরোহণের পরই নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তথাপি সাহসিকতার সাথে তরুণ হুমায়ুন তাঁর শাসনকার্য চালিয়ে যান। হুমায়ুন তাঁর অন্যান্য ভাইসহ আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে অসহযোগিতা পাওয়া সত্ত্বেও শক্ত হাতে সবকিছু ধরে রাখতে সক্ষম হন।
- ক)(1)
রবার্ট ক্লাইভ কাকে সেরা বিশ্বাসঘাতক বলেছেন?
- খ)(2)
"কত বড় শক্তি, তবু কত, তুচ্ছ।"- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের হুমায়ুনের সিংহাসনে আরোহণ এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার সিংহাসনে আরোহণের সাদৃশ্য তুলে ধরো।
- ঘ)(4)
"আংশিক সাদৃশ্য থাকলেও হুমায়ুন ও সিরাজউদ্দৌলার পরিণতি এক নয়"- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রবার্ট ক্লাইভ উমিচাঁদকে সেরা বিশ্বাসঘাতক বলেছেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা মানুষের অন্তর্নিহিত লোভ, ক্ষুদ্রতা ও স্বার্থপরতার নিকৃষ্ট রূপকে প্রকাশ করা হয়েছে।
সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মীরজাফর, রায়দুর্লভ, জগৎশেঠ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ ছিলেন সমাজ ও রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। নবাবের দরবারে তাঁদের পদমর্যাদা, ক্ষমতা ও সম্পদের প্রাচুর্য ছিল অপরিসীম। কিন্তু এত বিশাল শক্তি ও প্রতিপত্তির মালিক হওয়া সত্ত্বেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে সামান্য ব্যক্তিগত লাভ ও মোহের বশবর্তী হয়ে তাঁরা বিদেশি শক্তির সাথে গোপন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছিলেন। তাঁদের এই বিপুল বাহ্যিক ক্ষমতার বিপরীতে চারিত্রিক হীনতা ও নৈতিক দেউলিয়াত্ব বোঝাতেই নাটকটিতে এমন মন্তব্য করা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের হুমায়ুনের সিংহাসনে আরোহণ এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার সিংহাসনে আরোহণের সাদৃশ্য তরুণ বয়সে রাষ্ট্রক্ষমতা লাভ এবং পারিবারিকভাবে নানামুখী চক্রান্তের মুখে পড়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, মাতামহ আলীবর্দী খাঁ-র মৃত্যুর পর মাত্র তেইশ বছর বয়সে সিরাজউদ্দৌলা বাংলার নবাব হিসেবে মসনদে বসেন। কিন্তু সিংহাসনে আরোহণের পর থেকেই তিনি তাঁর নিজের খালা ঘসেটি বেগম, খালাতো ভাই শওকত জং এবং দরবারের শীর্ষস্থানীয় অমাত্যদের গভীর ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হন। তরুণ নবাব তাঁর আত্মীয় ও নিকটজনদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে প্রতিনিয়ত বৈরিতা ও বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবরের মৃত্যুর পর তাঁর তরুণ পুত্র হুমায়ুন সিংহাসনে আরোহণ করেন। সিংহাসনে বসার পরপরই হুমায়ুনকেও নানামুখী ষড়যন্ত্র এবং আপন ভাই ও আত্মীয়-স্বজনদের চরম অসহযোগিতার শিকার হতে হয়। সুতরাং, তরুণ বয়সে সিংহাসনে বসা এবং নিকট আত্মীয়দের অসহযোগিতা ও পারিবারিক ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে রাজ্য পরিচালনা শুরুর প্রেক্ষাপটে সিরাজউদ্দৌলা ও হুমায়ুনের মধ্যে স্পষ্ট সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"আংশিক সাদৃশ্য থাকলেও হুমায়ুন ও সিরাজউদ্দৌলার পরিণতি এক নয়"— মন্তব্যটি ঐতিহাসিক ও নাটকীয় প্রেক্ষাপটে যথার্থ।
উদ্দীপকের হুমায়ুন এবং নাটকের সিরাজউদ্দৌলা উভয়ের ক্ষমতাপ্রাপ্তির সূচনায় পারিবারিক ষড়যন্ত্রের সাদৃশ্য থাকলেও তাঁদের শেষ পরিণতি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। উদ্দীপকে দেখা যায়, সম্রাট হুমায়ুন ভাই ও আত্মীয়দের বিরোধিতার মুখে পড়েও সাহসিকতা ও দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত সাম্রাজ্য ধরে রাখতে সমর্থ হন। তিনি প্রতিকূলতা জয় করে নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছিলেন।
পক্ষান্তরে, নবাব সিরাজউদ্দৌলার জীবনে পরিণতি ছিল অত্যন্ত ট্র্যাজিক বা বেদনাদায়ক। সিরাজউদ্দৌলাও দেশপ্রেম ও সাহসিকতা নিয়ে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর আশপাশের প্রধান সেনাপতি মীরজাফর, ঘসেটি বেগম, উমিচাঁদ ও ইংরেজ বণিকদের সম্মিলিত বিশ্বাসঘাতকতার জাল এতটাই বিস্তৃত ছিল যে তরুণ নবাব তা ছিন্ন করতে পারেননি। পলাশীর যুদ্ধে মীরজাফরের চরম বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবের পরাজয় ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়, যার মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, হুমায়ুন অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হলেও সিরাজউদ্দৌলা বিশ্বাসঘাতকদের চক্রান্তে ক্ষমতা ও জীবন হারিয়ে করুণ পরিণতির শিকার হন। তাই বলা যায়, সূচনার আংশিক মিল থাকলেও তাঁদের পরিণতির দিকটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও