সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
রহিমা ও তার স্বামী একজন ঠিকাদারের অধীনে মাটি কাটার কাজ করে থাকে। একই ধরনের কাজ করলেও রহিমার স্বামী রহিমার থেকে বেশি মজুরি পায়। কাজ শেষে বাড়িতে এসেও রহিমাকে সংসারের রান্নাসহ বাকি কাজকর্ম করতে হয়। এত পরিশ্রম করেও রহিমা কম মজুরি পাওয়ায় প্রায় সময়ই হতাশায় ভোগে।
- ক)(1)
মাদকাসক্তির একটি কারণ উল্লেখ করো।
- খ)(2)
বাল্যবিবাহ মাতৃমৃত্যু বৃদ্ধি করে- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন ধরনের বৈষম্য নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের পরিস্থিতি সমাজ উন্নয়নে প্রতিবন্ধক- ব্যাখ্যা করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাদকাসক্তির একটি অন্যতম কারণ হলো পারিবারিক অশান্তি বা সঙ্গদোষ (খারাপ বন্ধুদের প্রভাব)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাল্যবিবাহের ফলে অপরিণত বয়সে কিশোরীদের গর্ভধারণ ঘটে, যার ফলে মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।
অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় মেয়েদের শারীরিক বৃদ্ধি, প্রজনন অঙ্গ ও প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা পূর্ণতা পায় না। এই বয়সে গর্ভধারণ করলে রক্তস্বল্পতা, প্রি-এক্লাম্পসিয়া, গর্ভকালীন জটিলতা এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়, যা শেষ পর্যন্ত মাতৃমৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সমাজে বিদ্যমান 'জেন্ডার বৈষম্য' বা 'লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্য' নির্দেশ করা হয়েছে।
পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে শ্রমবাজারে নারী ও পুরুষ একই ধরনের শ্রমসাধ্য কাজ করলেও নারীকে কম দক্ষ বা দুর্বল মনে করে কম মজুরি দেওয়া হয়। উদ্দীপকে রহিমা এবং তার স্বামী উভয়েই ঠিকাদারের অধীনে মাটি কাটার সমপরিমাণ ও একই ধরনের কায়িক পরিশ্রম করলেও রহিমার স্বামী বেশি মজুরি পান এবং রহিমাকে দেওয়া হয় কম মজুরি। এটি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পরিষ্কার লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্য। তদুপরি, কর্মক্ষেত্র শেষে বাড়িতে গৃহস্থালি কাজের পুরো দায়িত্ব একা রহিমাকে বহন করতে হওয়াও জেন্ডারভিত্তিক শ্রমবিভাজনের বৈষম্য প্রকাশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতি সমাজ ও জাতীয় সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম বড় প্রতিবন্ধক।
একটি দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। কোনো সমাজের টেকসই ও সার্বিক উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সমান মর্যাদা ও পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, রহিমা দিনভর মাটি কাটার কঠিন পরিশ্রম করেও স্বামীর তুলনায় কম মজুরি পায় এবং ঘরে ফিরেও বিনা পারিশ্রমিকে একাই গৃহস্থালি কাজ করতে বাধ্য হয়। এই দ্বিমুখী শোষণ ও মজুরি বৈষম্য তার মধ্যে চরম হতাশার সৃষ্টি করে।
নারীর ন্যায্য মজুরি না দেওয়া এবং গৃহকর্মে তার অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতি না দিলে নারীদের মনোবল ও কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়, যা তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে পরনির্ভরশীল করে রাখে। অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে বৈষম্যের শিকার ও হতাশায় নিমজ্জিত রেখে কোনো সমাজের প্রকৃত ক্ষমতায়ন বা সামগ্রিক উন্নয়ন অর্জন করা অসম্ভব। তাই এ ধরনের বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি সমাজ উন্নয়নের পথে বিরাট বাধা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও