ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
দুই বন্ধু X ও Y চুক্তির ভিত্তিতে "সমতা এন্টারপ্রাইজ" নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তাদের অপর বন্ধু Z এখানে যাতায়াত করেন। তাকে অংশদার হিসেবে পরিচয় করানো হয় তিনি তখন নীরব থাকেন। প্রক্ষান্তরে, সমাজের গণমান্য ব্যক্তি W নির্দিষ্ট লাভের অংশপ্রাপ্তির বিনিময়ে ব্যবসায় তার নাম ব্যবহার করতে দেয় এবং নিজেদেরকে একজন অংশীদার হিসেবে পরিচিতি দেন।তবে তিনি কোন মূলধন বিনিয়োগ করেন না।তাকে অংশীদার ভেবে তারই পরিচিত একজন ব্যবসায়ী ২ লক্ষ টাকা ঋণ দেন। কোভিড পরবর্তী পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীটি বন্ধ হয়ে যায়। অন্যান্য অংশীদারগন জনাব W কে ঋণের নির্দিষ্ট অংশ পরিশোধ করার কথা জানালেন তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
- ক)(1)
ঐচ্ছিক অংশীদারী ব্যবসায় কি?
- খ)(2)
অনিবন্ধিত অংশীদারী ব্যবসায়ের পরিণাম ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব Z কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
জনাব W এর দায় অস্বীকার করার যৌক্তিকতা উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে অংশীদারি ব্যবসায়ের স্থায়িত্বকাল অংশীদারদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে এবং যা কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ বা নির্দিষ্ট কাজের উদ্দেশ্যে গঠিত হয় না, তাকে ঐচ্ছিক অংশীদারি ব্যবসায় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুযায়ী অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়, তবে অনিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় বেশ কিছু আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। যেমন: চুক্তিজনিত কোনো অধিকার আদায়ের জন্য অনিবন্ধিত ফার্ম অন্য অংশীদার বা কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে ১০০ টাকার বেশি দাবির জন্য আদালতে মামলা করতে পারে না। তবে তৃতীয় পক্ষ ওই অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। এছাড়াও অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ১০০ টাকার অধিক পাওনার বিপরীতে পাওনাদারের সাথে দেনা-পাওনা সমন্বয় (Set-off) করার দাবি করতে পারে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব Z হলেন একজন 'ভাবাবেশে অংশীদার' (Partner by Holding out বা অনুমিত অংশীদার)।
যদি কোনো ব্যক্তি নিজে অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদার না হয়েও নিজেকে অংশীদার বলে প্রকাশ করেন অথবা অপর কেউ তাকে অংশীদার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলে তিনি তা জেনেও নীরব থাকেন ও প্রতিবাদ না করেন, তবে তাকে ভাবাবেশে অংশীদার বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'সমতা এন্টারপ্রাইজ'-এর প্রকৃত অংশীদার হলেন X ও Y। তাদের অপর বন্ধু জনাব Z সেখানে প্রায়ই যাতায়াত করেন। একপর্যায়ে তাকে ব্যবসার অংশীদার হিসেবে অন্যদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলেও তিনি কোনো আপত্তি না করে নীরব থাকেন। অংশীদারি আইনের দৃষ্টিতে তিনি নিজেকে অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন হতে সম্মতি দিয়েছেন। তাই তার এমন আচরণের কারণে তিনি ভাবাবেশে অংশীদারের মর্যাদা পান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব W-এর ঋণের দায় অস্বীকার করার সিদ্ধান্তটি আইনগতভাবে যৌক্তিক নয়।
অংশীদারি আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি ফার্মে মূলধন বিনিয়োগ বা পরিচালনায় অংশ না নিয়েও চুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো সুবিধা বা লাভের অংশের বিনিময়ে নিজের নাম বা সুনাম ব্যবহারের অনুমতি দেন, তবে তাকে নামমাত্র অংশীদার (Nominal partner) বলা হয়। নামমাত্র অংশীদার সাধারণত ব্যবসায় দেনার জন্য দায়ী থাকেন না, কিন্তু যদি কোনো তৃতীয় পক্ষ তাকে প্রকৃত অংশীদার মনে করে তার নামের ওপর ভরসা করে ঋণ বা অর্থ প্রদান করে, তবে সেই ঋণের জন্য নামমাত্র অংশীদারকে সাধারণ অংশীদারের মতোই ব্যক্তিগতভাবে দায় বহন করতে হয়।
উদ্দীপকে জনাব W লাভের অংশের বিনিময়ে ব্যবসায় নাম ব্যবহারের অনুমতি দেন এবং নিজেকে অংশীদার হিসেবে পরিচয় দেন। তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে তারই পরিচিত এক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে ২ লক্ষ টাকা ঋণ দেন। পরবর্তীতে ব্যবসায়টি ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্ধ হয়ে গেলে জনাব W সেই ঋণের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু তৃতীয় পক্ষের প্রদত্ত ঋণে তার নামের ওপর ভিত্তি ছিল বলে আইনগতভাবে তিনি এই দায় এড়াতে পারেন না।
অতএব, জনাব W-এর পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে তৃতীয় পক্ষ ঋণ দেওয়ায় তিনি এই ঋণের দায় অস্বীকার করতে পারেন না এবং তার দায় অস্বীকার করা একেবারেই অযৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও