যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
একটি যুক্তিবাক্যের অপরিহার্য অংশ কয়টি?
- খ)(2)
অবধারণ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন চিত্রটি বিশেষ সদর্থক যুক্তিবাক্যকে প্রকাশ করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ব্যাপ্যতার নিয়মানুযায়ী চিত্র-১ এবং চিত্র-২ এ প্রতিফলিত যুক্তিবাক্য দুইটির পার্থক্য করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি যুক্তিবাক্যের অপরিহার্য অংশ ৩টি (উদ্দেশ্য, বিধেয় এবং সংযোজক)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুটি ধারণার মধ্যে কোনো একটি সম্পর্কের মানসিক স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতিকে অবধারণ (Judgment) বলে।
যেমন— মনের মধ্যে যখন 'ফুল' এবং 'সুন্দর' এই দুটি ধারণা পাশাপাশি আসে এবং তাদের মধ্যে একটি মেলবন্ধন বা ইতিবাচক সম্পর্ক গঠিত হয় যে "ফুল হয় সুন্দর", তখন সেই মানসিক প্রক্রিয়াটিকে অবধারণ বলে। অবধারণ হলো একটি মানসিক প্রক্রিয়া, যা ভাষায় প্রকাশিত হলে যুক্তিবাক্যে পরিণত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'চিত্র-২' বিশেষ সদর্থক (I) যুক্তিবাক্যকে প্রকাশ করেছে।
যুক্তিবিদ্যায় গুণের দিক থেকে যুক্তিবাক্য দুই প্রকার— সদর্থক ও নঞর্থক এবং পরিমাণের দিক থেকে দুই প্রকার— সার্বিক ও বিশেষ। গুণ ও পরিমাণের যৌথ ভিত্তিতে যুক্তিবাক্য চার প্রকার: A (সার্বিক সদর্থক), E (সার্বিক নঞর্থক), I (বিশেষ সদর্থক) এবং O (বিশেষ নঞর্থক)।
পদের ব্যাপ্যতার নিয়ম অনুযায়ী, বিশেষ সদর্থক বা 'I' যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় কোনো পদই ব্যাপ্য নয়; অর্থাৎ উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই অব্যাপ্য। কারণ, এই বাক্যে উদ্দেশ্য পদের ব্যক্তর্থের একটি অংশ সম্পর্কে বিধেয় পদটিকে স্বীকার করা হয় এবং বিধেয় পদটিও সম্পূর্ণ ব্যক্তর্থে ব্যবহৃত হয় না (যেমন— "কিছু মানুষ হয় সৎ")।
উদ্দীপকের চিত্র-২ এ দেখা যাচ্ছে যে, উদ্দেশ্য পদ 'অব্যাপ্য' এবং বিধেয় পদও 'অব্যাপ্য'। অতএব, চিত্র-২ বিশেষ সদর্থক (I) যুক্তিবাক্যকে নির্দেশ ও প্রকাশ করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-১ সার্বিক নঞর্থক (E) যুক্তিবাক্যকে এবং চিত্র-২ বিশেষ সদর্থক (I) যুক্তিবাক্যকে নির্দেশ করে। ব্যাপ্যতার নিয়মানুযায়ী এ দুটি যুক্তিবাক্যের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান:
১. পদের ব্যাপ্যতার স্বরূপগত পার্থক্য: ব্যাপ্যতার সাধারণ নিয়ম অনুসারে সার্বিক নঞর্থক বা 'E' যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই ব্যাপ্য। চিত্র-১ এ উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদকেই 'ব্যাপ্য' হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা E যুক্তিবাক্য নির্দেশ করে। পক্ষান্তরে, বিশেষ সদর্থক বা 'I' যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় কোনো পদই ব্যাপ্য নয় (উভয়ই অব্যাপ্য)। চিত্র-২ এ উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয়কে 'অব্যাপ্য' হিসেবে দেখানো হয়েছে।
২. উদ্দেশ্য পদের ব্যাপ্যতা: চিত্র-১ এর যুক্তিবাক্যে (E বাক্য) উদ্দেশ্য পদটি সমগ্র ব্যক্তর্থে গৃহীত হওয়ায় এটি ব্যাপ্য (যেমন— "কোনো মানুষ নয় অমর")। কিন্তু চিত্র-২ এর যুক্তিবাক্যে (I বাক্য) উদ্দেশ্য পদটি আংশিক ব্যক্তর্থে ব্যবহৃত হওয়ায় উদ্দেশ্য পদটি অব্যাপ্য (যেমন— "কিছু মানুষ হয় সৎ")।
৩. বিধেয় পদের ব্যাপ্যতা: নঞর্থক যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ সর্বদা ব্যাপ্য হয়, কারণ তা সমগ্র উদ্দেশ্যের ওপর অস্বীকার করা হয়। ফলে চিত্র-১ (E বাক্য)-এর বিধেয় পদ ব্যাপ্য। অন্যদিকে, সদর্থক যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ সর্বদা অব্যাপ্য হয়। তাই চিত্র-২ (I বাক্য)-এর বিধেয় পদটি অব্যাপ্য।
৪. সম্পর্কের ব্যাপকতা: চিত্র-১ নির্দেশিত যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যকার সম্পর্কের সামগ্রিক বিচ্ছেদ ঘটে, ফলে দুটি পদের পূর্ণ ব্যক্তর্থ বিবেচিত হয়ে উভয়ই ব্যাপ্য হয়। বিপরীতে চিত্র-২ এ আংশিক সংযোগ সাধিত হওয়ায় কোনো পদই তার সমগ্র ব্যক্তর্থে গৃহীত হয় না, ফলে উভয় পদই অব্যাপ্য থাকে।
অতএব, ব্যাপ্যতার নিয়মের দিক থেকে চিত্র-১ (উভয় পদ ব্যাপ্য) এবং চিত্র-২ (উভয় পদ অব্যাপ্য) সম্পূর্ণ বিপরীত বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও