অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের শিল্পনীতির ফলে ৯০ দশক থেকে ঔষধ তৈরির কারখানার প্রসার ঘটেছে তা যা আমদানি হ্রাস করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ শিল্পনীতি সরকারের বিনিয়োগের সাথে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছে।
- ক)(1)
হাইটেক শিল্প কি?
- খ)(2)
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসার সম্পদের সুষম বন্টনের সহায়তা করে - ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি কোন ধরনের শিল্প? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শিল্পটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কি ধরনের ভূমিকা রাখছে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞানভিত্তিক আধুনিক উদ্ভাবন এবং গবেষণা ও উন্নয়নের (R&D) ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি বা বিজ্ঞাননির্ভর শিল্পকে হাইটেক শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বল্প পুঁজিতে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং স্থানীয় কাঁচামাল ও স্থানীয় শ্রম ব্যবহার করে। এর ফলে দেশের গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। বৃহৎ শিল্পের মতো এ শিল্পের মুনাফা বা সম্পদ নির্দিষ্ট কিছু পুঁজিপতির হাতে পুঞ্জীভূত না হয়ে সমাজের তৃণমূল স্তরের জনগণের মাঝে আয় হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প জাতীয় আয়ের সমবণ্টন নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাসে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি হলো বাংলাদেশের 'ওষুধ শিল্প' (Pharmaceutical Industry)।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সরকারের অনুকূল শিল্পনীতির ফলে নব্বইয়ের দশক থেকে এই শিল্পের অভাবনীয় প্রসার ঘটে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে আমদানি কমিয়েছে এবং বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।
১৯৮২ সালের জাতীয় ওষুধ নীতি এবং তৎপরবর্তী শিল্পনীতিসমূহে বেসরকারি খাতের জন্য বিনিয়োগ উদারীকরণ করার ফলে দেশে আধুনিক ওষুধ কারখানা স্থাপিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৯৮% ওষুধ নিজস্ব কারখানায় উৎপাদন করে এবং বিশ্বের বহু দেশে তা রপ্তানি করে। তাই উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্য ওষুধ শিল্পকে নির্দেশ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ওষুধ শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক ভূমিকা পালন করছে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আমদানি বিকল্পায়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়: একসময় বাংলাদেশকে সিংহভাগ ওষুধের জন্য আমদানির ওপর নির্ভর করতে হতো। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে।
২. রপ্তানি আয় বৃদ্ধি: গুণগত মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের শতাধিক দেশে বাংলাদেশি ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে, যা দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: এ খাতে ফার্মাসিস্ট, প্রকৌশলী, রসায়নবিদসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তির জন্য উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান এবং শ্রমিকদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।
৪. স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান: সুলভ মূল্যে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সহজলভ্য করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামগ্রিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখছে।সুতরাং, বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালার সুবাদে বিকশিত ওষুধ শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে চলেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও