পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ব্রিটেনের সরকার প্রধান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধান উত্তরাধিকার সূত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। সে দেশের সরকার প্রধান আইন প্রণয়নে নেতৃত্ব দেন। তবে তিনি আইনসভায় জবাবদিহি করতে বাধ্য। শাসন বিভাগের প্রধান হিসেবে ব্রিটেনের রাষ্ট্র প্রধানের নামে সকল কার্য সম্পাদিত হয়।
- ক)(1)
জাতীয় সংসদের অধিবেশন কে আহ্বান করেন?
- খ)(2)
বাংলাদেশের আইনসভার গঠন লিখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্রিটেনের সরকার প্রধানের সাথে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের সাদৃশ্য দেখাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্র প্রধানের সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্র প্রধানের পদমর্যাদাগত পার্থক্য নির্ণয় কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের আইনসভার নাম 'জাতীয় সংসদ'। এটি এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ মোট ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ৩০০ জন সংসদ সদস্য একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাগুলো থেকে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন এবং ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে, যা সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে নির্বাচিত হন। সংসদের মেয়াদ প্রথম অধিবেশনের তারিখ থেকে পাঁচ বছর।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্রিটেনের সরকার প্রধান (প্রধানমন্ত্রী)-এর সাথে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের (প্রধানমন্ত্রী) গঠন, ক্ষমতা ও ভূমিকার দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
ব্রিটেন এবং বাংলাদেশ উভয় দেশেই সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত। সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকার প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী। ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী আইনসভার সদস্য হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সমর্থনে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা এবং আইনসভার কাছে তাঁর পুরো মন্ত্রিসভাসহ জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ব্রিটেনের সরকার প্রধান আইন প্রণয়নে নেতৃত্ব দেন এবং আইনসভায় জবাবদিহি করতে বাধ্য। একইভাবে, বাংলাদেশেও আইন প্রণয়নের প্রধান উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার এবং তিনি শাসন বিভাগীয় কাজের জন্য সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন। উভয় দেশেই সরকার প্রধান হলেন প্রকৃত শাসন ক্ষমতার অধিকারী। অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শাসনতান্ত্রিক ভূমিকা ও ক্ষমতার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্রিটেনের রাষ্ট্রপ্রধান এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে পদমর্যাদা, নির্বাচনের পদ্ধতি ও সাংবিধানিক ক্ষমতার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
প্রথমত, ব্রিটেনের রাষ্ট্রপ্রধান হলেন রাজা বা রানি, যিনি বংশানুক্রমিক বা উত্তরাধিকার সূত্রে তাঁর পদমর্যাদা ও ক্ষমতা লাভ করেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হলেন রাষ্ট্রপতি, যিনি কোনো উত্তরাধিকার সূত্রে নয়, বরং আইনানুযায়ী জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের প্রত্যক্ষ/পরোক্ষ ভোটে পাঁচ বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন।
দ্বিতীয়ত, ব্রিটেন একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। সেখানকার রাজা বা রানি ঐতিহ্যগতভাবে পরম শ্রদ্ধার পাত্র হলেও প্রকৃত শাসনক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। তবে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের সাংবিধানিক মর্যাদা ও ঐতিহ্য শত শত বছরের ঐতিহাসিক পরম্পরা দ্বারা নির্ধারিত। অন্যদিকে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি প্রজাতন্ত্রের সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান পান এবং তিনি রাষ্ট্রের নিয়মতান্ত্রিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে বাংলাদেশের সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করার বাধ্যবাধকতা ব্রিটেনের চেয়েও স্পষ্টভাবে সুনির্দিষ্ট (কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া)।
সার্বিকভাবে বলা যায়, ব্রিটেনের রাষ্ট্রপ্রধান বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের প্রতিনিধি, যেখানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত প্রজাতান্ত্রিক কাঠামোর সাংবিধানিক প্রতীক। ফলে উভয়ের পদমর্যাদা ও উৎসগত অবস্থানে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও