ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
বক্সারের যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়।
- খ)(2)
স্বত্ববিলোপ নীতি কী?
- গ)(3)
ছকের প্রশ্নবোধক স্থানের বিষয়টি সামরিক অসন্তোষের কারণ ছিল- ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
বিষয়াটি ভারতীয় শাসনব্যবস্থায় কী পরিবর্তন এনেছিল- পাঠ্যপুস্তকের আলোকে যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লর্ড ডালহৌসি প্রবর্তিত রাজ্য বিস্তার নীতিই হলো 'স্বত্ববিলোপ নীতি' (Doctrine of Lapse)।
এই নীতি অনুসারে, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনস্থ বা আশ্রিত কোনো ভারতীয় দেশীয় রাজ্যের শাসক যদি কোনো স্বাভাবিক পুরুষ উত্তরাধিকারী ছাড়া মৃত্যুবরণ করতেন, তবে তিনি কোনো দত্তকপুত্র গ্রহণ করতে পারতেন না। ফলে সেই রাজ্যটি সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হতো। এই নীতির মাধ্যমে সাতারা, ঝাঁসি, নাগপুর প্রভৃতি রাজ্য ব্রিটিশরা দখল করে নেয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছকের প্রশ্নবোধক স্থানে নির্দেশিত বিষয়টি হলো '১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ' (বা প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম)। এই বিদ্রোহ সংঘটনের পেছনে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে দেশীয় সিপাহিদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সামরিক অসন্তোষ অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছিল।
ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ভারতীয় সিপাহিরা নানা বৈষম্য ও শোষণের শিকার হতেন। ব্রিটিশ অফিসারদের সাথে ভারতীয় সেনাদের বেতন, পদোন্নতি ও সামরিক সুযোগ-সুবিধায় চরম বৈষম্য বজায় রাখা হতো। ভারতীয় সেনারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও উচ্চ পদে পদোন্নতি পেতেন না এবং তাদেরকে অত্যন্ত তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হতো। এ ছাড়া হিন্দু ও মুসলিম ধর্মীয় অনুভূতির তোয়াক্কা না করে তাদের সমুদ্রযাত্রা বা দূরবর্তী স্থানে যুদ্ধে যেতে বাধ্য করা হতো।
সর্বোপরি, ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে 'এনফিল্ড রাইফেল' প্রবর্তন করা হয়, যার কার্তুজের খোলসটি দাঁত দিয়ে কাটতে হতো। সৈন্যদের মধ্যে ব্যাপকভাবে এ বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ে যে, ওই কার্তুজে গরু ও শূকরের চর্বি মেশানো রয়েছে। ফলে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের সৈনিকদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে। এই সামরিক ক্ষোভের প্রত্যক্ষ বিস্ফোরণ হিসেবেই ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা ঘটে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছকের প্রশ্নবোধক স্থানে নির্দেশিত ঘটনাটি অর্থাৎ ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ বা সিপাহি বিদ্রোহ ভারতীয় শাসনব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক ও সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন এনেছিল—উক্তিটি সর্বাংশে যথার্থ।
১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের ফলে ভারত শাসনে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচ্ছত্র আধিপত্য ও শাসনের অবসান ঘটে। ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট ব্রিটিশ পার্লামেন্টে 'ভারত শাসন আইন ১৮৫৮' (Government of India Act 1858) পাস হয়। এই আইনের মাধ্যমে কোম্পানির শাসনের বিলোপ ঘটিয়ে ব্রিটিশ ভারত সরাসরি ব্রিটিশ রাজমুকুট অর্থাৎ ইংল্যান্ডের রানির অধীনে ন্যস্ত করা হয়।
এই বিদ্রোহের ফলে শাসনব্যবস্থায় প্রধান যে পরিবর্তনগুলো সূচিত হয়:
১. রাজকীয় ঘোষণা ও গভর্নর জেনারেলের পদবি পরিবর্তন: ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর রানি ভিক্টোরিয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে ভারতের গভর্নর জেনারেলের পদবি পরিবর্তন করে 'ভাইসরয়' (রাজপ্রতিনিধি) করা হয়। লর্ড ক্যানিং হন ভারতের প্রথম ভাইসরয়।
২. ভারত সচিবের পদ সৃষ্টি: ব্রিটিশ মন্ত্রিসভায় ভারত বিষয়ক যাবতীয় কাজের দায়িত্ব অর্পণের জন্য 'ভারত সচিব' (Secretary of State for India) পদ এবং তাকে সহায়তার জন্য ১৫ সদস্যের একটি কাউন্সিল গঠন করা হয়।
৩. সামরিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন: ভবিষ্যতে যাতে এমন বিদ্রোহ আর না ঘটে সেজন্য সেনাবাহিনীতে ভারতীয় সেনার অনুপাত কমিয়ে ব্রিটিশ সেনার সংখ্যা বাড়ানো হয় এবং গোলন্দাজ বাহিনী সম্পূর্ণ ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।
৪. ধর্মনিরপেক্ষতা ও দেশীয় রাজ্য নীতি: রানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণায় ভারতীয়দের ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এবং ডালহৌসির স্বত্ববিলোপ নীতি বাতিল করে দেশীয় রাজাদের দত্তকপুত্র গ্রহণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়।সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও তা কোম্পানির ঔপনিবেশিক বাণিজ্যিক শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে সরাসরি ব্রিটিশ রাজতান্ত্রিক শাসনের সূচনা করে ভারতীয় শাসনব্যবস্থায় মৌলিক রূপান্তর সাধন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও