‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

X নামক দেশটি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর লাগামহীন ঋণ প্রদান কার্যক্রমের সম্প্রসারণের ফলে সাম্প্রতিককালে দ্রব্য মূল্যের ওপর বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। ফলশ্রুতিতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোলাবাজার নীতি ও ব্যাংক হার পরিবর্তনের নীতি গ্রহণ করে ।

  1. ক)

    মুদ্রার চাহিদা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত অবস্থায় অর্থের মূল্য হ্রাস পেলে দ্রব্যমূল্যের কীরূপ পরিবর্তন হবে? ব্যাখ্যা করো ।

    (2)
  3. গ)

    X দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টির পিছনে বাণিজ্যিক ব্যাংকই দায়ী”– ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত পরিস্থিতি মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত নীতি দুটি কীভাবে কার্যকরী হবে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের জনগণ ও প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের দৈনন্দিন লেনদেন, সতর্কতামূলক ও ফাটকা উদ্দেশ্যে যে পরিমাণ নগদ অর্থ নিজেদের কাছে ধরে রাখতে চায়, তাকে মুদ্রার চাহিদা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে অর্থের মূল্যের সাথে দ্রব্যমূল্যের বিপরীত বা ঋণাত্মক সম্পর্ক বিদ্যমান। অর্থের মূল্য হ্রাস পাওয়ার অর্থ হলো মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া। ফলে একই পরিমাণ দ্রব্য বা সেবা ক্রয়ের জন্য পূর্বের চেয়ে অধিক পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হয়। অর্থাৎ, অর্থের মূল্য হ্রাস পেলে দেশের সামগ্রিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায় (যা মুদ্রাস্ফীতি নির্দেশ করে)।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে X দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টির পেছনে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর লাগামহীন ঋণ সম্প্রসারণ প্রত্যক্ষভাবে দায়ী।

    বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অন্যতম প্রধান কাজ হলো ঋণ সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থের জোগান বৃদ্ধি করা। উদ্দীপকে X দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো লাগামহীনভাবে ঋণ প্রদান করায় জনগণের হাতে অতিরিক্ত তারল্য বা অর্থের জোগান পৌঁছে যায়। এর ফলে সামগ্রিক চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। কিন্তু স্বল্পকালীন সময়ে এই বর্ধিত চাহিদার অনুপাতে সামগ্রিক উৎপাদন বা জোগান বৃদ্ধি পায়নি। ফলে অতিরিক্ত অর্থ সীমিত পরিমাণ দ্রব্যের পেছনে ধাবিত হওয়ায় দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, যা মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করে। সুতরাং, বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনিয়ন্ত্রিত ঋণ সৃষ্টিই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতি (মুদ্রাস্ফীতি) মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত 'খোলাবাজার নীতি' ও 'ব্যাংক হার বৃদ্ধি নীতি' অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নিম্নে এর কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ব্যাংক হার বৃদ্ধি নীতি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সুদের হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ প্রদান করে, তাকে ব্যাংক হার বলে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি ব্যাংক হার বৃদ্ধি করে, তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ গ্রহণের ব্যয় বাড়ে। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও গ্রাহকদের জন্য সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। সুদের হার বৃদ্ধি পেলে সাধারণ উদ্যোক্তা ও ঋণগ্রহীতারা ঋণ গ্রহণে নিরুৎসাহিত হয়, ফলে ঋণ সংকুচিত হয়ে অর্থের জোগান হ্রাস পায়।

    ২. খোলাবাজার নীতি: মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোলাবাজারে সরকারি ঋণপত্র, বন্ড ও সিকিউরিটিজ বিক্রয় করে। এতে বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং সাধারণ জনগণ বন্ড ক্রয়ে তাদের অলস অর্থ ব্যয় করে। ফলে বাজার থেকে নগদ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চলে আসে এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা সংকুচিত হয়।

    ফলশ্রুতিতে, সামগ্রিক অর্থনীতিতে অর্থের জোগান হ্রাস পায়, সামগ্রিক চাহিদা কমে এবং দ্রব্যমূল্য হ্রাস পেয়ে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। অতএব, নীতি দুটি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন