পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
আলম সাহেব একজন রাজনৈতিক নেতা। এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক এবং জনসেবামূলক কাজের সাথে তিনি জড়িত। কর্মচারী নিয়োগে তিনি সকল রাজনৈতিক সুপারিশ অগ্রাহ্য করে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীকে নিয়োগ দেন। এতে সকল স্তরের লোকজন তাকে সাধুবাদ জানায়।
- ক)(1)
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কী?
- খ)(2)
বহুদলীয় ব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
আলম সাহেবের মধ্যে নেতৃত্বের যে গুণাবলির বহিঃপ্রকাশ হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ন্যায় নেতৃত্বের অনুপস্থিতি রাষ্ট্রে কেমন প্রভাব ফেলে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো সমস্বার্থবিশিষ্ট এমন একদল ব্যক্তির সমাবেশ, যা সরকারি ক্ষমতা দখল না করে নিজেদের স্বার্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শাসনব্যবস্থায় দেশে দুইয়ের অধিক কার্যকর ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল বিদ্যমান থাকে এবং তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সরকার গঠনে অংশ নেয়, তাকে বহুদলীয় ব্যবস্থা বলে। বহুদলীয় ব্যবস্থায় ভোটারদের সামনে একাধিক দলের আদর্শ ও কর্মসূচি থেকে পছন্দ করার সুযোগ থাকে। এতে সংসদে বিভিন্ন মতাদর্শের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়, যেমন—বাংলাদেশ, ভারত ও ফ্রান্সের রাজনৈতিক ব্যবস্থা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আলম সাহেবের মধ্যে নেতৃত্বের সততা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়পরায়ণতা ও দূরদর্শিতা গুণাবলির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান গুণ হলো ব্যক্তিগত স্বার্থ ও দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে নীতি ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করা। একজন আদর্শ নেতা সবসময় স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব বর্জন করে ন্যায়বিচারের পথ অনুসরণ করেন।
উদ্দীপকের আলম সাহেব একজন রাজনৈতিক নেতা হয়েও কর্মচারী নিয়োগে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সুপারিশ বা অনৈতিক প্রভাব গ্রহণ করেননি। বরং তিনি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন। তাঁর এই কার্যক্রম স্বজনপ্রীতিমুক্ত মনোভাব, চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং ন্যায়পরায়ণতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা একজন সফল ও আদর্শ নেতার অন্যতম মৌলিক গুণাবলি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ন্যায় সৎ, নিরপেক্ষ ও নীতিবান নেতৃত্বের অনুপস্থিতি রাষ্ট্রে চরম নৈরাজ্য, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অকার্যকারিতার সৃষ্টি করে।
একটি রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন ও সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো যোগ্য ও চরিত্রবান নেতৃত্ব। নেতৃত্ব যদি দুর্নীতিগ্রস্ত ও পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তবে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে অনিয়ম ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্দীপকে আলম সাহেবের মধ্যে যে নিরপেক্ষতা ও স্বজনপ্রীতিহীন মনোভাব দেখা গেছে, রাষ্ট্রে তার অভাব দেখা দিলে কর্মচারী নিয়োগসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে মেধার অবমূল্যায়ন ঘটবে এবং অযোগ্য ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হবে। এর ফলে প্রশাসন অদক্ষ হয়ে পড়ে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হয়। সমাজে বৈষম্য, হতাশা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পায়, যা অর্থনৈতিক বিকাশ ও গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে প্রতিফলিত সততা ও নিরপেক্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি রাষ্ট্রকে সুশাসনের পথ থেকে বিচ্যুত করে এক চরম বিশৃঙ্খল ও ব্যর্থ ব্যবস্থার দিকে ধাবিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও