ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৬
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব হাফিজ ৪০ জন সদস্য নিয়ে একটি কোম্পানি গঠনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। উক্ত কোম্পানি গঠনের জন্য একটি মুখ্য দলিল তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু আরেকটি দলিলের পরিবর্তে কোম্পানি আইনের তফসিল-১ কে তারা কোম্পানির জন্য গ্রহণ করেছেন। ইতোমধ্যে তারা নিবন্ধন পেলেও কার্যক্রম আরম্ভ করতে পারছেন না।
- ক)(1)
স্মারকলিপি কী?
- খ)(2)
কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন দলিলটি পৃথকভাবে প্রয়োজন পড়েনি? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জনাব হাফিজের প্রতিষ্ঠানটি কি আদৌ বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরম্ভ করতে পারবে? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্মারকলিপি বা পরিমেলবন্ধ হলো কোম্পানির মূল সনদ বা সংবিধান, যাতে কোম্পানির নাম, নিবন্ধিত কার্যালয়ের ঠিকানা, উদ্দেশ্য, মূলধন এবং শেয়ারহোল্ডারদের দায় সংক্রান্ত মূল বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ থাকে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র বলতে নিবন্ধক কর্তৃক পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে আইনানুগভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রদত্ত আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়নপত্রকে বোঝায়। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি নিবন্ধন সনদ পাওয়ার পর ন্যূনতম চাঁদা সংগ্রহ, শেয়ার বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় আইনগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রমাণ দাখিল করলেই নিবন্ধক এ অনুমতিপত্র প্রদান করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটিতে 'পরিমেল নিয়মাবলি' বা 'আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন' দলিলটি পৃথকভাবে তৈরির প্রয়োজন পড়েনি।
পরিমেল নিয়মাবলি হলো কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা সংক্রান্ত বিধিমালার দলিল। ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী, শেয়ার দ্বারা সীমিত দায়সম্পন্ন পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি চাইলে নিজস্ব পরিমেল নিয়মাবলি প্রস্তুত না করে আইনের তফসিল-১ (Schedule-1)-এ বর্ণিত আদর্শ নিয়মাবলিকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে তাদের কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনার নিয়ম হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।
উদ্দীপকে জনাব হাফিজের কোম্পানিতে মূল বা মুখ্য দলিল হিসেবে স্মারকলিপি তৈরি করা হলেও দ্বিতীয় দলিলের পরিবর্তে কোম্পানি আইনের তফসিল-১ গ্রহণ করা হয়েছে। এই তফসিল-১ মূলত পরিমেল নিয়মাবলির একটি বিকল্প আদর্শ রূপ। সুতরাং, কোম্পানিটিতে পরিমেল নিয়মাবলি দলিলটি পৃথকভাবে তৈরি করার প্রয়োজন পড়েনি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, প্রয়োজনীয় আইনগত আনুষ্ঠানিকতা পূরণ সাপেক্ষে জনাব হাফিজের প্রতিষ্ঠানটি অবশ্যই বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরম্ভ করতে পারবে।
উদ্দীপকে ৪০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত কোম্পানিটি স্পষ্টতই একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (কারণ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে সদস্য সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫০ জন হলেও তফসিল-১ গ্রহণের সুযোগ মূলত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং এটি নিবন্ধনের পরও কার্যারম্ভের অনুমতি ছাড়া কাজ শুরু করতে পারে না)। কোম্পানি আইনানুযায়ী, একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি নিবন্ধন সনদ পেলেই ব্যবসা শুরু করতে পারে না; বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরম্ভের জন্য নিবন্ধকের কাছ থেকে 'কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র' (Certificate of Commencement of Business) সংগ্রহ করতে হয়।
বর্তমানে জনাব হাফিজের প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম আরম্ভ করতে পারছে না, কারণ তারা এখনও কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র পায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটি যদি নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ করে:
১. প্রস্পেক্টাস বা বিকল্প বিবরণী নিবন্ধকের নিকট জমা দেওয়া,
২. স্মারকলিপিতে উল্লিখিত ন্যূনতম চাঁদা সংগ্রহ করা,
৩. পরিচালকদের যোগ্যতাসূচক শেয়ার ক্রয় ও তার অর্থ নগদ পরিশোধ নিশ্চিত করা, এবং
৪. আইনানুগ ঘোষণাপত্র নিবন্ধকের নিকট দাখিল করা;তাহলে নিবন্ধক কোম্পানিটিকে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র প্রদান করবেন। আর এই অনুমতিপত্র সংগৃহীত হলেই প্রতিষ্ঠানটি বৈধভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। সুতরাং, সাময়িক বাধা থাকলেও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিতভাবেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরম্ভ করতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও